1. [email protected] : admin2017 :
  2. [email protected] : Sunam Kantha : Sunam Kantha
  3. [email protected] : wp-needuser : wp-needuser
সোমবার, ২২ জুলাই ২০২৪, ০১:৫৩ পূর্বাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01711-368602

ফিলিস্তিন, অস্ত্রবাণিজ্য এবং মিথ্যা জলবায়ু অঙ্গীকার : পাভেল পার্থ

  • আপডেট সময় বুধবার, ৩ এপ্রিল, ২০২৪

মহামারীর করুণ দাগ কিংবা ডলারের দরাদরি দাবিয়ে রেখেই গণহত্যা চলছে ফিলিস্তিনে। হয়তো শতবর্ষ জুড়ে। কিংবা হয়তো দুনিয়া বিস্মৃত হয়েছে সময়কাল। মনে ভাসে শৈশবে নরসিংদীতে, খেলাঘরের পদযাত্রায়, ফিলিস্তিনে যুদ্ধ বন্ধ করার স্লোগান দিয়েছি, শরীরের সবটা জোর কাঁপিয়ে। ‘যুদ্ধ নয়, শান্তি চাই।’ জানি, মেঘনা ডিঙ্গিয়ে মরাসাগরে পৌঁছানোর মতো জোর ছিল না সেই কাঁপনে। লোগাং কিংবা গোবিন্দগঞ্জে রক্ত ঝরলে ফিলিস্তিন কাঁদে কিনা জানি না। কিন্তু ফিলিস্তিনের জন্য শৈশব থেকেই ভিজে আছে আমাদের বুক। সহ¯্র মানুষ মরছে ফিলিস্তিন, ইউক্রেন কী ইসরায়েলে। এই শঙ্কা, সংশয় আর নৃশংসতার শেষ কোথায়? কে জানে? এই হিংসার খাদ কী অনন্ত গভীর? মারণাস্ত্রে বেসামরিক জীবন কেন রক্তপিছল হবে বারবার? কে তার দায় নেবে? কিংবা দায়িত্ব? হয়তো কেউ না। অন্যায় এক উথাল-পাথাল বারুদের ¯্রােত বন্দি করে ফেলছে চারধার। মনটা খুব বিষণœ ও অপরাধী হয়ে থাকে। ‘হোমো স্যাপিয়েন্স’ হিসেবে খুব গ্লানি জাগে মনে। জানি না নিয়ানডার্থাল, ডেনিসোভান, ফ্লোরিয়েনসিস কিংবা ইরেকটাস দুনিয়ায় অন্যায় যুদ্ধ আর খুনখারাবি জারি করেছিল কিনা? অস্ত্র আর সামরিক পণ্য বাণিজ্যকে বৈধতা দিয়েছিল কিনা? মানুষ কোথায় যেতে চায়? কী করতে চায়? অস্ত্র, বিষ আর প্লাস্টিক দিয়ে দুনিয়াকে বিষাক্ত করে মানুষ বারবার নিজের বিরুদ্ধেই দাঁড়াচ্ছে। সাম্প্রতিক হামলার পর থেকে বহু চেষ্টা করেও ফিলিস্তিনি বন্ধুদের খোঁজ পাইনি। জানি না তারা কেমন আছে, কীভাবে আছে? ২০১৮ সালে ‘জেন্ডার পরিসংখ্যান’ বিষয়ক একটি কোর্সের জন্য আমরা মনোনীত হয়েছিলাম। প্রায় বছরখানেক একসঙ্গে কোর্সটি করেছি। এর ভেতর দুবার আমাদের সাক্ষাৎ হয়। একবার সুইডেন, আরেকবার উগান্ডায়। কত স্মৃতি হারিয়ে যায় রক্তরেখায়। যুদ্ধ সর্বপ্রাণের বিকাশকে চুরমার করে দেয়। যুদ্ধ একই সঙ্গে এই গ্রহের জলবায়ু-পঞ্জিকাকে তছনছ করে। অস্ত্র এবং সামরিক উপকরণ উৎপাদন, বাণিজ্য ও ব্যবহারে বিপুল কার্বন নিঃসরণ এবং রাসায়নিক দূষণও ঘটে। এই যেমন আমরা জানি না ফিলিস্তিনে কত জীবন ঝরে গেছে। আমরা কেবল নিহত মানুষের সংখ্যা হিসাব করি। কিন্তু যুদ্ধ মানুষসহ উদ্ভিদ-প্রাণী ও অণুজীব সবার জীবনকে অন্যায়ভাবে খুন করে।
যুদ্ধ সংঘাতকে না থামিয়ে সম্প্রতি সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইতে অনুষ্ঠিত হলো জাতিসংঘের আটাশতম জলবায়ু সম্মেলন। ৩০ নভেম্বর থেকে ১৩ ডিসেম্বর ২০২৩-এর ভেতর অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে ২০০টি দেশের ৮৫ হাজার প্রতিনিধি ১৩ দিনে তহবিল, অর্থায়ন, অভিযোজন, প্রতিশ্রুত অঙ্গীকার বিষয়ে তর্ক, বাহাস ও আলাপ জারি রাখেন। বহুজাতিক তেল কো¤পানি, কয়লা কো¤পানি, মাংস কো¤পানি, বীজ কো¤পানি কিংবা রাসায়নিক বিষ কো¤পানির লবিস্টরা দুবাই জলবায়ু সম্মেলনের নিয়ন্ত্রণে ছিলেন। জানি না বহুজাতিক কো¤পানি ও ব্যবসায়ীদের কতজন অস্ত্র কো¤পানির লবিস্ট? আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রপক্ষের আলাপে ফিলিস্তিন যুদ্ধ প্রসঙ্গ গুরুত্ব দিয়ে আলোচিত না হলেও সম্মেলনে অংশ নেওয়া বহু দেশের নাগরিক নানাভাবে ফিলিস্তিনে যুদ্ধ বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। যুদ্ধ ও সহিংসতা বন্ধ না করে মানবাধিকার বিপর্যস্ত করে কোনোভাবেই জলবায়ু ন্যায়বিচার সম্ভব নয়। যুদ্ধ ও অস্ত্র বাণিজ্য জারি রেখে পৃথিবীর তাপমাত্রার পারদও কোনোভাবেই ১.৫ ডিগ্রির ভেতর রাখা সম্ভব নয়। কিন্তু পৃথিবীর তাপমাত্রা, জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার ও কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং জলবায়ু অর্থায়ন নিয়ে বিশ্বনেতৃত্ব বহুবার অঙ্গীকার করেছেন। আর দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে তারা তাদের সেসব অঙ্গীকার ভঙ্গ করছেন। দুবাই জলবায়ু সম্মেলনে অঙ্গীকার ভঙ্গকারী সেসব বিশ্বনেতাদের অনেকেই আবারও জলবায়ু সুরক্ষায় ‘মিথ্যা অঙ্গীকার’ করেছেন। যুদ্ধ, ফিলিস্তিন, ইউক্রেন, অস্ত্রবাণিজ্য এবং পৃথিবীর সুরক্ষার মতো বিষয়গুলো দুবাই জলবায়ু সম্মেলনের অভিজ্ঞতা থেকে চলতি আলাপে হাজির করার একটা প্রাথমিক মানত করছি।
দুবাই জলবায়ু সম্মেলনে ফিলিস্তিনে যুদ্ধ বন্ধ করে জলবায়ু ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বেশ কিছু আলোচনা ও প্রতিবাদ কর্মসূচি হয়েছে। ফিলিস্তিন থেকে রাষ্ট্রপক্ষের প্রতিনিধি হয়ে এসেছিলেন আলা কানান। জানালেন যুদ্ধের ভেতর কেমন ঝুঁকি নিয়ে আসতে হয়েছে। তবে প্রায় সময়টাই ফিলিস্তিন প্যাভিলিয়ন খালি পড়েছিল। বহু মানুষ এখান থেকে খুফিয়া নিতে এসেছেন। সম্মেলনে বহুজনের গলায় খুফিয়া দেখা গেছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের গলায়। ভারতীয় তরুণ শিল্পী শিলো শিব সুলেমান এক শাড়িকে পরিণত করেছিলেন দীর্ঘতম এক খুফিয়ায়। আর এই খুফিয়া নিয়ে দুবাই সম্মেলনে হেঁটেছেন অধিকারকর্মীরা। কিছু স্টিকার ও ব্যাজে ফিলিস্তিনে যুদ্ধ সহিংসতা বন্ধের বিষয়টি প্রিন্ট করা হয়েছে। বিশেষ করে কাটা ‘তরমুজ ফালি’ হয়ে ওঠেছিল অনেকের প্রতিবাদের ভাষা। ফিলিস্তিনের পতাকা লাল, সবুজ, কালো, সাদা। ফিলিস্তিনের সপক্ষে আয়োজিত সংহতি সমাবেশে যখন এক শিশু একের পর এক গাজায় নিহত শিশুদের নাম ও বয়স উচ্চারণ করছিল। একেকটি নিহত শিশুর নাম যেন একেকটি অমীমাংসিত প্রশ্ন হিসেবে হাজির হচ্ছিল সম্মেলনে। বহুজনের চোখ ভিজে গিয়েছিল, বাকরুদ্ধ, ক্রুদ্ধ, ক্ষুব্ধ, বিষণœ এক পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু অধিক কার্বন নিঃসরণকারী যুদ্ধবাজদের তাতে কী কিছু যায় আসে? এ প্রশ্নের উত্তর দুবাই জলবায়ু সম্মেলন দিতে ব্যর্থ হয়েছে।
যুদ্ধ ও গণহত্যা বন্ধ করে জলবায়ু ন্যায্যতাকে ‘বেসামরিকীকরণ’ করার দাবি তুলেছেন অনেকে। ‘হোয়াই ইস মিলিটারাইজেশন ওয়ান অব দ্য কি অবস্টাকল টু মিটিগেটিং ক্লাইমেট ক্রাইসিস’ এবং ‘গ্রাসরুটস ফেমিনিস্ট পার¯েপকটিভস অন ডিমিলিটারাইজেশ ফর ক্লাইমেট জাস্টিস’ শীর্ষক দুটি সহ-অধিবেশনে বক্তারা জলবায়ু সুরক্ষায় যুদ্ধ ও গণহত্যা বন্ধ করে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার জোর দাবি জানান। ‘পিপলস রাইজিং ক্লাইমেট জাস্টিস’ নামের এক বৈশি^ক জলবায়ু আন্দোলন মঞ্চের আয়োজনে প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা যুদ্ধ ও অস্ত্রবাণিজ্য বন্ধ করে জলবায়ুজনিত ক্ষয়ক্ষতি পূরণে অর্থায়ন করার আহ্বান জানান। ‘কপ-২৮ কোয়ালিশন ও গ্লোবাল ক্যা¤েপইনের’ আহ্বায়ক লেইডি নাকপেল দুবাই জলবায়ু সম্মেলনের এবং সহ-অধিবেশনের বক্তব্যে বলেন, ‘…গাজায় গণহত্যা বন্ধ করতে হবে, মানবাধিকার সুরক্ষা না হলে কোনোভাবেই জলবায়ুর ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে না।’
ইসরায়েলের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে ইরানের রাষ্ট্রপক্ষের একটি দল প্রতিবাদ জানিয়ে প্রথম সপ্তাহেই জলবায়ু সম্মেলন ত্যাগ করেছিল। মিয়ানমার সম্মেলনে অংশ নেয়নি। ইসরায়েল ‘খাদ্য অপচয়’ নিয়ে পূর্বনির্ধারিত একটি সহ-অধিবেশন কেন জানি না হঠাৎ বাতিল করে। এই সহ-অধিবেশনটি যে কক্ষে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা সেখানে গিয়েও বাতিলের কারণ জানতে পারিনি। যুদ্ধের মাধ্যমে যে ব্যাপক ‘খাদ্য অপচয়’ ঘটছে হয়তো তার উত্তর দিতে ইসরায়েল অপারগ। দুবাই জলবায়ু সম্মেলনে জলবায়ু তহবিল, ক্ষয়ক্ষতি তহবিল, অভিযোজন তহবিল ও অর্থায়ন নিয়ে বহু আলোচনা ও অঙ্গীকার হয়েছে।
রাশিয়া-ইউক্রেন কিংবা ইসরায়েল-ফিলিস্তিন অন্যায় যুদ্ধের কারণে এমন সব ক্ষয়ক্ষতি ঘটে চলেছে, যা কোনোভাবেই কেবল তহবিল দিয়ে সুরক্ষা করা সম্ভব নয়। এমনকি এসব যুদ্ধাহত দেশগুলো একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ বিপদকেও সামাল দিচ্ছে। এর জন্য যুদ্ধ থামানো যেমন জরুরি, কাঠামোগত বৈষম্য দূর করা জরুরি এবং প্রকৃতি ঘনিষ্ঠ উন্নয়নচিন্তার প্রসার ঘটানো জরুরি।
‘জলবায়ু পরিবর্তন’ একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া। কিন্তু যে ‘জলবায়ু পরিবর্তনের’ কথা বহুলভাবে উচ্চারিত তা প্রাকৃতিকভাবে ঘটেনি। এমনকি এখনো ঘটছে না। ধনী ও ভোগবিলাসী মানুষের বিগত ২০০ বছরের কর্মকা-ের ফলে অধিক কার্বন নিঃসরণের কারণেই এটি ঘটছে। পৃথিবী আজ এক উত্তপ্ত ফুটন্ত গ্রহ। নিদারুণভাবে পৃথিবীকে বদলে ফেলার এই কাহিনি কোনোভাবেই উপনিবেশিকতা, বৈষম্য, অন্যায় যুদ্ধ বাণিজ্য এবং ক্ষমতা কাঠামোর বাইরে নয়। যুদ্ধে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে শিশু ও নারী। এমনকি জলবায়ু বিপর্যয়ের কারণে বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে ঝুঁকিতে আছে শিশু ও নারীরা। নারীর ওপর শারীরিক, মানসিক এবং সামাজিক সহিংসতাকে আরও বাড়িয়ে তোলে। তাহলে জলবায়ু দেনদরবারের আলাপে যুদ্ধ না থামিয়ে কীভাবে আমরা ফিলিস্তিনের শিশু ও নারীদের জীবন জলবায়ু বিপদ থেকে সুরক্ষিত করব, এসব কোনো উত্তর দুবাই জলবায়ু সম্মেলন আমাদের সামনে হাজির করেনি। বৈশি^ক সহিংসতা, দ্বন্দ্ব, সংঘাত ও সশস্ত্র নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে গবেষণা এবং অস্ত্রমুক্ত শান্তিময় বিশ্বের জন্য কাজ করে স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (সিপ্রি)। বিশ্বের শীর্ষ
১০০টি অস্ত্র ও সামরিক সেবা উৎপাদক বহুজাতিক কো¤পানির একটি তালিকা তৈরি করেছে সিপ্রি। ২০২২ সালের সেই তালিকা অনুযায়ী দেখা যায়, শীর্ষ ১০টি অস্ত্র কো¤পানিই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের, ৩টি চীনের, বাকি দুটি রাশিয়া ও যুক্তরাজ্যের। যুক্তরাষ্ট্রের লকহিড মার্টিন করপোরেশন, রেথিয়ন টেকনোলজিস, নর্থরূপ গ্রুম্মান করপোরেশন, বোয়িং এবং জেনারেল ডিনামিক্স দুনিয়ার শীর্ষ পাঁচ অস্ত্র কো¤পানি। যুক্তরাজ্যের বিএই সিস্টেমস, চীনের নরিংকো, এভিক, সিএএসসি এবং রাশিয়ার রসটেক কো¤পানিও শীর্ষ দশের ভেতর আছে। ইসরায়েলের এলবিট সিস্টেমস কো¤পানি তালিকায় ২৪তম অবস্থানে আছে।
‘সিপ্রি আর্মস ট্রান্সফার ডাটাবেজ (২০২৩)’ অনুযায়ী বৈশ্বিক অস্ত্র খাতের প্রায় ৪০ ভাগ নিয়ন্ত্রণ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। কারখানায় কেন বিস্কুট কিংবা পনির উৎপাদিত হয়, আমরা ধারণা করতে পারি। কিন্তু কারখানায় কেন অস্ত্র উৎপাদিত হবে? দুনিয়ায় এত অস্ত্রের ঝনঝনানি কেন দরকার? প্রতি ১০ সেকেন্ডে এই পৃথিবীতে একটি বাচ্চা ক্ষুধার কারণে মারা যায়। অপুষ্টির কারণে বছরে প্রায় ৩০ লাখ শিশু কাঠামোগতভাবে খুন হয়। প্রতিদিন প্রায় ১০ লাখ শিশু না খেয়ে ঘুমাতে যায়। এসব উপাত্ত হয়তো কোনোভাবেই বিশ্বনেতৃত্বকে স্পর্শ করে না। কিংবা এসব প্রমাণ তাদের বিন্দুমাত্র দায়বদ্ধ করে না। তা না হলে গত ২৭ বছর ধরে বিশ্বনেতৃত্বের অঙ্গীকার করা ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার জলবায়ু তহবিল কেন গঠন করা যায়নি? ধনী আর উত্তরের ভোগবিলাসী জীবন, যুদ্ধ সহিংসতা ও অস্ত্র বাণিজ্যের কারণেই জলবায়ু পরিবর্তন ঘটছে। আর তাই তারা পৃথিবীর সুরক্ষায় এই তহবিল গঠনে বাধ্য এবং অঙ্গীকারাবদ্ধ। কিন্তু জলবায়ু তহবিলে অর্থায়নে কেবল তাদের টাকায় ঘাটতি আর অনীহা। কিন্তু অস্ত্রবাণিজ্য চাঙ্গা রাখার জন্য তাদের অর্থায়নের কোনো ঘাটতি হয় না। যুদ্ধ পাতিয়ে গাজার শিশুদের লাশের স্তূপ বানাতে তাদের কোনো অনীহা হয় না। বিশ্বনেতৃত্বের এই অন্যায় বাহাদুরি থামাতেই হবে। তা না হলে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব কোনোভাবেই মোকাবিলা করে পৃথিবীকে বাঁচানো সম্ভব হবে না। অস্ত্র ও যুদ্ধের ঝুঁকি এবং বিপদ থেকে এই ফিলিস্তিনসহ এই গ্রহকে উদ্ধার করতে বিশ্বনেতৃত্বকে সত্যিকারভাবে জলবায়ু-অঙ্গীকার করতে হবে।
লেখক: গবেষক ও লেখক

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com