1. [email protected] : admin2017 :
  2. [email protected] : Sunam Kantha : Sunam Kantha
  3. [email protected] : wp-needuser : wp-needuser
বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৪, ০১:৪৯ অপরাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01711-368602

দিরাইয়ের হাতিয়া গ্রামে বারবার অস্ত্রের মহড়া : বেপরোয়া অস্ত্রবাজরা ধরাছোঁয়ার বাইরে

  • আপডেট সময় রবিবার, ৩১ মার্চ, ২০২৪

বিশেষ প্রতিনিধি ::
দিরাইয়ের কুলঞ্জ ইউনিয়নের হাতিয়া গ্রামে আবারও বন্দুক নিয়ে মহড়া দিয়েছে বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান একরার হোসেনের লোকজন। এ নিয়ে টানা তিনবার প্রকাশ্যে অস্ত্রের প্রদর্শন করে প্রতিপক্ষের ওপর হামলা ও ভয় ভীতি দেখালেও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছেনা।
শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টায় আবারও বন্দুক নিয়ে প্রতিপক্ষের ওপর হামলা করেছে একরার হোসেনের লোকজন। এতে তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়ে ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে স্বজনরা জানিয়েছেন। পরে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ২০জন আহত হন। বিকেল সাড়ে চারটায় আতঙ্কিত মানুষের ফোনে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বন্দুকের মহড়ার দৃশ্য ছড়িয়ে পড়লে দিরাই থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে। তবে বারবার অস্ত্র প্রদর্শন করার ঘটনায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ জানিয়েছেন গ্রামবাসী। শান্তিপ্রিয় এলাকাবাসী খুনোখুনির মতো ভয়াবহ ঘটনার আশঙ্কা করছেন। এদিকে অস্ত্রের বিষয়ে চেয়ারম্যান একরার হোসেন জানিয়েছেন এগুলো কাঠের ‘ডামি অস্ত্র ও পাইপ’। প্রতিপক্ষের লোকজন তাদের ওপর হামলা করতে গেলে স্বজনরা এগুলো প্রদর্শন করেছেন।
পুলিশ, এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, হাতিয়া স্কুল এন্ড কলেজের ম্যানেজিং কমিটির দ্বন্দ্ব নিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান একরার হোসেনের সঙ্গে বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গ্রামবাসীর বিরোধ চলছে। একরার হোসেন স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হন। এ ঘটনায় সিলেট শিক্ষা বোর্ড তদন্ত করে অনিয়মের অভিযোগে তার কমিটি বাতিল করে দেয়। ফলে প্রধান শিক্ষকসহ অন্যান্য শিক্ষক ও গ্রামবাসীর সঙ্গে দ্বন্দ্ব দেখা দেয় তার। এর জের ধরে গত ৯ ডিসেম্বর সিলেট শিক্ষাবোর্ডে কমিটি বাতিলের কাগজ নিয়ে আসার পথে বোর্ড ক্যাম্পাসেই চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠ লোক শামীম আহমদ হঠাৎ হামলা করে শিক্ষকের ব্যাগ ছিনিয়ে নেন। এ ঘটনায় মোগলবাজার থানায় অভিযোগ দায়ের করেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হেলাল উদ্দিন। সপ্তাহখানেকের মধ্যে অভিযুক্ত শামীম আহমদ জোরপূর্বক স্কুল ক্যাম্পাসে ঢুকে প্রতীকী সংবাদ সম্মেলন করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক মো. আনিস আহমদের বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা করেন। এ ঘটনায় আনিসুর রহমান সিলেটে সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেন। গত ৯ মার্চ চেয়ারম্যানের লোকজন শিক্ষক আনিস আহমদের ওপর হামলা করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে এখন সিলেটে চিকিৎসা নেন বলে জানান এলাকাবাসী।
শিক্ষকের ওপর হামলার প্রতিবাদে স্কুলে শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদী মানববন্ধন করার সময় চেয়ারম্যান একরার হোসেনের এক সমর্থক বন্দুক নিয়ে শিক্ষার্থীদের দিকে তেড়ে যায়। এর আগে গত ৭ জানুয়ারি জাতীয় নির্বাচনে একরার হোসেন, তার ভাই কামরুল হোসেন ও ঘনিষ্ঠ সমর্থক রাজীব আহমদসহ কয়েকজন অস্ত্র নিয়ে ভোট কেন্দ্র দখল করতে গেলে স্থানীয়রা রুখে দাঁড়ান। এই দুই ঘটনার অস্ত্র প্রদর্শনের দুটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
এদিকে গত ২৯ মার্চ শুক্রবার জুমআর নামাজের সময় একরার হোসেনের চাচাতো ভাই ফজলু মিয়ার সঙ্গে গ্রামের প্রতিপক্ষের তর্কাতর্কি এবং মাগরিবের নামাজের সময়ও তার ভাতিজার সঙ্গে তর্কাতর্কি ও হাতাহাতি হয়। এর জের ধরে শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টার সময় একরার হোসেনের লোকজন ও গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য সোহেল মিয়ার লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের সময় একরার হোসেনের ভাই ও ভাতিজারা বন্দুকের গুলি ছুড়ে বলে প্রত্যক্ষদর্শী ও আহতরা জানান। এ সময় প্রতিপক্ষের রফু মিয়া, এওয়ার মিয়া, সমসু মিয়া গুলিবিদ্ধ হন। সংঘর্ষে একরার হোসেন পক্ষের রাজিব হোসেন, সেবুল, সুবাসসহ কয়েকজন ইটপাটকেলের আঘাতে আহত হয়েছেন বলে জানান তাদের স্বজনরা।
অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান একরার হোসেন বলেন, ২০১৩ সনে আমার বিরুদ্ধে অস্ত্র মামলা ছিল। এগুলো নিষ্পত্তি হয়ে গেছে। আমি প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে ইউপি চেয়ারম্যান হিসেবে বিজয়ী হওয়ায় তারা সবাই আমার পিছনে লেগেছে। শিক্ষকদের তারা উস্কে দিয়েছে। তবে কিছুদিন আগে মানববন্ধনের সময় তার সমর্থক রাজীব হোসেন স্কুলে অস্ত্র নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছে স্বীকার করে তিনি বলেন, এটি প্রকৃত অস্ত্র নয় ‘কাঠের অস্ত্র’। গতকাল শনিবার তার ভাই ও স্বজনদের বন্দুক নিয়ে হামলায় অংশ নেওয়ার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এগুলো অস্ত্র নয় পাইপ’। তার বাড়িতে এসে সোহেল মেম্বারের লোকজন হামলা করলে তারা আত্মরক্ষায় সংঘর্ষে জড়ায় বলে দাবি করেন তিনি।
এদিকে থানায় মামলা না নেওয়ায় এ ঘটনায় গত ১৩ মার্চ পুলিশ সুপার বরাবর গ্রামবাসী লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন। অভিযোগকারী সোনাহর মিয়া বলেন, একরার চেয়ারম্যানের বাহিনীর কাছে গ্রামবাসী অসহায়। বারবার তারা অস্ত্র নিয়ে হামলা করছে। মহড়া দিচ্ছে। আমরা ভয়ে আছি। এ ঘটনায় আমি পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগও দিয়েছি। তারপরও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছেনা।
দিরাই থানার ওসি (তদন্ত) রতন দেবনাথ বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ পাঠিয়েছি। আমরা আজকের ঘটনায় অবশ্যই আইনী ব্যবস্থা নেব।
এর আগে দিরাই সার্কেল এএসপি মো. শহিদুল হক মুন্সি এই প্রতিবেদককে বলেছিলেন, একজন শিক্ষককে মারধর করা হয়েছে এমন কোন অভিযোগ আমাদের কাছে কেউ নিয়ে আসেনি। স্কুলে অস্ত্র নিয়ে কেউ মহড়া দিয়েছে বা গত জাতীয় নির্বাচনে অস্ত্রের মহড়া হয়েছে কেন্দ্রে এমন ঘটনাও আমরা অবগত নই। শনিবার তার মোবাইলে একাধিকবার বারবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com