1. [email protected] : admin2017 :
  2. [email protected] : Sunam Kantha : Sunam Kantha
  3. [email protected] : wp-needuser : wp-needuser
রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০২৪, ১১:৫৩ অপরাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01711-368602

হাওরে বাঁধ ভাঙার ভয়

  • আপডেট সময় শনিবার, ৩০ মার্চ, ২০২৪

মো. শাহজাহান মিয়া :
সুনামগঞ্জের হাওরজুড়ে এখন সবুজের সমারোহ। জমিতে ধানের থোড় বের হয়েছে। আবার কোথাও কোথাও অল্প হলেও ধান পাকতে শুরু করেছে। কয়েক সপ্তাহ পরেই সোনাধান কাটার আয়োজন শুরু হবে। তবে বরাবরের মতো এবারও এই বোরো ফসল নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন হাওরপাড়ের কৃষকরা। আর এর প্রধান কারণ হাওরে বাঁধ ভাঙার ভয়। হাওরপাড়ের কৃষক ও হাওর বাঁচাও আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ জানান, এবারও হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের কাজে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। নড়বড়ে বাঁধ উজানের পাহাড়ি ঢল ঠেকাতে পারবে না। ফলে অকাল বন্যায় ফসলহানি নিয়ে শঙ্কা রয়েছেন কৃষকরা।
জগন্নাথপুরের বড় নলুয়ার হাওর ও মইয়ার হাওরের কৃষক এনামুল হক, ছইল মিয়া, আছলম উদ্দিন, নোয়াব উল্লাহ, খোকন বিশ্বাস, রজনী কুমার দেব, বসন্ত পালসহ অনেকে বলেন, জমিতে থোড় ধান ঝলমল করছে। আর মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যেই ধান কাটতে পারবো। মনে অনেক আশা নিয়ে অপেক্ষা করছি কবে ধান কাটবো। আবার ভয়ও করে দিনের বেশির ভাগ সময় থাকে আকাশ মেঘলা। কখন যে কি হয় জানিনা। অকাল বন্যা, শিলাবৃষ্টি, বাঁধ ভাঙার মতো আতঙ্ক সারাক্ষণ তাড়া করে বেড়ায়। যদিও জমিতে এবার ভালো ফসল হয়েছে। প্রকৃতি অনুকূলে থাকলে বাম্পার ফলন কৃষকদের গোলায় উঠবে। আর যদি প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দেয় তাহলে নড়বড়ে বাঁধ ভেঙে ফসলহানি হবে। এ নিয়ে আমাদের উদ্বেগ কাটছে না।
জগন্নাথপুর উপজেলার দাস নোয়াগাঁও গ্রামের বাসিন্দা ইউপি সদস্য অনিল চন্দ্র দাস জানান, অল্প হলেও হাওরে ধান কর্তন শুরু হয়েছে। এমন খবরে কৃষকসহ সব মহলে কিছুটা হলেও স্বস্তি বিরাজ করছে। প্রকৃতি সহায় থাকলে কৃষকের গোলায় ধান উঠবে।
হাওর বাঁচাও আন্দোলনের সাধারণ স¤পাদক বিজন সেন রায় বলেন, হাওরে এবার ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ যথাযথভাবে হয়নি। পাহাড়ি ঢলে এসব বাঁধ ভাঙার ভয় রয়েছে। এছাড়া বৃষ্টিপাত নড়বড়ে বাঁধগুলোকে আরও দুর্বল করে দেবে। পাহাড়ি ঢলের ধাক্কা ওইসব বাঁধ সামলাতে পারবে না। এ নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। আবহাওয়া বিরূপ থাকলে ২০১৭ সালের মতো ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি আশঙ্কা রয়েছে। একমাত্র প্রকৃতি সহায় থাকলেই কৃষকের গোলায় ধান উঠবে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, এবার সুনামগঞ্জের ছোট-বড় ১৩৭টি হাওর ও বিলে ২ লাখ ২৩ হাজার ৪০৭ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। ধানের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৩ লাখ ৭০ হাজার ২০০ মেট্রিক টন। হাওর এলাকার কৃষকেরা নির্বিঘেœ এই ধান গোলায় তুলতে পারলে তার বাজারমূল্য হবে ৪ হাজার ১১০ কোটি টাকা। আগামী ১৫ এপ্রিল থেকে হাওরে বোরো ধান কাটা শুরুর কথা রয়েছে।
সুনামগঞ্জে আগাম বন্যা ও পাহাড়ি ঢল থেকে বিস্তীর্ণ হাওরের ফসল রক্ষায় প্রতিবছর প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ৪০টি হাওরে ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণ করে। এবার জেলার ১২টি উপজেলায় ৭৩৫টি প্রকল্পে ৫৯১ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও সংস্কার হয়েছে। এতে প্রাক্কলন ধরা হয়েছে ১৩০ কোটি টাকা। গত ২৮ ডিসেম্বরের মধ্যে সব প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও সেটি হয়নি। পরে সময় আরও এক সপ্তাহ বাড়ানো হয়। ইতোমধ্যে বাঁধের কাজ সম্পন্নের ঘোষণা দিয়েছে হাওরে ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণসংক্রান্ত কমিটি।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সুনামগঞ্জ কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী ও হাওরে ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণসংক্রান্ত জেলা কমিটির সদস্যসচিব মো. মামুন হাওলাদার জানান, বাঁধের কাজ নীতিমালা অনুযায়ী হয়েছে। এখন বাঁধগুলোর যাতে কোনো ক্ষতি না হয়, আমরা সেদিকে লক্ষ রাখছি।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com