1. [email protected] : admin2017 :
  2. [email protected] : Sunam Kantha : Sunam Kantha
  3. [email protected] : wp-needuser : wp-needuser
বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৪, ০২:৩৭ অপরাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01711-368602

শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় সাবেক এমপি নজির হোসেনকে চিরবিদায়

  • আপডেট সময় শুক্রবার, ২৯ মার্চ, ২০২৪

স্টাফ রিপোর্টার ::
শোক, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় শেষ বিদায় জানানো হলো সুনামগঞ্জ-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা নজির হোসেনকে। বৃহ¯পতিবার (২৮ মার্চ) ভোরে রাজধানীর উত্তরার নিজ বাসভবনে বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর। তিনি স্ত্রী, আত্মীয়-স্বজনসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
বৃহস্পতিবার বিকেলে সুনামগঞ্জ শহরের পুরাতন বাসস্টেশনে তাঁকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। এখানে তার প্রথম নামাজে জানাজা সম্পন্ন হয়। বিকেল ৫টায় নজির হোসেনের জন্মভিটা বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের শাহপুর গ্রামে দ্বিতীয় জানাযা শেষে মা-বাবার কবরের পাশে তাকে সমাহিত করা হয়। তার জানাযায় আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
পুরাতন বাসস্টেশনে অনুষ্ঠিত জানাযায় উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নূরুল হুদা মুকুট, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. শাখাওয়াত হোসেন জীবন, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান চৌধুরী, সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র নাদের বখত, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান পীর, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নোমান বখত পলিন, জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক এমপি কলিম উদ্দিন মিলন, সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম নূরুল, বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজি নূরুল মোমেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মজিদ, বিএনপি নেতা নাদির আহমদ, আবুল মনসুর শওকত, ফারুক আহমদ, শেরেনূর আলী, আওয়ামী লীগ নেতা সিরাজুর রহমান সিরাজ, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুজ্জামান সেন্টু, জেলা শ্রমিক লীগ সভাপতি সেলিম আহমদ, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ফজলে রাব্বী স্মরণ, অ্যাডভোকেট বুরহান উদ্দিন দোলন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি শামছুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক মোনাজ্জির হোসেন সুজন, জেলা যুবদল সভাপতি অ্যাডভোকেট মামুনুর রশিদ কয়েছ, সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল হাসান রাজু, সৈনিক লীগ সভাপতি মেহেদি হাসান চৌধুরী রাসেল, জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ।
নজির হোসেন ১৯৪৯ সালের ৪ ফেব্রুুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। প্রগতিশীল রাজনৈতিক সংগঠন ছাত্র ইউনিয়ন দিয়ে রাজনীতি শুরু করেন। ১৯৬৬ সালে তিনি সিলেট জেলা ছাত্র ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৮ সনে গোপন কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যপদ লাভ করেন। ১৯৬৯ সনের গণঅভ্যুত্থানে তিনি রাজপথের ছিলেন সক্রিয় এক ছাত্রনেতা। ওই সালের শেষের দিকে সুনামগঞ্জ জেলা সিপিবি’র দায়িত্ব পালন করে দলকে সংগঠিত করতে সুনামগঞ্জ চলে আসেন তিনি। সুনামগঞ্জ মহকুমার গোপন কমিউনিস্ট সেলের প্রধান ছিলেন তিনি। নজির হোসেন ১৯৭১ সুনামগঞ্জ সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদের সহ-স¤পাদক পদে নিযুক্ত হন। ১৯৭১ সালে জুন মাসের প্রথম দিকে শিলং এর সানী হোটেলে কমরেড বরুণ রায়, পীর হাবিবুর রহমান, বাবু সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত ও সরদার লতিফের উপস্থিতিতে গোপন কমিউনিস্ট পার্টির সিদ্ধান্তের আলোকে টেকেরঘাট সাব সেক্টর একটি গেরিলা যুদ্ধের জোন হিসেবে গড়ে ওঠে। বাবু সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত সেক্টর কমান্ডার ও নজির হোসেন টেকেরঘাট সাব সেক্টরের সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে প্রতিরোধ যুদ্ধসহ গেরিলা যুদ্ধ পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। টেকেরঘাট সাবসেক্টরে গেরিলাদেরকে তিনি গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে অভিযান পরিচালনায় সহযোগিতা করতেন। গেরিলাদের সঙ্গে কয়েকটি বিশেষ অপারেশনেও তিনি যুক্ত ছিলেন।
১৯৭২ সালে তিনি সুনামগঞ্জ মহকুমা সিপিবি’র সাধারণ স¤পাদক এবং ১৯৭৪ সালে সিপিবি’র কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭৪ সালে ১৮ মাসব্যাপী রাজনৈতিক পড়াশোনার জন্যে মস্কোতে ছিলেন। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যার পর ৪ বছর আত্মগোপনে ছিলেন এবং মুস্তাক সরকার বিরোধী সশস্ত্র প্রতিরোধ যুদ্ধে সুনামগঞ্জ অঞ্চলের সার্বিক দায়িত্ব পালন করেন। স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে ১৯৮৫ সালে নিরাপত্তা আইনে ৬ মাস কারাবরণ করেন। সুনামগঞ্জের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে নজির হোসেন ১৫ দলীয় জোটের নেতৃত্বের ভূমিকায় ছিলেন ।
১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি ৫ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিপিবি থেকে ৮ দলীয় ঐক্যজোটের প্রার্থী হয়ে নজির হোসেন প্রথম সাংসদ নির্বাচিত হন । তিনি পঞ্চম সংসদের নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন। আশির দশকের সোভিয়েত ইউনিয়নের গ্লাসনস্ট, পেরেস্ত্রাইকা এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার ফলে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট আন্দোলনেও এর প্রভাব পড়ে। নব্বই দশকের প্রথম দিকে সিপিবি ভাঙ্গতে শুরু করলে মূলদল থেকে গণফোরাম, আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও অন্যান্য দলে সিপিবি’র নেতাকর্মীরা যোগ দিতে শুরু করেন। নজির হোসেন ১৯৯৩ সালের ১৫ অক্টোবর বিএনপিতে যোগ দেন। তিনি প্রথমে সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ স¤পাদক এবং পরবর্তীতে সভাপতি নির্বাচিত হন। সভাপতি পদাধিকারবলে জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দ্বিতীয়বার ও ২০০১ সালে তৃতীয়বার সুনামগঞ্জ-১ আসন থেকে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৪ সালে তিনি সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com