1. [email protected] : admin2017 :
  2. [email protected] : Sunam Kantha : Sunam Kantha
  3. [email protected] : wp-needuser : wp-needuser
রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০২৪, ০৭:৪৩ অপরাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01711-368602

বাঁধের কাজ শতভাগ শেষ হয়নি

  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ২৬ মার্চ, ২০২৪

স্টাফ রিপোর্টার ::
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কর্তৃক সুনামগঞ্জে বাঁধের কাজ শতভাগ শেষের দাবি প্রত্যাখ্যান করে হাওর বাঁচাও আন্দোলন কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার দুপুরে শহরের মুক্তারপাড়াস্থ সুনামকণ্ঠ কনফারেন্স হলে এই সংবাদ সম্মেলন করেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, চলতি বোরো মৌসুমে ফসলের সুরক্ষায় হাওরে ৫৯১ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণের জন্য ১২৫ কোটি টাকা বরাদ্দে ৭৩৩টি প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী অর্থবছরের ১৫ ডিসেম্বর বাঁধের কাজ শুরু ও ২৮ ফেব্রুয়ারি কাজ শেষ করার কথা। কিন্তু নির্ধারিত ১৫ ডিসেম্বর নিয়মরক্ষার্থে কয়েকটি বাঁধে লোক দেখানো কাজ উদ্বোধন করা হয়েছিল। সর্বশেষ মার্চ মাসেও কিছু কিছু বাঁধের কাজ শুরু করা হয়েছে। তাতে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন কৃষকরা। ডিসেম্বরে শুরু হয়ে ফেব্রুয়ারিতে যে বাঁধের কাজ শেষ হবে সে বাঁধ আগাম বন্যার চাপ সামলাতে সক্ষম হবে। কিন্তু মার্চ মাসে যে সব বাঁধের কাজ শুরু করে নিয়ম রক্ষার কাজ করা হয়েছে আগাম বন্যা আসলে প্রথমেই সে বাঁধগুলো ভেঙ্গে যাবে বলে শঙ্কা তাদের।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এবার বাঁধের কাজে শুরু থেকেই এক ধরনের ঢিলেমি লক্ষ্য করা গেছে। মাঠপর্যায়ে গণশুনানি করে প্রকল্প নির্ধারণ ও পিআইসি গঠনের দাবি থাকলেও, সেটি করা হয়নি। স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের প্রভাবে পিআইসি গঠন করা হয়। এতে প্রশাসন ও পাউবো কর্মকর্তাদের একটা যোগসাজশ থাকে। যে কারণে ওই ব্যক্তিরা কাজে গাফিলতি করেন।
হাওর বাঁচাও আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ জানান, হাওরের ধানকে হুমকির মুখে ফেলে দেয়া হয়েছে। এবার কৃষকের ধান গোলায় তুলতে কোন সমস্যা হলে এর দায় কাবিটা স্কীম বাস্তবায়ন ও মনিটরিং কমিটিকেই নিতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, প্রাক্কলনে কিলোমিটারের যে মাপ সেটা একটা চালাকী। আমরা হাওর বাঁচাও আন্দেলনের পক্ষ থেকে অক্টোবর, নভেম্বর মাসে যে জরিপটি পরিচালনা করি তাতে দেখা যায় অনেক বাঁধে কিলোমিটারের পর কিলোমিটার মাটি ভরাটের প্রয়োজন নেই। কিন্তু প্রাক্কলনের সময় অক্ষত বাঁধকে ক্ষতিগ্রস্ত দেখিয়ে সরকারের টাকা নয়-ছয়ের কাজ সেখান থেকে শুরু হয়। হাওরে অনেক বাঁধ রয়েছে যেখানে মাটি ভরাট না করে শুধু দুর্বাঘাস পরিষ্কার করে মাটির প্রলেপ দেওয়া হয়েছে। সরকারের বেধে দেওয়া ২৮ ফেব্রুয়ারি কোন বাঁধের কাজ শেষ হয়নি। আমাদের জরিপে আমরা দেখেছি সে সময় ৩০-৩৫ ভাগ কাজ হয়েছে। এরপর পাউবো ও প্রশাসন গোপনে ৭ মার্চ পর্যন্ত সময় বর্ধিত করে। সে সময়েও কাজ শেষ হয়নি। পাউবো সে সময় ৮৪ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে দাবি করলে আমরা তা প্রত্যাখ্যান করি। আমাদের হিসেবে ৭ মার্চ পর্যন্ত ৬০ ভাগ কাজ হয়েছে। ২২ মার্চ শুক্রবার পাউবো জানায়, ‘হাওরে শত ভাগ কাজ হয়েছে বলা যায় না আজ পর্যন্ত ৯৮ ভাগ কাজ হয়েছে। সেটাই শতভাগ।’ আমরা এ রিপোর্টও প্রত্যাখ্যান করছি। ২২ মার্চ আমাদের বিভিন্ন উপজেলা কমিটির নেতৃবৃন্দকে হাওরে পাঠিয়ে আমরা দেখেছি অনেক বাঁধে মাটির কাজ হচ্ছে। অধিকাংশ বাঁধেই ঘাস লাগানো ও দুরমুজ করা হয়নি। তাহলে কিভাবে পাউবো বলছে বাঁধের কাজ শেষ, তা আমাদের বোধগম্য নয়।
হাওর বাঁচাও আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ জানান, সকল উপজেলা কমিটি, ইউনিয়ন কমিটি ও সংবাদ মাধ্যমে বুঝতে পারছি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে পারেনি কাবিটা স্কীম বাস্তবায়ন ও মনিটরিং কমিটি। নির্ধারিত সময় শেষে ১০দিন বাড়িয়ে ৭ মার্চ কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। এসময়েও হাওর রক্ষা বাঁধের কাজ শেষ হয়নি। কাবিটা স্কীম বাস্তবায়ন ও মনিটরিং কমিটি ১৫ ডিসেম্বর আপনাদের নিয়ে যেভাবে বাঁধের কাজ শুরু করেছিলেন, সেভাবে আপনাদের আবার নিয়ে বাঁধের শত ভাগ কাজ সমাপ্তির ঘোষণা দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।
২২ মার্চ হাওর বাঁচাও আন্দোলন বিভিন্ন উপজেলা কমিটির নেতৃবৃন্দ বিভিন্ন হাওর পরিদর্শন করে যে প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন তাতে দেখা যায়, দিরাইয়ে বাঁধ নিয়ে পাউবো লঙ্কাকান্ড ঘটিয়েছে। দিরাই উপজেলার ২৭ ও ২৮নং পিআইসিতে মাটির কাজ যখন শেষ পর্যায়ে হঠাৎ করে পাউবো সে বাঁধ পরিত্যক্ত দেখিয়ে এই দুই পিআইসির অনুকূলে আরো ৪টি পিআইসি তৈরি করে কোটি টাকার একটি প্রকল্প তৈরি করার পরিকল্পনা গ্রহণ করার পাঁয়তারা চালায়। কৃষকরা তা বুঝতে পেরে বাঁধের কাজ দ্রুত শেষ করার দাবিতে বাঁধ এলাকায় কৃষক সমাবেশ করেন। এরপরই পাউবো কৃষকদের প্রতিপক্ষ ভাবতে থাকে। কৃষক সমাবেশে যে সব কৃষক উপস্থিত ছিলেন তাদের মধ্য নেতৃত্বদানকারী কৃষকদের আসামি করে পাউবো দিরাই উপজেলার দায়িত্বরত এসও কৃষকদের বিরুদ্ধে দিরাই থানায় একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন। বৈশাখকে সামনে রেখে এসওর মামলায় কৃষকরা এখন ফেরারি রয়েছেন। জগদল ইউনিয়নের অনেকগুলো বাঁধ রয়েছে যার কাজ এখনও শেষ হয়নি। তাহিরপুর উপজেলার মাটিয়ান হাওরে ৩৩ ও ৩৪নং পিআইসিতে এখনও কাজ চলছে। ৬৩, ৭৮ ও ৭৯নং পিআইসির একই অবস্থা। জামালগঞ্জ উপজেলার হালির হাওরের ২৬নং পিআইসির ঘনিয়ার বিলের ক্লোজারটি অত্যন্ত গুরত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ একটি বাঁধ। প্রায় ২০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দিয়ে সম্প্রতি কাজটি সমাপ্ত ঘোষণা করলেও ঝুঁকিতে রয়েছে বাঁধটি।
এদিকে, ঘনিয়ার বিলের বিপরীতপাড়স্থ শনি হাওরের ২নং পিআইসি নান্টুখালী ক্লোজারটি প্রায় ২৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে কাজ শেষ করা হলেও ঝুঁকিপূর্ণ থাকায় আবারো ৫ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। কিন্তু বাঁধের দ্বিতীয় ধাপের কাজটির ৫০ ভাগ কাজও শেষ হয়নি। জামালগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৗশলী জাহিদুল ইসলাম জনি জানান, হালির হাওরের ঘনিয়ার বিলের ক্লোজার ও শনি হাওরের নান্টুখালী ক্লোজারটি অত্যল্প গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ। নান্টুখালী বাঁধটি ঝুঁকিপূর্ণ মনে হওয়াতে আরো ৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে একটি বেড়ি বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে।
এছাড়া শাল্লা উপজেলার ভান্ডাবিল হাওরের ২৮নং পিআইসির কাজ শুরু হয়নি। ৩,৪,৫,৬,৭,৮ নং পিআইসিতে দুর্বাঘাস ঠিকমতো লাগানো হয়নি। ৩৫ ও ৬৪ নং পিআইসির কাজে অসংগতি রয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো ক্লোজারে কার্পেট ব্যবহার করা হয়নি। মধ্যনগর উপজেলার ২৪নং পিআইসি সভাপতি বলেছেন, বৃষ্টির জন্য কাজ শুরু করতে পারছেন না।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, হাওরের বোরো ফসল রক্ষায় প্রাক্কলন পূর্ব থেকেই আমরা কৃষকের পক্ষে বিভিন্ন দাবি জানিয়ে আসছি। আমরা বলছি অনতিবিলম্বে হাওরের বোর ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ শেষ করে শতভাগ কাজ শেষের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে হবে। অন্যথায় হাওরে বিপর্যয় ঘটলে এর দায় কাবিটা স্কীম বাস্তবায়ন ও মনিটরিং কমিটিকেই নিতে হবে। আমরা হাওরের বিষয়ে রাজপথে সরব রয়েছি, প্রয়োজনে হাওরের বিষয়ে আদালতের শরণাপন্ন হবো। বাঁধের কাজ শতভাগ শেষের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না দিলে তারা কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করবেন বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন হাওর বাঁচাও আন্দোলন কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যকরী সভাপতি অ্যাড. স্বপন কুমার দাস রায়, সহ-সভাপতি চিত্তরঞ্জন তালুকদার, সাধারণ স¤পাদক বিজন সেন রায়, সাংগঠনিক স¤পাদক একে কুদরত পাশা, দপ্তর স¤পাদক দুলাল মিয়া, সদস্য রমেন্দ্র কুমার দে, হাওর বাঁচাও আন্দোলন জেলা শাখার সভাপতি ইয়াকুব বখত বাহলুল, সদর উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শহীদ নুর আহমদ, বাঁধ বিষয়ক স¤পাদক রাজু আহমদ, প্রচার স¤পাদক আনোয়ারুল হক প্রমুখ।

 

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com