1. [email protected] : admin2017 :
  2. [email protected] : Sunam Kantha : Sunam Kantha
  3. [email protected] : wp-needuser : wp-needuser
সোমবার, ২২ জুলাই ২০২৪, ০২:১১ পূর্বাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01711-368602

অস্বস্তির অবসান চান ১৪ দলের শরিকরা

  • আপডেট সময় বুধবার, ২০ মার্চ, ২০২৪

সুনামকণ্ঠ ডেস্ক ::
ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় ১৪ দলীয় জোটকে আদর্শিক বলা হলেও কার্যত নির্বাচনি বৈতরণী পাড়ি বা ক্ষমতায় যাওয়ার জোট বলে মনে করছেন শরিকরা। শরিক দলগুলোর নেতারা বলেন, গত ৭ জানুয়ারি নির্বাচনের পর এ পর্যন্ত জোটের শরিক দলগুলোর সঙ্গে কোনো আলাপ-আলোচনা করেনি আওয়ামী লীগ। ফলে জোটে রাখা না-রাখা নিয়ে অস্বস্তিতে রয়েছে শরিকরা। সংগত কারণে এ অস্বস্তির অবসান চায় শরিক দলগুলো। এভাবে চলতে থাকলে দুয়েক মাস পর ১৪ দলীয় জোট থেকে বেরিয়ে এসে আলাদা জোট গঠন করতে পারেন শরিকরা। অবশ্য আওয়ামী লীগ বলছে, গত ১৫ বছরে সরকারের সঙ্গে থেকে ১৪ দলীয় জোটের শরিক দলগুলো সক্ষমতা অর্জন করতে পারেনি।
কোনো কোনো শরিক দলের শীর্ষ নেতারা বলছেন, গত ১৫ বছর ধরে ১৪ দলীয় জোটকে আদর্শিক জোট বলে আসছিল ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। আসলে তারা মুখে আদর্শিক জোট বললেও এটি ছিল তাদের ক্ষমতায় যাওয়ার হাতিয়ার। বিএনপি-জামায়াতের সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বিপরীতে ১৪ দলীয় জোটকে সামনে নিয়ে হাঁটার একটি কৌশল ছিলমাত্র। ১৫ বছর ধরে ক্ষমতায় আওয়ামী লীগ। এ সময়ের মধ্যে দুয়েকজনকে ছিটেফোঁটা সুযোগ-সুবিধা দিলেও কার্যত ১৪ দলের শরিকদের তেমন কোনো মূল্যায়ন করা হয়নি। বরং তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা হয়েছে। গত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ১৪ দলের সামনে মুলো ঝুলিয়ে রাখা হয়। জোটের মনোয়নের ক্ষেত্রে ১৪ দলের বিষয়ে উদাসীন ছিল আওয়ামী লীগ। তারপরেও ১৪ দল মনে করেছিল নির্বাচনের পর জোটনেত্রী শেখ হাসিনা শরিকদের নিয়ে বসে তাদের কথা শুনবেন। তার কোনো কিছুই হয়নি। ফলে জোটের শরিক দলগুলোর নেতারা হতাশায় ভুগছেন। এভাবে চলতে পারে না। রমজানের পর দুয়েক মাসের মধ্যে আওয়ামী লীগ শরিকদের নিয়ে না বসলে বিকল্প চিন্তা করা হবে। এমনকি আওয়ামী লীগের বাইরে জোটের অন্য যে দলগুলো আছে, তারা আলাদা জোট নিয়ে মাঠে থাকবে।
এদিকে গত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাসদকে তিনটি, ওয়ার্কার্স পার্টিকে দুটি ও জাতীয় পার্টিকে (জেপি) একটি আসন দেয় আওয়ামী লীগ। কিন্তু ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন ও জাসদের কেন্দ্রীয় নেতা একেএম রেজাউল করিম ছাড়া সবাই হেরেছেন। আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী থাকায় বাকি পাঁচজনই হেরেছেন। ২০০৮ সালের পর এটিই ১৪ দলীয় জোটের কম আসন। এমনকি নির্বাচন-পরবর্তী সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি মনোনয়ন পেতে চেষ্টা চালান শরিক নেতারা। এতেও কোনো লাভ হয়নি। পরে অবশ্য গণতন্ত্রী পার্টির কানন আরা বেগমকে সংরক্ষিত নারী আসনে এমপি করা হয়।
আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন বলেন, ১৪ দলীয় জোট তো আছে। আমরা তো সব সময়ই বলে আসছি স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি যারা আছে, তাদের নিয়ে একসঙ্গে পথ চলতে চাই। তবে তাদের যদি কোনো কথা থাকে, সেটি আওয়ামী লীগ সভাপতি ও জোটনেত্রী শেখ হাসিনার কাছে তো বলতেই পারে। রাশেদ খান মেমন তো সংসদেই আছেন। ফলে তাদের কথা বলার সুযোগ আছে। তবে তারা গত ১৫ বছরে আওয়ামী লীগের সঙ্গে থেকে যে সাংগঠনিকভাবে সক্ষমতা অর্জন করতে পারত, তাতে তারা কিছুটা ব্যর্থ হয়েছে।
বাংলাদের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, ১৪ দলীয় জোট এখনও আছে। ওয়ার্কার্স পার্টি সংসদ ও সংসদের বাইরে জনগণের পাশে আছে, থাকবে। তবে ১৪ দলীয় জোট যে একটি অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
আরেক শরিক সাম্যবাদী দলের সাধারণ স¤পাদক ও সাবেক মন্ত্রী দিলীপ বড়–য়া জোট নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আওয়ামী লীগ বড় দল। তারা ১৪ দলের নিয়ামক শক্তি। তারা কী করে একটু দেখি। আওয়ামী লীগ বলে আসছে ১৪ দলীয় জোট আদর্শিক; কিন্তু এখন তো আর সেটি মনে হয় না। তারা ক্ষমতায় যেতে ১৪ দলীয় জোটকে ব্যবহার করেছে মাত্র। তবে জোটনেত্রী শেখ হাসিনা বলে দিলেই তো পারেন, তিনি ১৪ দলীয় জোট রাখবেন না। আমরা দীর্ঘদিন লড়াই-সংগ্রম করেছি। তারা না রাখলে ছোট দল, ছোট হিসেবেই থাকব। আমাদের আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে যাব। এভাবে তো আর থাকা যায় না। এর একটি বিহিত হওয়া উচিত।
বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) আহ্বয়ক রেজাউর রশিদ খান বলেন, সত্যি কথা বলতে কি, সর্বহারার তো হারাবার কিছু নেই। এখন দলের সাংগঠনিক কাজগুলো করছি। জোট নিয়ে যে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, এর অবসান হওয়া উচিত। নেতাকর্মীরা নানা প্রশ্ন করেন। তার উত্তর দিতে পারি না। সর্বশেষ গত ৭ জানুয়ারির নির্বাচন পরবর্তী আওয়ামী লীগের আচরণ ভালো মনে হচ্ছে না। এতে ১৪ দলের কোনো ভবিষ্যৎ দেখছি না। তারা ক্ষমতায় যেতে আমাদের ব্যবহার করেছে।
উল্লেখ্য, বামপন্থি ১১ দল ও আওয়ামী লীগ, ন্যাপ ও জাসদ নিয়ে ২০০৪ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে গঠিত হয় ১৪ দলীয় জোট। এরপর গত ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মহাজোট বিজয় লাভ করে। ওই সরকারের শিল্পমন্ত্রী ছিলেন সাম্যবাদী দলের সাধারণ স¤পাদক দিলীপ বড়–য়া। এরপর আর তাকে মন্ত্রিসভায় রাখা হয়নি। ওই নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনে এমপি হন ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন। ২০১৩ সালের ১৮ নভেম্বর তাকে সর্বদলীয় সরকারের ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী করা হয়। পরে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদের নির্বাচনের তিনি ঢাকা-৮ আসন থেকে পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং মহাজোট সরকারের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পান। জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু ২০১২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মন্ত্রিসভায় তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়ে টানা ৭ বছর ছিলেন। পরে তাকে আর মন্ত্রিসভায় রাখা হয়নি। এরপর ১৪ দলের শরিকদের কাউকে মন্ত্রিসভায় রাখা হয়নি।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com