1. [email protected] : admin2017 :
  2. [email protected] : Sunam Kantha : Sunam Kantha
  3. [email protected] : wp-needuser : wp-needuser
বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৪, ১২:০৭ অপরাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01711-368602

সোমালিয়া উপকূলে জলদস্যুতা যেভাবে লাভজনক ব্যবসা : কাজী মো. আবু সাইদ

  • আপডেট সময় রবিবার, ১৭ মার্চ, ২০২৪

২০১১ সালে সোমালি জলদস্যুরা সোমালিয়ার উপকূলে ২১২টির মতো হামলা চালিয়েছিল। ২০১৫-১৬ পর্যন্ত হামলার পরিমাণ ঊর্ধ্বমুখী ছিল। কিন্তু আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক তৎপরতা বৃদ্ধিতে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় হামলা কমেছিল। ২০২২ সালের আগস্টে দি ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব শিপিংসহ ছয়টি আন্তর্জাতিক শিপিং সংস্থার একটি গ্রুপ ঘোষণা করেছে যে সোমালিয়ার উপকূলের জলদস্যুতা আর বিশ্বব্যাপী শিপিংয়ের জন্য হুমকি নয়। ঘোষণাটি সব স্টেকহোল্ডার, অপারেটর ও সংস্থার জন্য খুশির সংবাদ হিসেবে আসে, যারা ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে এর নির্মূলের জন্য লড়াই করেছিল। তারা আরো উল্লেখ করেছে যে ২০২৩ সালের শুরু থেকে ভারত মহাসাগরকে একটি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে বিবেচনা করা হবে না। কারণ ২০১৮ সাল থেকে সোমালিয়ার জলদস্যুদের মাধ্যমে কোনো বাণিজ্যিক জাহাজে আক্রমণ হয়নি।
ছয় বছরের মধ্যে তুলনা করলে সোমালি জলদস্যুদের আক্রমণ অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় গত তিন মাসে বেশি বেড়েছে, লোহিত সাগরের হুথি হামলার কারণে এরই মধ্যে চাপের মধ্যে আছে নৌবাণিজ্য।
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ ২০১০ সালের ডিসেম্বর ও ২০২২ সালের মার্চের মধ্যে সোমালিয়া জলদস্যুতাকে লক্ষ্য করে সাতটি প্রস্তাব পাস করেছে, বিদেশী নৌ ও বিমান বাহিনীকে সোমালি জলসীমায় প্রবেশ ও টহল দেয়ার অনুমতি দিয়েছে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন নৌবাহিনী অপারেশন আটলান্টাকে অনুমোদন দিয়েছে, একটি মার্কিন নেতৃত্বাধীন টাস্কফোর্সের সঙ্গে কাজ করছে, যাদের কাজ হলো সমুদ্রে জলদস্যুতা এবং সশস্ত্র ডাকাতি দমনের জন্য প্রয়োজনীয় সব উপায় ব্যবহারের জন্য বল প্রয়োগ করা।
জলদস্যুদের হাতে জাহাজ আটকের পর যেভাবে দরকষাকষি হয় :
বাংলাদেশী জাহাজ এমভি আবদুল্লাহ ১২ মার্চ জলদস্যুদের দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার আগে গত ৫ জানুয়ারি লাইবেরিয়ায় পতাকাবাহী এমভি লিলা নরফোক জলদস্যুদের দ্বারা বন্দি হয়েছিল। এ পর্যন্ত রেকর্ড সর্বোচ্চ মুক্তিপণ ছিল ১৩ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার। ২০১১ সালের মার্চে এ মুক্তিপণ দেয়া হয়েছিল সোমালি জলদস্যুদের। গ্রিক পতাকাধারী ওই ভেরি লার্জ ক্রুড ক্যারিয়ারের (ভিএলসিসি) নাম ছিল আইরিন এসএল। জাহাজটিতে নাবিক ছিলেন ২৫ জন, যারা সোমালি জলদস্যুদের হাতে প্রায় ৫৮ দিন বন্দি ছিলেন।
একটি জাহাজ যখন সোমালিয়ান পাইরেটসদের নিয়ন্ত্রণে চলে আসে তখন তারা সেই অবস্থায় প্রথমে জাহাজটিকে সোমালিয়ান বন্দরের কাছাকাছি কোনো নিরাপদ জায়গায় নিয়ে যায়। প্রাথমিকভাবে জাহাজের সবার কাছ থেকে মোবাইল ফোন, ল্যাপটপসহ সব ডিভাইস নিয়ে নেয়া হয়, যাতে জলদস্যুদের কোনো ধরনের ছবি প্রকাশ না পায়।
অপহরণ এবং মুক্তিপণ বিশেষজ্ঞদের মতে, সোমালি জলদস্যুদের দ্বারা একটি জাহাজ জব্দ করার কয়েক মিনিটের মধ্যে জাহাজের নাবিকরা তার কো¤পানির সদর দপ্তরকে সতর্ক করে। সেখানে কর্মকর্তারা কো¤পানির বীমাকারীকে (ইন্স্যুরার) ডাকেন, ইন্স্যুরার তারপর একটি রেসপন্স কো¤পানির সঙ্গে চুক্তি করেন। এক্ষেত্রে লন্ডনের কন্ট্রোল রিস্কস বা হিউস্টনের এএসআই গ্লোবালের মতো বেসরকারি সংস্থার নাম উল্লেখ করার মতো। সাধারণত জিম্মি পরিস্থিতিতে অভিজ্ঞ সাবেক সামরিক কর্মীরা এখানে কর্মরত থাকেন। এ কো¤পানিগুলো অপহরণকারী বা জলদস্যুদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করে। যেহেতু সোমালিয়ার জলদস্যুরা শুধু অর্থের জন্যই জাহাজ অপহরণ করে থাকে তাই আলোচনা একটি বিষয়কেই কেন্দ্র করে হয়, তাহলো মুক্তিপণের পরিমাণ। এক্ষেত্রে জলদস্যুদের পক্ষ থেকেও একজন নেগোশিয়েটর বা আলোচক নিয়োগ পান।
আলোচনা কয়েক সপ্তাহ থেকে মাস ধরে চলতে পারে, জলদস্যুদের সঙ্গে জিম্মি আলোচনা এত বেশি সময় নেয়, কারণ শিপিং কো¤পানি যদি অবিলম্বে মুক্তিপণ দিতে রাজি হয়, তাহলে জলদস্যুরা আরো বেশি মুক্তিপণ চাইবে। কো¤পানির মূল কাজটি হলো জলদস্যুদের বোঝানো যে কো¤পানির কাছে তাদের অর্থ প্রদানের জন্য আর কোনো অর্থ নেই।
দরকষাকষির পর মুক্তিপণের পরিমাণ নির্ধারণ হয়ে গেলে নগদ পরিমাণটি বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থাগুলো দ্বারা (যারা সোমালি জলদস্যুদের মুক্তিপণ সরবরাহে বিশেষজ্ঞ) হেলিকপ্টারের মাধ্যমে বড় ভাসমান কনটেইনারে করে জাহাজের ওপরে ফেলে দেয়া হয়। এসব কাজ করার জন্য নির্দিষ্ট এজেন্সি থাকে।
ইন্টারন্যাশনাল পুলিশ অর্গানাইজেশন (ইন্টারপোল), ইউনাইটেড নেশন্স অফিস অন ড্রাগস অ্যান্ড ক্রাইম এবং ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের এক সমীক্ষায় জলদস্যুদের মুক্তিপণের বিশ্লেষণ করা হয়েছে। মুক্তিপণ হিসেবে কত টাকা সংগ্রহ করা হয়, কীভাবে এবং কার কাছে এ অর্থ বা জলদস্যুতা থেকে প্রাপ্ত আয় বিতরণ করা হয়, এ আয় কীভাবে বিনিয়োগ করা হয় সেটা উঠে এসেছে। জলদস্যু ফাইন্যান্সিয়াররা বা জলদস্যুরা যাদের কাছ থেকে অর্থায়ন পায়, তারা পাইরেসি নেটওয়ার্কের মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে। তাদের বলা হয় দ্য মানি কিংপিনস, বিনিয়োগকারী এবং পাইরেসি ব্যবসার সবচেয়ে সুবিধাভোগী এ অংশটি গড়ে মোট মুক্তিপণের ৩০-৫০ শতাংশ সংগ্রহ করে, এরা পৃথকভাবে বা একটি দল হিসেবে কাজ করে।
নি¤œ স্তরের জলদস্যু, দ্য ফুট সোলজারস সাধারণত প্রতি জাহাজে ৩০ হাজার থেকে ৭৫ হাজার ডলারের একটি স্ট্যান্ডার্ড ফি পায়, যা গড় মুক্তিপণ পরিশোধের মাত্র ১ থেকে ২ দশমিক ৫ শতাংশ। দেখা যাচ্ছে, যে জলদস্যুরা জাহাজের নিয়ন্ত্রণ নেয়া থেকে মুক্তিপণ আদায় করা পর্যন্ত কাজে নিয়োজিত থাকে, তাদের ভাগেই সবচেয়ে কম লভ্যাংশ পড়ছে।
স্থানীয় সম্প্রদায় জলদস্যুদের পণ্য ও পরিষেবা সরবরাহ করে, যার মধ্যে খাদ্য, মেরামত পরিষেবা এবং ‘খাট’ নামের স্থানীয় একটি মাদক সরবরাহের কাজ করে, এরাও লাভের কিছু ভাগিদার হয়। এ কারণে সোমালিয়ার জলদস্যুতাকে একটি লাভজনক ব্যবসা বললে ভুল হবে না। বিশ্বব্যাংক অনুমান করেছে যে সোমালি জলদস্যুরা ২০০৫ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে মুক্তিপণ হিসেবে ৪০ কোটি ডলারেরও বেশি অর্থ পেয়েছে।
[কাজী মো. আবু সাইদ: মেরিন ইঞ্জিনিয়ার, এমএস, মেরিটাইম পলিসি, ইউনিভার্সিটি মালয়েশিয়া টেরেংগানু]

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com