1. [email protected] : admin2017 :
  2. [email protected] : Sunam Kantha : Sunam Kantha
  3. [email protected] : wp-needuser : wp-needuser
বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৪, ০৫:০৯ অপরাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01711-368602

দেশে ঝুঁকিপূর্ণ শিশু শ্রমিকের সংখ্যা প্রায় ১১ লাখ

  • আপডেট সময় শুক্রবার, ১৫ মার্চ, ২০২৪

সুনামকণ্ঠ ডেস্ক ::
দেশে ৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী মোট শিশুর সংখ্যা ৩ কোটি ৯৯ লাখ ৬০ হাজার। এরমধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ শিশু শ্রমিকের সংখ্যা ১০ লাখ ৬৮ হাজার ২১২ জন। তবে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকি পূর্ণ ৫টি সেক্টরে ৩৮ হাজার আট শিশু কাজ করছে, যার ৯৭ দশমিক ৫ শতাংশই ছেলে শিশু।
বৃহ¯পতিবার (১৪ মার্চ) সেক্টর ভিত্তিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত শিশুশ্রম জরিপ ইএসডাব্লিউসিএস ২০২৩ এ এসব তথ্য উঠে এসেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) এই জরিপ প্রকাশ করেছে।
সম্প্রতি পরিচালিত জাতীয় শিশুশ্রম জরিপ ২০২২-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশে ৫-১৭ বছর বয়সি শিশুদের মোট সংখ্যা ৩ কোটি ৯৯ লাখ ৬০ হাজার। তাদের মধ্যে ৩ কোটি ৫৩ লাখ ৬ হাজার ৯২৭ জন শিশু কর্মে নিয়োজিত, ১৭ লাখ ৭৬ হাজার ৯৭ জন শিশুশ্রমে এবং ১০ লাখ ৬৮ হাজার ২১২ জন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় কাজ করছে।
জরিপে বলা হয়, দেশের ৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশুরা বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ খাতে কাজ করছেন। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান বুরো বলছে, ৫টি খাতে ৩৮ হাজার ৮ জন শিশু কাজ করছেন, যার ৯৭ দশমিক ৫ শতাংশই ছেলে শিশু। সবচেয়ে বেশি কাজ করে অটোমোবাইল ওয়ার্কশপে।
বিবিএস বলছে, বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ৪৩টি সেক্টরকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করে, বিবিএস সরকার ঘোষিত এই ঝুঁকিপূর্ণ তালিকা থেকে সেক্টরভিত্তিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত শিশুশ্রম জরিপ-২০২৩ পরিচালনার জন্য পাঁচটি খাত নির্বাচন করেছে। এই সেক্টরগুলোকে ফোকাস করে, শিশুশ্রম বিরাজমান রয়েছে এবং জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন সে লক্ষ্যকে সামনে রেখেই এ জরিপটি পরিচালনা করা হয়েছে।
এই নির্বাচিত সেক্টরগুলো ১) মাছ, কাঁকড়া, শামুক/ঝিনুক সংক্ষরণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ (শুটকি মাছ উৎপাদন), ২) জুতা উৎপাদন (চামড়ার তৈরি জুতা শিল্প), ৩) লোহা ও ই¯পাত ঢালাই (ওয়েন্ডিং কাজ বা গ্যাস বার্নার মেকানিকের কাজ), ৪) মোটর যানবাহনের রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামত (অটোমোবাইল ওয়ার্কশপ) এবং ৫) ব্যক্তিগত এবং গৃহস্থালি সামগ্রীর মেরামত (অনানুষ্ঠানিক এবং স্থানীয় টেইলারিং এবং পোশাক সেক্টর)।
জরিপের প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, ৪০ হাজার ৫২৫টি প্রতিষ্ঠান এবং ৩৮ হাজার ৮ জন ৫-১৭ বছর বয়সী শিশু উপরোক্ত সেক্টরগুলোতে কর্মরত আছে। ঝুঁকিপূর্ণ সেক্টরে কাজে নিয়োজিত শিশুদের মধ্যে ৯৭ দশমিক ৫ শতাংশ ছেলে এবং ২ দশমিক ৫ শতাংশ মেয়ে শিশু। এই ৫ টি সেক্টরে শ্রমজীবী মোট শিশুর সংখ্যা হলো যথাক্রমে শুটকি মাছ উৎপাদনে ৮৯৮, চামড়ার তৈরি জুতা তৈরিতে ৫,২৮১টি, ওয়েল্ডিং বা গ্যাস বার্নার ম্যাকানিকের কাজে ৪,০৯৯, অটোমোবাইল ওয়ার্কশপে ২৪,৯২৩ এবং অনানুষ্ঠানিক এবং স্থানীয় টেইলারিং বা পোশাক খাতে ২,৮০৫ জন। এ থেকে ¯পষ্ট যে, ০৫টি ঝুঁকিপূর্ণ খাতের উল্লেখ করা হয়েছে যেখানে শ্রমজীবী শিশুদের সবচেয়ে বড় অংশ নিয়োজিত রয়েছে অটোমোবাইল খাতে। পল্লী ও শহর বিবেচনায় এই খাতে কর্মরত শিশুর ৩৫ দশমিক ৭ শতাংশ পল্লী এবং ৬৪.৩% শহর এলাকায় বসবাস করে। এ জরিপের মাধ্যমে একটি শ্রমজীবী শিশু ঝুঁকিপূর্ণ সেক্টরসমূহে কাজ করার সময় কি কি ধরনের বিপজ্জনক কাজ করতে পারে তা চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে। আনুমানিক ১৯.১% ছেলে এবং ৭.৭% মেয়ে শিশু ভারী বোঝা বহন, মালামাল টানার কাজে, অধিক উপরে বা ফ্লোর হতে অতি উচ্চতায় উঠে কাজ করে প্রায় ৮.১% ছেলে এবং ০.৩% মেয়ে শিশু।
আইএলও’র সহযোগিতায় বিবিএস বাংলাদেশে তার নিজস্ব প্যাটার্নে এই জরিপ কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। এ জরিপে পাঁচটি (০৫) ঝুঁকিপূর্ণ সেক্টরে নিযুক্ত ৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশুদের একটি জাতীয় প্রাক্কলন মূল্যায়ন করে।
এই জরিপের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল ২০২৩ সালের ৩ থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত। এ জরিপটি নির্বাচিত ৫ টি সেক্টরে নিয়োজিত শিশুদের কাজের প্রকৃতি এবং শিশুদের সাধারণ বৈশিষ্ট্যসমূহ তুলে ধরে। জরিপ প্রতিবেদনটি এই সেক্টর সমূহের শ্রমজীবী শিশুদের জীবনের বিভিন্ন দিক যেমন পারিবারিক বৈশিষ্ট্য, আর্থসামাজিক বৈশিষ্ট্য এবং কর্মসংস্থান স¤পর্কিত প্রেক্ষাপট তুলে ধরে।
এদিকে অনুষ্ঠানে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী শহীদুজ্জামান সরকার বলেন, আমরা শিশুশ্রম নির্মূলে কাজ করছি। ২০২৫ সালে শিশুশ্রম শূন্যতে আনতে পারবো বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com