1. [email protected] : admin2017 :
  2. [email protected] : Sunam Kantha : Sunam Kantha
  3. [email protected] : wp-needuser : wp-needuser
বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৪, ১০:৪৫ পূর্বাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01711-368602

শক্তি বৃদ্ধিতে মন আওয়ামী লীগের

  • আপডেট সময় শুক্রবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪

সুনামকণ্ঠ ডেস্ক ::
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দলীয় কার্যক্রমে কিছুটা ভাটা পড়ে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগে। একই সঙ্গে জাতীয় নির্বাচনে দলীয় প্রতীক নৌকা ও স্বতন্ত্র প্রার্থী থাকায় দলের তৃণমূলে বেড়েছে দ্বন্দ্ব। এ দ্বন্দ্ব-সংঘাত যাতে কমানো যায় সে জন্য দলের তৃণমূল পর্যায়ে শক্তি বৃদ্ধিতে মন দিয়েছে দলটি।
দলীয় সূত্র বলছে, আওয়ামী লীগের ৭৮টি সাংগঠনিক জেলা ও ৪৯৫টি উপজেলা রয়েছে। এর মধ্যে ৩০টির বেশি জেলা-উপজেলায় কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ হলেও সম্মেলন হয়নি। আর ১৮টি জেলা ও মহানগরে সম্মেলন হলেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়নি। তবে দলটির দাবি, নির্বাচনের আগে ৬৯ জেলা এবং ৩৫০টির বেশি উপজেলা দলের সম্মেলন হয়েছে। এসব জেলা ও উপজেলায় আওয়ামী লীগের কমিটি রয়েছে। পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়নি ৫টি জেলায়। আর উপজেলায় পূর্ণাঙ্গ কমিটি না হওয়ার সংখ্যা অনেক বেশি হবে।
আওয়ামী লীগের একাধিক শীর্ষনেতা গণমাধ্যমকে বলেন, দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে থেকেই তৃণমূল পর্যায়ে নেতায় নেতায় দ্বন্দ্ব ছিল। ফলে কেন্দ্র চাইলেও অনেক জেলায় সম্মেলন করতে পারেনি। জেলা-উপজেলার সভাপতি ও সাধারণ স¤পাদকদের মধ্যে মতবিভেদ থাকায় অনেক জায়গায় যথাসময়ে সম্মেলন হয়নি। তবে দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনের পর এই মতবিভেদ আরও বেড়েছে।
সম্প্রতি দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলের তৃণমূলকে গোছানোয় নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, যেসব জায়গায় সম্মেলন হয়নি। সেগুলোর সম্মেলন করতে হবে। আর যেগুলোর সম্মেলন হয়ে গেছে, কিন্তু কমিটি হয়নি বা আংশিক হয়েছে, ওই কমিটিগুলো দ্রুত করতে হবে। কারণ আগামীতে যেকোনো ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রাজপথে থাকার প্রস্তুতি হিসেবে তৃণমূলকে শক্তিশালী করা খুব দরকার।
বিএনপি-জামায়াত যেকোনো সময় তারা পুরোনো রূপে ফিরে যেতে পারে। এ জন্য আওয়ামী লীগের ৮ বিভাগে দায়িত্বপ্রাপ্ত ৮টি সাংগঠনিক টিম তাদের কাজ করবে। শেখ হাসিনার এমন নির্দেশনার পর নড়েচড়ে বসেছেন ৮ বিভাগে দায়িত্বপ্রাপ্ত ৮টি সাংগঠনিক টিমের নেতারা। এই দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা তাদের সাংগঠনিক বিভাগের জেলা-উপজেলায় নেতাদের দ্রুত সম্মেলন ও যেখানে কমিটি হয়নি, সেগুলো দ্রুত করার কথা বলছেন।
অন্যদিকে গত ১০ ফেব্রুয়ারি গণভবনে আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিভেদ ভুলে দলের নেতাকর্মীদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে তৃণমূলে কোনোরকম সংঘাত আমি চাই না। আর যারা এর সঙ্গে জড়িত থাকবেন, সে যেই হোক, তার বিরুদ্ধে কিন্তু ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নির্বাচনে কেউ জয়ী হয়েছেন, কেউ জয়ী হতে পারেননি। কিন্তু কিছু ভোট তো পেয়েছেন। নির্বাচনে স্বতন্ত্র-দলীয় করতে গিয়ে অনেকেরই মন কষাকষি হয়েছে। সেটা এখন ভুলে যেতে হবে। কোথাও কোনো সমস্যা হলে কেন্দ্রীয় কমিটি সমাধান করবে। সবচেয়ে বড় হলো সংগঠন। দেশে সত্যিকার অর্থে তৃণমূল পর্যায়ে কোনো সংগঠন থাকলে সেটি আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনগুলো। আপনাদের নিজ নিজ সংগঠন এবং সহযোগী সংগঠনগুলোর কার্যক্রম যেন যথাযথভাবে হয়। কোনো জায়গায় কাউন্সিল না হয়ে থাকলে দ্রুত কাউন্সিল করে দেবেন।
অন্যদিকে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের এক যৌথসভায় দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্ধৃতি দিয়ে দলের সাধারণ স¤পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশনা দিয়েছেন, ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ, সহযোগী সংগঠনসহ জেলা-উপজেলার মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিগুলোর সম্মেলন খুব দ্রুত করতে হবে। যেসব জেলা-উপজেলার মেয়াদ শেষ হয়েছে, সেসবের সম্মেলন দ্রুত করতে হবে। পাশাপাশি গত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে নৌকা ও স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং তাদের সমর্থকদের মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে, সেগুলো নিরসনে আটটি সাংগঠনিক বিভাগীয় টিমকে উদ্যোগ নিতে হবে। তৃণমূলের নেতাদের ঢাকায় ডেকে এনে কোথাও কোনো দ্বন্দ্ব যেন না থাকে সেটি মিটিয়ে ফেলতে হবে। যারা দ্বন্দ্ব টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করবে, তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সংগঠন সংগঠনের মতো করে চালাতে হবে। এ কাজগুলো রমজানের মধ্যে করা যেতে পারে।
আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, দীর্ঘদিন দল ক্ষমতায় থাকলে সংগঠনে শিথিলতা দেখা দেয়। এই শিথিলতা থেকে উত্তরণের জন্যই মূলত আওয়ামী লীগের দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী তৃণমূলকে শক্তিশালী করার নির্দেশনা দিয়েছেন। বিএনপি-জামায়াত দেশে আন্দোলন সংগ্রাম কতটুকু করতে পারবে তা জানি না। তবে যেকোনো অরাজক পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য দলের তৃণমূলকে শক্তিশালী করার বিকল্প নেই। ইতিমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে। যেহেতু সামনে রমজান মাস। এরপর উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। তাই উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের পরই মূলত আমরা সম্মেলন ও কমিটিগুলো করতে চাই। কারণ এখন করতে গেলে সমস্যা আরও জটিল হবে। নেতায় নেতায় দ্বন্দ্ব আরও বাড়তে পারে। যেহেতু উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নৌকা প্রতীক তুলে দিয়েছে। তাই যে যার মতো নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। তিনি হতে পারেন, আওয়ামী লীগ বা সহযোগী সংগঠনের নেতা।
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ স¤পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, আওয়ামী লীগ অনেক বড় সংগঠন। তবে কিছু জেলা, উপজেলা, মহানগর ও পৌর আওয়ামী লীগের সম্মেলন হয়নি। আর কোথাও কোথাও সম্মেলন হলেও কমিটি হয়নি। আর কমিটি হলেও পূর্ণাঙ্গ হয়নি। তাই সম্মেলন ও কমিটি দ্রুত দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। কারণ দলকে তৃণমূল পর্যায় থেকে নতুন করে সংগঠিত করা হচ্ছে। তৃণমূল পর্যায়ের নেতাদের ঢাকায় ডেকে বা এলাকায় গিয়ে সমাধান করা হবে। গত জাতীয় নির্বাচনের কারণে সাংগঠনিক কাজে তেমন গতি ছিল না। দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন তৃণমূলকে শক্তিশালী করতে। এ কাজে সবাই নেমে পড়েছেন।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com