1. [email protected] : admin2017 :
  2. [email protected] : Sunam Kantha : Sunam Kantha
মঙ্গলবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১১:১৬ অপরাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01711-368602

কম মূল্যে রাণীগঞ্জ বাজার ইজারা কার স্বার্থে?

  • আপডেট সময় রবিবার, ৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪

মো. শাহজাহান মিয়া ::
জগন্নাথপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী রাণীগঞ্জ বাজারটি এবার কম মূল্যে ইজারা প্রদান করা হয়েছে। এতে প্রত্যাশিত রাজস্ব প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হয়েছে সরকার। ইজারা নিতে আগ্রহীদের অভিযোগ, অনেকটা চুপিসারে বাজারের ইজারা আহ্বান করা হয়েছিল। এ জন্য নিলামে অংশগ্রহণ করতে পারেননি অনেক আগ্রহী ইজারাদার। তাই পুনরায় দরপত্র আহ্বানের জন্য তারা সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক বরাবরে আবেদন করা হয়েছে।
জানাগেছে, জগন্নাথপুর হাট-বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটি কর্তৃক প্রতি বছর সরকারিভাবে দরপত্র বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে উপজেলার সকল হাট-বাজার ইজারা প্রদান করা হয়ে থাকে। প্রতি বছরের মতো এবারো উপজেলার ২৯টি হাট-বাজার ইজারা প্রদানের লক্ষ্যে দরপত্র আহ্বান করা হয়। এর মধ্যে উপজেলার রাণীগঞ্জ বাজারটি ১৪৩১ বাংলা সনের জন্য ৪৭ লাখ টাকায় ইজারা প্রদান করা। যা গত বছর ১৪৩০ বাংলা সনে রাণীগঞ্জ বাজারটি ৫৯ লাখ টাকায় ইজারা দেয়া হয়েছিল। এবার আরো বেশিমূল্যে ইজারা যাওয়ার কথা থাকলেও কমমূল্যে ইজারা প্রদানে জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। ইজারা অংশ নিতে না পারা আগ্রহী ব্যক্তিরা জানান, অপেক্ষাকৃত কমমূল্যে এবার ইজারা প্রদান করা হয়েছে। এতে কমপক্ষে ১৩ লাখ টাকা রাজস্ব প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হয়েছে সরকার।
এদিকে, সর্বোচ্চ সরকারি রাজস্ব প্রদানের চ্যালেঞ্জ জানিয়ে রাণীগঞ্জ বাজার ইজারা নিতে আগ্রহী মো. আজমল হোসেন পুরনায় দরপত্র আহবানের জন্য গত ১ ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক বরাবরে লিখিত আবেদন করেন। যাতে ইজারামূল্যের ২৫ ভাগ হিসেবে অগ্রিম ব্যাংক পে-অর্ডারের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে ১২ লাখ টাকা জমা করে দিয়েছেন। পুনরায় দরপত্র আহ্বান করা হলে বেশি ইজারামূল্যে বাজার ইজারা নিতে তিনি অংশগ্রহণ করবেন। এতে বেশি মূল্যে ইজারা না হলে অথবা তিনি ইজারায় অংশ না নিলে তার জমাকৃত ১২ লাখ টাকা বাজেয়াপ্ত করতে পারবেন কর্তৃপক্ষ। এমন অঙ্গীকার তিনি আবেদনপত্রে উল্লেখ করেন। দাখিলকৃত আবেদনের অনুলিপি বিভাগীয় কমিশনার সিলেট, পরিচালক স্থানীয় সরকার সিলেট, উপ-পরিচালক স্থানীয় সরকার সুনামগঞ্জ, উপজেলা চেয়ারম্যান জগন্নাথপুর ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জগন্নাথপুরের নিকট প্রদান করা হয়।
এ বিষয়ে আবেদনকারী আজমল হোসেন বলেন, কার স্বার্থে প্রত্যাশিত রাজস্ব প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হলো সরকার তা বুঝতে পারছি না। গত বছর ৫৯ লাখ টাকায় রাণীগঞ্জ বাজার ইজারা গেলেও এবার মাত্র ৪৭ লাখ টাকায় ইজারা প্রদানের বিষয়টি জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে। বহুল প্রচারের অভাবে আমিসহ অন্যান্য আগ্রহীরা বাজার ইজারা বিষয়ে জানতে পারেননি। শুধু তাই নয়, এবার একই ব্যক্তি বিভিন্ন নামে ৪৫, ৪৬ ও ৪৭ লাখ টাকা মূল্য দেখিয়ে টেন্ডার ড্রপ করেছেন। ব্যক্তিস্বার্থে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে যোগাযোগীমূলে এ ইজারা প্রদান করা হয়েছে। তাই অনেকটা নিরুপায় হয়ে প্রাপ্ত সরকারি রাজস্ব প্রদানের দাবিতে পুনরায় দরপত্র আহ্বানের জন্য আবেদন করেছি। যাতে অগ্রিম ১২ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে জমে করে দিয়েছি। পুনরায় দরপত্রে আমি অংশ না নিলে জমাকৃত টাকা বাজেয়াপ্ত করতে পারবেন কর্তৃপক্ষ।
এ বিষয়ে ইজারা নিতে আগ্রহী কয়েকজন জানান, পুনরায় দরপত্র আহ্বানসহ বহুল প্রচারের মাধ্যমে আগ্রহী সকল ইজারাদারগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হলে রাণীগঞ্জ বাজারটি এবার কমপক্ষে ৬০ লাখ টাকা থেকে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত ইজারামূল্যের সম্ভাবনা রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাণীগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান শেখ ছদরুল ইসলাম জানান, রাণীগঞ্জ বাজার ইজারার বিষয়টি আইনগতভাবে যা হয়, আমি সমর্থন করি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাজার বেশি মূল্যে ইজারা হলে আমার পরিষদও বেশি ট্যাক্স পাবে। তবে প্রতিযোগিতামূলক অতিরিক্ত মূল্যে আনতে গিয়ে অনেক সময় ক্ষতির শিকার হতে হয়।
জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল-বশিরুল ইসলাম বলেন, রাণীগঞ্জ বাজার ইজারার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। আগামী সোমবারের মধ্যে সিদ্ধান্ত হতে পারে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যে কেউ রি-টেন্ডারের আবেদন করতে পারেন।
জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও হাট-বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি নূরুল ইসলাম বলেন, রাণীগঞ্জ বাজার ইজারা সংক্রান্ত রি-টেন্ডারের আবেদনের অনুলিপি পেয়েছি। আগামী সভায় আইনগত ব্যবস্থা নিতে চেষ্টা করবো।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com