1. [email protected] : admin2017 :
  2. [email protected] : Sunam Kantha : Sunam Kantha
বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৯:৪৪ পূর্বাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01711-368602

সুতরাং সাধু সাবধান

  • আপডেট সময় রবিবার, ২৮ জানুয়ারী, ২০২৪

পত্রিকান্তরে সংবাদ ছাপা হয়েছে : কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুস শহীদ বলেছেন যে, দেশের মানুষের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কাজ করে যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সব মানুষের খোঁজখবর রাখেন। চা শ্রমিকদের প্রধানমন্ত্রী খুবই ভালোবাসেন, তাদের মজুরি বৃদ্ধি করেছেন। বর্তমান সরকার কৃষকের উন্নয়নে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, সরকারি কর্মকর্তারা জনগণের সেবক, কৃষকের সেবক। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের ইতোমধ্যে তিনি নির্দেশনা দিয়েছেন, কোনও কৃষক যাতে কষ্ট না পায়, সরকারি সেবা থেকে বঞ্চিত না হয়।
এবংবিধ কথাকে কারও কারও কাছে মনে হতে পারে বিশেষ কোনও সভায় সমবেত হওয়া মানুষের মনভুলানো রাজনৈতিক নেতার কথা, যা সচরাচর রাজনীতিক নেতারা বলতে হয় বলে বলে থাকেন। কিন্তু বিদগ্ধমহলের ধারণা, এই সহজ কথাগুলোই বাংলাদেশের সমৃদ্ধি তথা সামগ্রিক বিবেচনায় সাধারণ মানুষের জীবনের সুখ-শান্তি ও মেধা বিকাশের মূল কথা। কিন্তু কোনও কালেই রাষ্ট্রক্ষমতার কেন্দ্রমূলে অবস্থানকারী রাজনীতিক নেতৃত্বের এবংবিধ কথা বা নির্দেশনা ব্যতিক্রমবাদে মাঠপর্যায়ে সচরাচর কার্যকর হয় না।
ইতিহাসের সত্য এই যে, প্রশাসনের কোথাও না কোথাও অন্তর্ঘাতক (সাবোতাজকারি) কেউ না কেউ বসে থাকে এবং নবাব সিরাজউদদৌলার, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের কিংবা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আদেশ, নির্দেশ এমনকি প্রচলিত আইন অমান্য করার সংস্কৃতিচর্চা অব্যাহত রাখে। এতে করে নির্দিষ্ট রাজনীতিক লক্ষ্য অর্জনে রাষ্ট্র ব্যর্থ হয় এবং দেশ ও দেশের মানুষের জন্য দুর্গতিভোগা ভিন্ন আর কীছুই অবশিষ্ট থাকে না।
একদা ১৭৫৭ সালে ইংরেজরা ভারতকে ফরাসিশূন্য করার লক্ষ্যে ফরাসিদের প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র চন্দননগর দখলের প্রয়াস পায়। নবাব সিরাজউদদৌলা হুগলির ফৌজদার নন্দকুমারকে ইংরেজদের প্রতিরোধ করার নির্দেশ দেন। নন্দকুমার সে-নির্দেশ অমান্য করেন। যথারীতি ইংরেজরা চন্দননগর অধিকার করে ফরাসিদের তাড়িয়ে দেয়। সে-সময়ে রায়দুর্লভ, মানিকচাঁদ ও নন্দকুমারের অধীনে ২০ হাজার সৈন্য ছিল। নবাবেব নির্দেশ মান্য করা হলে ইংরেজদের প্রতিরোধ করা যেতো। কিন্তু তা হয় নি। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ঐতিহাসিকদের অভিমত এই যে, তখন ইংরেজদের প্রতিরোধ করা গেলে ভারতবর্ষের ইতিহাস অন্যরকম হতে পারতো, ইংরেজদের ভারতবর্ষ দখলের স্বপ্ন অঙ্কুরেই বিনষ্ট হতো এবং বোধকরি ভারতের মানুষকে পৌনে দুই শত বছরের পরাধীনতার স্বাদ গ্রহণ করতে হতো না। অধঃস্তনের পক্ষে রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের আদেশ না মানার পরিণতি এমনই ভয়াবহ।
রাষ্ট্রকেন্দ্রের আদেশ-নির্দেশ মাঠপর্যায়ে সচরাচর অমান্য করা হলে যে-রাজনীতিক ভুল হয় সে-ভুল দেশের জন্য, দেশের সাধারণ মানুষের জন্য সব সময়েই দুঃখ-দুর্দশার উৎস হয়ে উঠে। মজুরি বাড়লে, নির্দেশ না মেনে নিত্যপণ্যের মজুদ বাড়ে, মানুষের কষ্ট দূর হয় না কিংবা উপরওয়ালা রাজনীতিকের আদেশ না মেনে সরকারি কর্মকর্তারা জনতা-কৃষকের সেবক না হয়ে প্রভু হয়ে উঠেন এবং দুর্নীতি বাড়তে থাকে, জনতা-কৃষকের কষ্ট বাড়ে, তাঁরা সরকারি সেবা থেকে বঞ্চিত হন প্রতিনিয়ত। অপরদিকে কাঠামোগত সহিংসতার শিকার কৃষক কখনওই উৎপাদন খরচের বেশি দামে তাঁর উৎপাদিত ধান বাজারে বিক্রি করতে পারেন না, প্রকারান্তরে প্রতিবছর তাঁর লোকসান হতেই থাকে, ঠেকানোর কোনও ব্যবস্থা নেই।
সুতরাং দেশ-সমাজ-রাষ্ট্রস্বার্থ অর্থাৎ জনস্বার্থে নির্দেশিত রাষ্ট্রনীতিক নির্দেশনা, আদেশ, পরামর্শ ও বিশেষ করে প্রচলিত আইন অমান্যের বিরুদ্ধে রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসীন রাজনীতিকদের কঠোর হতে হবে, জনস্বার্থে করা আদেশ অমান্যকারির অপরাধের বিচার করে যথোপযুক্ত দ- দিতে হবে, ছাড় দিলে চলবে না। এবংবিধ অপরাধীকে অবশ্যই দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিতে হবে। অন্যথায় ভাষণমঞ্চের প্রতিশ্রুতি প্রতারণায় পর্যবসিত হওয়ার দুর্ভাগ্যকে কীছুতেই প্রতিহত করা যাবে না, প্রকারান্তরে রাজনীতিক ব্যর্থতার দায় নিয়ে ক্ষমতা থেকে সরে পড়তে হবে। ভুলে গেলে চলবে না, এমন ঘটনা বাংলাদেশের ইতিহাসে বিরল কোনও কীছু নয়। সুতরাং সাধু সাবধান।

 

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com