1. [email protected] : admin2017 :
  2. [email protected] : Sunam Kantha : Sunam Kantha
শুক্রবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১২:৩৮ পূর্বাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01711-368602

বিএনপির রাজনৈতিক অপকৌশল ও মিথ্যাচার : প্রফেসর ড. ওমর ফারুক মিয়াজী

  • আপডেট সময় শনিবার, ২৭ জানুয়ারী, ২০২৪

বিএনপি অবৈধভাবে গঠিত একটি রাজনৈতিক দল। এই রাজনৈতিক দলটি সামরিক শাসক জেনারেল জিয়াউর রহমান এর হাতে গঠিত হয়েছিল। অবৈধ প্রক্রিয়ায় সেনাকুঞ্জ হতে গঠিত দলটির মূল উদ্দেশ্য ছিল মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী সকল সুবিধাবাদীদের কে একত্রিতকরণ। যেই দল অবৈধভাবে গঠন, স্বাধীনতাবিরোধীদের একত্রিতকরণ এবং কোন সৎ উদ্দেশ্যবিহীন তৈরি হয়েছিলো সে দল হতে আমরা কখনই ভাল কিছু আশা করতে পারি না। জেনারেল জিয়া কর্তৃক গঠিত বিএনপি ‘হ্যাঁ’ এবং ‘না’ ভোটের মাধ্যমে প্রথম ক্ষমতাকে হস্তগত করে নিয়েছিলো। এর মাধ্যমে তারা গণতান্ত্রিক ধারাকে হত্যা করেছিল। বিএনপি গঠনের পরপরেই ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করার মাধ্যমে পূর্বের সকল বিচার কাজ স্থগিত করে বাংলাদেশে এক ধরনের বিচারহীনতার সংস্কৃতি কায়েম করেছিলেন। এর প্রেক্ষিতে বুঝা যায় যে, বিএনপি একটি অগণতান্ত্রিক ক্ষমতা লোভী এবং ক্ষমতার অপব্যবহারকারী একটি দল।
১৯৯১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এসে হাওয়া ভবন তৈরির মাধ্যমে দেশের স¤পদকে নিজেদের কাছে কুক্ষিগত করে এবং অযোগ্য মানুষকে ক্ষমতায়ন করে দেশের রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। পরবর্তীতে ২০০১ সালের নির্বাচন পরবর্তী বিরোধী দলের অনেক বর্ষীয়ান নেতাকর্মীদের হত্যা, অমানবিক নির্যাতন করাসহ নানা ধরনের দেশবিরোধী কাজে লিপ্ত ছিলেন। তাছাড়াও, ‘বাংলা ভাই’ নামক ব্যক্তি তৈরি করে তাদের হাতে দেশের আইন-শৃঙ্খলার কাজটি তুলে দেন যার ফলে দেশের আইনি কাঠামো মারাত্মকভাবে ধ্বংস হয়েছিল। ঐ সময়ে তারা ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী সংগঠন জামায় ইসলামের সাথে জোট করেছিল এবং তাদেরকে ক্ষমতা ভাগাভাগির মাধ্যমে সরকারের মন্ত্রিসভায় নিয়ে আসার মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতাকে অপমান করেছিল। যার প্রেক্ষিতে ২০০৮ সালের নির্বাচনে তারা বিপুল ভোটে পরাজিত হয়। বিগত সময়েও বিএনপি ক্ষমতায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে অবরোধ ও হরতাল নামক ধ্বংসাত্মক কাজে লিপ্ত ছিলেন এবং বর্তমানেও একই ধারায় চলমান রয়েছে। তাছাড়াও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য তারা নিয়মিতভাবে মিথ্যা প্রচারণা, ধর্মকে হাতিয়ার এবং সস্তা বুলির মাধ্যমে জনগণকে একত্রিত করার চেষ্টা করে নিজেদের উদ্দেশ্য হাসিল করে। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বেই তারা একই ধারায় হরতাল অবরোধ করেছেন কিন্তু জনগণ এর সাথে একমত পোষণ করে নাই। যার ফলে হরতাল অবরোধ মোটেও কার্যকর ছিল না। তাই তারা ভয়ভীতি দেখানোর উদ্দেশ্যে জনগণের জানমালের অতর্কিত হামলা, গাড়ি পোড়ানো, বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় স¤পদ পোড়ানো ও ক্ষতি করার মাধ্যমে জনগণের মনে ভীতি তৈরি করে। তাছাড়াও তারা বাংলাদেশের সবচেয়ে সুন্দর ও সু-সংগঠিত বাহিনী বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর সদস্যকে পিটিয়ে হত্যার মাধ্যমে এক পৈশাচিক কর্মে লিপ্ত হয়েছিল।
তাছাড়াও নির্বাচনের কয়েকদিন পূর্বেও কয়েকবার বাংলাদেশ রেলওয়ের কাঠামোকে আঘাত হানে আগুন দেয় যাহার মাধ্যমে ঘুমন্ত মানুষকে পুড়িয়ে মেরে দেশের জনগণকে সর্বোচ্চ ভীতি প্রদর্শন করাসহ ভোট কেন্দ্রে না আসার পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। এই কাজগুলো ছিল মারাত্মকভাবে দেশবিরোধী, মানুষের স্বাধীনতার পরিপন্থী এবং উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে দেশকে অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করারই নামান্তর।
সাথে সাথে তারা বিদেশের বিভিন্ন জায়গায় লবিস্ট নিয়োগের মাধ্যমে দেশের নির্বাচন না করতে দেওয়ার জন্য উঠে পড়ে লেগেছিল। কারণ তারা বুঝতে পেরেছিল যে, ভোটের মাধ্যমে তারা কখনও ক্ষমতায় যেতে পারবে না। জনগণ তাদেরকে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং তাদের কোন নির্দেশনা মানছে না।
নির্বাচনের পূর্ববর্তীতে তারা চেয়েছিল দেশে কোন নির্বাচন না হোক, এর জন্য জনগণকে ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার উৎসাহ করেছিল। এর দ্বারা বুঝা যায় যে, ক্ষমতার পালা বদল গণতান্ত্রিক উপায়ে না হয়ে অগণতান্ত্রিক ভাবে হোক। এজন্যই তারা নির্বাচনে আসে নাই। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন কমিশনের সুন্দর নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় বিপুল ভোটে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার বিজয় হন। যা বিভিন্ন দেশ স্বীকৃতি দিয়েছেন যে, দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে স¤পন্ন হয়েছে এবং গড়ে প্রায় ৪২% জনগণ ভোট কেন্দ্রে এসে তাদের পছন্দের প্রতীককে ভোট দিয়েছেন। বর্তমানে বিএনপি রাজনৈতিক এবং আদর্শিকভাবে পরাজিত হয়ে এই নির্বাচনকে নিয়ে মিথ্যা প্রচার চালাচ্ছে এবং বিদেশি লবিস্টদের মাধ্যম নির্বাচন সঠিক হয়নি বলে চালানোর চেষ্টা করছে। যা অযৌক্তিক, মিথ্যাচার ও ভিত্তিহীন।
উপরোক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, বিএনপি অবৈধভাবে গঠিত একটি দল। তারা রাজনৈতিক সংস্কৃতি পরিপন্থী সুবিধাবাদী, মিথ্যা ও অপপ্রচারকারী, জনগণ ও দেশ বিরোধী একটি দল। যাদের প্রধান হাতিয়ার হলো- জ্বালাও পোড়াও, ক্ষমতা কুক্ষিগত করণ, ক্ষমতার অপব্যবহার, নিজের উদ্দেশ্য সাধনের জন্য ধর্মের ব্যবহার এবং অনৈতিকভাবে ক্ষমতায় যাওয়ার ফন্দি ফিকির করা। যাহা সুন্দর ও সুষ্ঠু রাজনৈতিক ধারার বিপরীত। তাই বলা যায় যে, জামায়াত ইসলাম যেভাবে যুদ্ধাপরাধী দল হিসেবে বাংলাদেশ থেকে রাজনীতি করার অধিকার হারিয়েছে। বিএনপিও ঠিক একই ধারায় রাজনৈতিক সাংস্কৃতিক পরিপন্থী কাজের মাধ্যমে এদেশে রাজনীতি করার যোগ্যতা হারিয়েছে। সুতরাং বিএনপি ও জামায়াতকে নিষিদ্ধ করা বর্তমানে বাংলাদেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই বাংলাদেশের সাধারণ জনগণ মনে করেন যে, বিএনপি ও জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার মাধ্যমে বাংলাদেশকে সুষ্ঠু ও সুন্দর ধারার রাজনীতি নিয়ে আসা এবং এদেশের উন্নয়ন ও জনগণের আশা আকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটানো সম্ভব।
[প্রফেসর ড. ওমর ফারুক মিয়াজী, জেনেটিক্স অ্যান্ড অ্যানিম্যাল ব্রিডিং বিভাগ, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়]

 

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com