1. [email protected] : admin2017 :
  2. [email protected] : Sunam Kantha : Sunam Kantha
বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৮:০৪ অপরাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01711-368602

এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজের শিক্ষকদের রাজনীতি মানা

  • আপডেট সময় শুক্রবার, ২৬ জানুয়ারী, ২০২৪

সুনামকণ্ঠ ডেস্ক ::
বেসরকারি স্কুল-কলেজের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য চাকরিবিধি হচ্ছে। এর খসড়ায় এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের রাজনৈতিক আন্দোলনে অংশগ্রহণ, চাঁদা ও সমর্থন নিষিদ্ধ করে বিধান রয়েছে। এ ছাড়া কোনো বিষয়ে হস্তক্ষেপের অনুরোধ বা প্রস্তাব নিয়ে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সংসদ সদস্য বা বেসরকারি কোনো ব্যক্তির কাছে যেতে পারবেন না।
বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চাকরিবিধির এই খসড়া করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ। খসড়ায় অনুমোদন ছাড়া প্রাইভেট টিউশন নিষিদ্ধের কথাও বলা হয়েছে। মন্ত্রণালয় বলছে, চাকরিবিধি হলে শিক্ষক-কর্মচারীরা উপকৃত হবেন।
তবে শিক্ষকনেতাদের অনেকে বলছেন, রাজনীতি করার অধিকার না থাকলে তা হবে ইউনেসকো ও আইএলও সনদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
এমপিওভুক্তদের চাকরিবিধি স¤পর্কে জানতে চাইলে শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষা ও শিক্ষকবান্ধব সরকার। শিক্ষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন – এ রকম কোনো পদক্ষেপ নেবে না শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
এমপিও হলো ‘মান্থলি পে-অর্ডার’ বা মাসিক বেতন আদেশ, যার মাধ্যমে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা মাসে মূল বেতন ও কিছু ভাতা পান সরকার থেকে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সূত্র বলছে, সর্বশেষ জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনে এমপিওভুক্ত মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য সরকারি কর্মচারীদের মতো একটি বিধিমালা তৈরির প্রস্তাব দেন ঝিনাইদহের তৎকালীন ডিসি মনিরা বেগম। এরপর বিধিমালা তৈরির কাজ শুরু করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগ।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (মাধ্যমিক-২) মো. রবিউল ইসলাম গত সোমবার গণমাধ্যমকে বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা উন্নত করার উদ্দেশ্যে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য চাকরিবিধি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটা হলে শিক্ষক-কর্মচারীরা উপকৃত হবেন। বিষয়টি এখনো আলোচনা পর্যায়ে রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ৩০ জানুয়ারি এ বিষয়ে একটি কর্মশালা হওয়ার কথা রয়েছে। কর্মশালা থেকে আসা প্রয়োজনীয় সুপারিশ খসড়া বিধিমালায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এরপর চূড়ান্ত করে বিধিমালাটি জারি করা হবে।
বর্তমানে এমপিওভুক্ত স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ২৯ হাজার ১৬৪টি। এর মধ্যে স্কুল-কলেজ ২০ হাজার ৪৩৭ টি, বাকিগুলো কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও মাদ্রাসা। এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-কর্মচারী আছেন সাড়ে ৫ লাখের মতো।
জানা গেছে, খসড়া বিধিমালায় এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য সাধারণ আচরণ ও শৃঙ্খলা শিরোনামে ১০টি বিধি রয়েছে। এর একটিতে বলা হয়েছে, ‘কোনো রাজনৈতিক আন্দোলনে অংশগ্রহণ করবেন না, এর সাহায্যে চাঁদা দেওয়া বা অন্য কোনো উপায়ে এর সহায়তা করবেন না এবং প্রতিষ্ঠানের স্বার্থের পরিপন্থী কোনো কার্যকলাপে নিজেকে জড়িত করবেন না।’ আরেক বিধিতে আছে, কোনো বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার জন্য কোনো অনুরোধ বা প্রস্তাব নিয়ে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কোনো সংসদ সদস্য বা অন্য কোনো বেসরকারি ব্যক্তির দ্বারস্থ হতে পারবেন না।
প্রবীণ শিক্ষকনেতা কাজী ফারুক আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ ইউনেসকো ও আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) সনদ স্বাক্ষরকারী দেশ। সেখানে শিক্ষকদের রাজনীতি করার অধিকারের কথা বলা হয়েছে। সুতরাং আমাদের এমন কিছু করা যাবে না, যাতে এ দুই সংস্থার সনদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়।
খসড়া চাকরিবিধিতে আরও বলা হয়েছে, কোনো শিক্ষক নিজ নামে প্রকাশিত কোনো লেখায় অথবা জনসমক্ষে দেওয়া বক্তব্যে অথবা পত্রিকায় এমন কোনো বিবৃতি বা মতামত প্রকাশ করতে পারবেন না, যা সরকারকে অস্বস্তিকর অবস্থায় ফেলতে পারে। একই সঙ্গে সাধারণ জনগণের মধ্যে অসন্তোষ বা অপ্রীতিকর মনোভাব সৃষ্টি হতে পারে, এমন বিতর্কিত ধর্মীয় বিষয়ে অংশগ্রহণ না করতেও বলা হয়েছে।
খসড়ায় কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া শিক্ষকদের প্রাইভেট টিউশন বা অন্য যেকোনো নিয়োগ নিষিদ্ধের কথাও বলা হয়েছে। অদক্ষতা, পেশাগত অসদাচরণ, দুর্নীতি, নৈতিক স্খলন, রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নাশকতাসহ বিভিন্ন অপরাধে কী ধরনের শাস্তি হতে পারে তাও খসড়ায় উল্লেখ করা হয়েছে। শাস্তির মধ্যে রয়েছে তিরস্কার, ইনক্রিমেন্ট স্থগিত, চাকরি থেকে অপসারণ বা বরখাস্ত ইত্যাদি।
এ ছাড়া খসড়ায় শিক্ষক-কর্মচারীদের বিমা কো¤পানির এজেন্ট, কোনো ব্যবসা বা খ-কালীন কাজে যুক্ত না হতে এবং অভ্যাসগত ঋণগ্রস্ততা পরিহার করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে সংবাদপত্র বা কোনো গণমাধ্যমে যোগাযোগ এবং প্রতিষ্ঠানপ্রধানের মাধ্যম ছাড়া ব্যক্তিগত বিষয়ে শিক্ষা বোর্ডের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে নিষেধ করা হয়েছে।
খসড়ায় রয়েছে, কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে কারণ দর্শাতে হবে। জবাবে সন্তুষ্ট না হলে কর্তৃপক্ষ তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করবে। কমিটিতে জেলা সদরের ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসক (ডিসি) বা তাঁর প্রতিনিধি, উপজেলার ক্ষেত্রে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বা তাঁর প্রতিনিধি, অভিভাবক প্রতিনিধি এবং একজন শিক্ষককে রাখতে হবে।
খসড়া চাকরিবিধিতে বলা হয়েছে, শিক্ষক-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি বা দেওয়ানি মামলা হলে কর্তৃপক্ষ একান্ত প্রয়োজন মনে করলে সাময়িক বরখাস্ত করতে পারবে। সাময়িক বরখাস্তকালীন বেতনের অর্ধেক খোরপোশ পাবেন। এ ছাড়া কোনো অভিযোগ আদালতের রায়ে মিথ্যা প্রমাণিত হলে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া ব্যক্তিকে বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ করতে হবে।
এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য চাকরিবিধির পদক্ষেপকে সমর্থন করেন সাবেক শিক্ষাসচিব নজরুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের জন্য চাকরি বিধিমালা রয়েছে। বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরাও সরকার থেকে অর্থ পান। তাহলে তাঁদের জন্য কেন থাকবে না? অনেকেই রাজনৈতিক উদ্দেশে প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার করেন, এতে পড়াশোনা বিঘিœত হয়। সুতরাং আমি মনে করি, এ ক্লজ অবশ্যই যৌক্তিক।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com