1. [email protected] : admin2017 :
  2. [email protected] : Sunam Kantha : Sunam Kantha
মঙ্গলবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১০:১৩ অপরাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01711-368602

কৃষকের পক্ষে মানববন্ধন করায় হাওর আন্দোলনের নেতাকে শাসালেন ইউএনও!

  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ২৫ জানুয়ারী, ২০২৪

স্টাফ রিপোর্টার ::
জামালগঞ্জের উদ্বিগ্ন কৃষকের পক্ষে সংহতি জানিয়ে হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ দ্রুত শুরু করে যথাসময়ে শেষ করার দাবিতে মানববন্ধন করায় হাওর বাঁচাও আন্দোলনের নেতাকে ডেকে নিয়ে শাসিয়েছেন জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার এমন ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন হাওর বাঁচাও আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ।
গতকাল বুধবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুরে জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা তার কার্যালয়ে জামালগঞ্জ হাওর বাঁচাও আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক অঞ্জন পুরকায়স্থকে ডেকে নিয়ে জামালগঞ্জ উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে গত ১৭ জানুয়ারি কেন মানববন্ধন করলেন এ বিষয়ে জানতে চান এবং তাকে শাসিয়ে আগামীর জন্য সতর্ক করে দেন।
উল্লেখ্য, গত ১৭ জানুয়ারি হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম, বাঁধের কাজ শুরু না হওয়ার প্রতিবাদে জেলার ১২টি উপজেলায় হাওর বাঁচাও আন্দোলন একযোগে মানববন্ধন করেছিল।
জানা গেছে, বুধবার দুপুরে জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে জামালগঞ্জ হাওর বাঁচাও আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক অঞ্জন পুরকায়স্থকে ডেকে পাঠান জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা। উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে ওইদিন মানববন্ধন করায় অঞ্জন পুরকায়স্থকে শাসান তিনি এবং ভবিষ্যতের জন্য সতর্ক করে দেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাওর বাঁচাও আন্দোলনের নেতা অঞ্জন পুরকায়স্থকে বলেন, ওইদিনের মানববন্ধনের বাঁধসংক্রান্ত তথ্যগুলো মিথ্যা। কেন এমন করা হলো, তার কৈফিয়ত ও ব্যাখ্যা চান তিনি। এসময় অঞ্জন পুরকায়স্থ উপজেলায় হাওরের বাঁধের কাজে নানা অনিয়ম তুলে ধরলে তিনি এগুলোকে প্রত্যাখ্যান করে অঞ্জন পুরকায়স্থকে আগামীর জন্য সতর্ক করে দেন। পাশাপাশি আর যেন মানববন্ধন না হয় সে বিষয়েও নির্দেশনা দেন।
জামালগঞ্জ উপজেলা হাওর বাঁচাও আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক অঞ্জন পুরকায়স্থ বলেন, আমি কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বানে জামালগঞ্জ উপজেলায় হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার দাবি জানাই। মানববন্ধনে কৃষকরা নানা অনিয়ম তুলে ধরেন। গত মঙ্গলবার রাতে ইউএনও মো. মাসুদ রানার পিএস আমাকে ফোন দিয়ে বুধবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে দেখা করতে বলেন। কথামতো ইউএনও অফিসে গেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদ রানা আমাকে ১৭ জানুয়ারি জামালগঞ্জে হাওর বাঁচাও আন্দোলনের ব্যানারে কেন মানববন্ধন করা হলো ব্যাখ্যা ও কৈফিয়ত চান। পরে আমাকে পরবর্তীতে এমন মানববন্ধন না করার জন্য শাসিয়ে সতর্ক করেন।
এ ব্যাপারে জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদ রানা বলেন, তারা মিথ্যে অভিযোগ দিয়ে মানববন্ধন করেছে। আমি তাকে ডেকেছিলাম। ডেকে বলেছি আমার জামালগঞ্জ উপজেলায় হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ এখন পর্যন্ত ৫০ ভাগ শেষ। কিন্তু মানববন্ধনে তারা বলেছেন, ১ মাসের মধ্যে কাজই নাকি শুরু হয়নি। এটি একজন উপজেলা প্রশাসকের জন্য বিভ্রান্তিকর। আমি নিজের হাতে কাজের উদ্বোধন করেছি এবং কাজ শুরু করে দিয়ে এসেছি। সেখানে মিথ্যে তথ্য দিয়ে মানববন্ধন করা ঠিক হয়নি। এই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরও বলেন, মানববন্ধনে হাওরে বাঁধে পিআইসি গঠনে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন। কিন্তু আজকে পর্যন্ত একটা মানুষও আমার কাছে এসে কোন অভিযোগ করেনি। আমি নিজে বলেছি কেউ যদি পিআইসির জন্য টাকা নিয়ে থাকে তাহলে আমাকে নাম দেন, ওর কান ধরে আমি টাকা ফিরিয়ে দেব।
এদিকে এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে হাওর বাঁচাও আন্দোলন কেন্দ্রীয় কমিটি। ইউএনও’র এই আচরণ স্পষ্টত কৃষকদের জন্য হুমকি বলে মনে করে সংগঠনটি।
হাওর বাঁচাও আন্দোলন কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিজন সেন রায় বলেন, বাঁধের কাজে ধীরগতি নিয়ে আমরা শঙ্কিত। আমার সংগঠনের নেতাকর্মীরা প্রতিদিনই বাঁধে বাঁধে যাচ্ছেন এবং বাঁধের বাস্তব চিত্র তুলে প্রশাসনকে অবগত করছেন। কিন্তু সময়মতো বাঁধের কাজ শুরু না হওয়ায় জেলাব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছিলাম। এই জেরে জামালগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনগণের চাকরিজীবী হয়ে আমাদের নেতাকে ডেকে নিয়ে এভাবে শাসানোর অধিকার রাখেন না। তার এমন আচরণ ঔদ্ধত্যপূর্ণ। একইসাথে অনিয়ম ও দুর্নীতিকে আশ্রয় দেওয়ার শামিল।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com