1. [email protected] : admin2017 :
  2. [email protected] : Sunam Kantha : Sunam Kantha
বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৭:৩৯ অপরাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01711-368602

পিআইসি গঠনে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ

  • আপডেট সময় বুধবার, ২৪ জানুয়ারী, ২০২৪

স্টাফ রিপোর্টার ::
শান্তিগঞ্জ উপজেলার পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়নে হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের কাজে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) গঠনে ইউপি চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলাম রাইজুলের বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। ইউনিয়নের খাই হাওরে ৩১ ও ৩৩ নং প্রকল্পে তার আপন ভাই প্রাক্তন ইউপি সদস্য মহিবুর রহমান, আপন ভাগ্নে কোহিনুর মিয়া ও ‘কথিত’ ব্যক্তিগত সহকারী মিলাদ হোসেন সাদ্দামকে দিয়ে প্রকল্প গঠন করেছেন তিনি। এদিকে, সাদ্দাম হোসেনকে পিআইসি থেকে বাদ দিতে ইতোমধ্যে ইউএনও বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেছেন ২৩ কৃষক, ৭ ইউপি সদস্যসহ ৩০ জন। সোমবার জমা দেওয়া এই অভিযোগপত্রে তারা উল্লেখ করেন, খাই হাওরের ৩১ নং পিআইসি কমিটির সাধারণ স¤পাদক করা হয়েছে মিলাদ হোসেন সাদ্দামকে। তাকে ২০২২-২৩ সালে প্রকল্পের কাজে অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে পিআইসি থেকে অব্যাহতি দেন তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।
অভিযোগকারীরা বলেন, এবছরও ইউনিয়নের পিআইসি কমিটি গঠনের গণশুনানিতে স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ ও কৃষকরা তাকে অযোগ্য ব্যক্তি হিসাবে মত প্রকাশ করেন। তাকে পিআইসিতে রাখায় ৩১নং প্রকল্প ঝুঁকির মধ্যে থাকবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন অভিযোগকারীরা। এছাড়াও অভিযোগ আছে, ইউপি চেয়ারম্যান তার ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে নিজের লোকদের দিয়ে এই দুই কমিটি গঠন করেছেন।
অনুসন্ধানে জানাযায়, পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়নের খাইহাওরের ৩১ ও ৩৩ নং পিআইসি গঠনে স্বজনপ্রীতি করেছেন ইউপি চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলাম রাইজুল। ৩৩নং পিআইসি কমিটিতে সভাপতি করা হয়েছে প্রাক্তন মেম্বার সহিবুর রহমানকে। যিনি ইউপি চেয়ারম্যানের আপন ছোটভাই। ১২৬ মিটার জায়গার এই প্রকল্পের বিপরীতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৩ লক্ষ ১ হাজার টাকা। একই হাওরের ৩১নং পিআইসিতে সভাপতি করা হয়েছে ইউপি চেয়ারম্যানের আপন ভাগ্না মো. কোহিনুর মিয়াকে। এই প্রকল্পের সাধারণ স¤পাদক করা হয়েছিলো সাবেক ইউপি সদস্য রায়েল আহমদকে। অজ্ঞাত কারণে রায়েলকে সরিয়ে নিজের ‘কথিত’ পিএস মিলাদ হোসেন সাদ্দামকে সাধারণ স¤পাদক করেন ইউপি চেয়ারম্যান। ৩১ নং প্রকল্পের ১ হাজার ৩৫ মিটার জায়গার বিপরীতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৮ লক্ষ ৪৮ হাজার টাকা।
পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়নের জামখলার হাওর অংশের সলফ গ্রামের কৃষক নূরুল ইসলাম। এ হাওরে প্রায় ২ একর বোরো জমি আছে তাঁর। অপর কৃষকের নাম আবদুল মতিন। তাঁর বাড়ি উমেদনগর গ্রামে। খাইহাওরে প্রায় ২ একর জমি আছে তাঁরও। তাঁরা বলেন, আমাদের রিজিক নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হচ্ছে। পানি আসলে কৃষকরা নিজেরা মাটি কেটে বাঁধ রক্ষা করতে হয়। এসব বাঁধ নিয়ে যখন স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠে তখন খুব খারাপ লাগে। এটা নিশ্চিত যে স্বজনপ্রীতি হলে ফসলরক্ষা বাঁধে ঠিক মতো কাজ হবে না। আমাদের ফসল হারানোর শঙ্কা থাকবে। আমাদের দাবি, যেভাবেই হোক, বাঁধের কাজ যেনো ঠিক সময় ও সুষ্ঠুভাবে স¤পন্ন হয়।
পূর্ব বীরগাঁও ইউপির ৭নং ওয়ার্ডের সদস্য জোবায়ের আহমদ ও ৬নং ওয়ার্ডের সদস্য দিদারুল হক দিদার বলেন, প্রকৃত কৃষক ছাড়া ক্ষমতাবলে ভাই, ভাগ্না ও নিজের লোক সাদ্দামকে দিয়ে দুইটি প্রকল্পের কমিটি গঠন করেছেন। অথচ বাঁধের কোনো ক্ষতি হলেই আমাদের দৌড়াতে হয় বাঁধে বাঁধে। এটা স্বজনপ্রীতি। প্রাক্তন ইউপি সদস্য রায়েল মিয়ার নাম বাদ দিয়ে সাদ্দামের নাম ঢুকিয়েছেন চেয়ারম্যান।
রায়েল মিয়া বলেন, স্বজনপ্রীতি করে চেয়ারম্যান সাহেব বাঁধের টাকা পকেটে নেয়ার পাঁয়তারা করছেন। হাওরে আমার নিজের প্রায় ৬ একর জমি আছে। আমি এর আগেও কাজ করেছি। আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই। ওয়ার্ক অর্ডার পাওয়ার পরেও কোন কারণে আমার নাম বাদ দেওয়া হয়েছে আমার জানা নেই। অন্যায়ভাবে আমাকে বাদ দিয়ে তার পিএসকে কমিটিতে দিয়েছেন।
মিলাদ হোসেন সাদ্দামকে তার পিএস নয় দাবি করে পূর্ব বীরগাঁও ইউপির চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলাম রাইজুল বলেন, কমিটির ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না। এতে আমার কোনো স¤পৃক্ততা নেই। তারা (স্বজনরা) কৃষক, সেই যোগ্যতা বলে গণশুনানির মাধ্যমে তারা কমিটি পেয়েছেন। সাদ্দামের বিষয়ে আমি কোনো সুপারিশ করিনি।
শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুকান্ত সাহা বলেন, স্বজনপ্রীতির বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। সাদ্দামের বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। তাকে বাদ দিয়ে অন্য কাউকে দিয়ে দেবো।

 

 

 

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com