1. [email protected] : admin2017 :
  2. [email protected] : Sunam Kantha : Sunam Kantha
মঙ্গলবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১০:৫৭ অপরাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01711-368602

হাওরে বোরো আবাদের ধুম

  • আপডেট সময় বুধবার, ৩ জানুয়ারী, ২০২৪

মো. শাহজাহান মিয়া ::
গত বছর বোরো ধানের বাম্পার ফলন হওয়ায় এবার জমি আবাদে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন হাওরপাড়ের কৃষকরা। প্রায় এক মাস ধরে জমি পরিচর্যা, জমিতে হাল দেয়া ও চারা রোপণসহ নানা কাজে ব্যস্ত সময় পার করেন কৃষক, শ্রমিক ও জমির মালিকেরা। তবে গত বছর বড় জাতের ধান সহ অন্যান্য ধানের বাম্পার ফলন হলেও ব্রি-২৮ ও ব্রি-২৯ জাতের ছোট ধানের ফলন ভালো হয়নি। যে কারণে এবার কৃষকেরা ব্রি-২৮ ও ২৯ জাতের ধান আবাদ না করে ভালো জাতের ধান আবাদ করছেন। সেই সঙ্গে গত বছর থেকে এবার আবাদি জমির পরিমাণও বেড়েছে। ফলে প্রকৃতি অনুকূলে থাকলে আগামী বৈশাখ মৌসুমে শতভাগ বাম্পার ফলন উঠবে কৃষকদের গোলায়।
সুনামগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছেন, জেলায় এবার বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লক্ষ ২৩ হাজার ২৪৫ হেক্টর জমি। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৩ লাখ ৭৬ হাজার ৮২০ টন ধান। চলতি বছরে সরকার প্রনোদনার মাধ্যমে ৫০ হাজার কৃষককে ১০ কেজি ডিএপি এবং ১০ কেজি এওপি সার বিতরণ করা হয়েছে। উপজেলা কর্মকর্তা ও মাঠ পর্যায়ে সহকারি কর্মকর্তা কৃষকের পাশে থেকে ভালো ধান উৎপাদনের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন।
এদিকে, জগন্নাথপুর উপজেলার সকল অনাবাদি পতিত জমি আবাদের আওতায় আনতে নানাভাবে কাজ করছে জগন্নাথপুর উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর। ফলশ্রুতিতে ইতোমধ্যে আমন ও শাক-সবজিতে অসংখ্য পতিত জমি আবাদের আওতায় এসেছে। পাশাপাশি বোরোতেও অনাবাদি অনেক জমি আবাদের আওতায় আসে। যা চাষাবাদ করা হয়েছে। জগন্নাথপুরে ধানসহ সব ধরনের ফলমূল ও শাক-সবজি উৎপাদনের মাধ্যমে কৃষি বিপ্লব ঘটাতে অত্যান্ত আন্তরিকতার সাথে কাজ করছে কৃষি অধিদপ্তর। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য জমি আবাদে কৃষকদের পুরনো সংস্কৃতি থেকে বের করে নিয়ে এসে আধুনিক প্রযুক্তিতে জমি আবাদে উৎসাহিত করা। কম খরচে অল্প জমিতে বেশি ফলন পেতে কৃষি প্রশিক্ষণ ও মাঠে-ময়দানে গিয়ে সরেজমিনে আধুনিক প্রযুক্তিতে জমি আবাদ শিখিয়ে দেয়া সহ নানামুখি পদক্ষেপ সফল হয়েছে। এছাড়া সরকারিভাবে উপজেলার সকল এলাকার প্রান্তিক দরিদ্র কৃষকদের বিনামূল্যে সার-বীজ সহ কৃষি উপকরণ সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে জমি আবাদে উৎসাহিত করা হয়। কৃষি অধিপ্তরের সহায়তা ও সঠিক পরামর্শে আমনে বাম্পার ফলন পেয়ে এখন বোরোতে বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষকেরা।
জগন্নাথপুর উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানাগেছে, গত বছর জগন্নাথপুর উপজেলার সবচেয়ে বড় নলুয়ার হাওর সহ সকল হাওর ও নন হাওর রকম ২০ হাজার ৩৪০ হেক্টর জমি আবাদ হয়েছিল। এবার নতুন করে আরো ৪৫ হেক্টর পতিত জমি আবাদের আওতায় এসেছে। ফলে নতুন করে সরকারি ভাবে জমি আবাদ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ হাজার ৩৮৫ হেক্টর জমি। আর উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে এক লাখ ১০ হাজার ৫০২ মেট্রিকটন ধান।
কৃষক জহির উদ্দিন, শাহিন মিয়া, আবদুল খালিক, এনামুল হক, রবি দাস জানান, জমিতে ধান রোপণে আমরা ব্যস্ত আছি। অন্য কৃষকরাও ব্যস্ত সময় পার করছেন। কার আগে কে জমি রোপণ করবে, এ নিয়ে হাওরে রীতিমতো প্রতিযোগিতা চলছে। শহিদ আলী, আলমগীর মিয়া, আবদুল জলিল সহ অন্যান্য কৃষকরা বলেন, গত বছর কৃষি অফিসের পরামর্শে জমিতে ধান লাগিয়ে লাভবান হয়েছি। যদিও ২৮ ও ২৯ জাতের ধান সাদা হয়ে মরে গিয়ে নষ্ট হওয়ায় অনেকে ক্ষতিগ্রস্ত হন। যে কারণে এবার আর ২৮ ও ২৯ জাতের ধান আবাদ না করতে বলে দিয়েছেন কৃষি কর্মকর্তারা। তাদের পরামর্শ নিয়ে ২৮ ও ২৯ বাদ দিয়ে বেশির ভাগ বড় জাতের ধান জমিতে লাগানো হচ্ছে।
জগন্নাথপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাওসার আহমেদ বলেন, জগন্নাথপুরে বোরোতেও আবাদি জমির পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রকৃতি অনুকূলে থাকলে ফলনেও লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। বর্তমানে জমি রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। এ পর্যন্ত ৪৪ ভাগ জমি রোপণ হয়ে গেছে। আশা করছি, আগামী সপ্তাহের মধ্যেই শতভাগ শেষ হয়ে যাবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গত বছর ব্রি-২৮ ও ২৯ জাতের ফলন ভালো না হওয়ায় এবার তা বাদ দিয়ে ভালো জাতের ধান আবাদ করতে পরামর্শ দেয়া হয়েছে। তাছাড়া সরকারিভাবে বিনামূল্যে কৃষি সহায়তা প্রদানসহ প্রয়োজনীয় কৃষি প্রশিক্ষণ ও মাঠে-ময়দানে গিয়ে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। যাতে আগামী বৈশাখ মৌসুমে কৃষকদের ভাইদের গোলায় উঠে বাম্পার ফলন।
সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বিমল চন্দ্র সোম জানান, অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর হাওরের অবস্থা অনেক ভাল। উপজেলা কর্মকর্তা ও মাঠপর্যায়ে সহকারি কর্মকর্তা কৃষকের পাশে থেকে ভালো ধান উৎপাদনের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন। বড় কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে চলতি মৌসুমে বোরো ধানে বা¤পার ফলন হবে বলে আশা করছি।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com