1. [email protected] : admin2017 :
  2. [email protected] : Sunam Kantha : Sunam Kantha
সোমবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৮:১৬ পূর্বাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01711-368602

দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচন: কেমন হবে ভোটার উপস্থিতি : অধ্যাপক ড. আব্দুল জব্বার খাঁন

  • আপডেট সময় বুধবার, ৩ জানুয়ারী, ২০২৪

অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে শেষ পর্যন্ত ০৭ জানুয়ারি ২০২৪ তারিখ রোজ রবিবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচন। এই নির্বাচনে ৩০০ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে নিবন্ধিত ২৭টি রাজনৈতিক দল। অংশ নিচ্ছেন ৩৮২ জন স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ মোট ১৮৯৫ বৈধ প্রার্থী। বর্তমান সরকারকে উৎখাতের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে থাকা বিএনপি এবং সমমনা দলগুলো ছাড়া দেশের প্রায় সব রাজনৈতিক দলই অংশগ্রহণ করছে এই নির্বাচনে। মানবতাবিরোধী অপরাধের সাথে স¤পৃক্ত স্বাধীনতা বিরোধী রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে নির্বাচন করার জন্য অযোগ্য ঘোষিত হয়েছে। ফলে বিএনপির ঘনিষ্ঠতম রাজনৈতিক সহচর জামায়াতে ইসলামী এই নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না।
এই নির্বাচনে ৩০০ আসনের জন্য মোট ভোটার সংখ্যা প্রায় ১২ কোটি, যার মধ্যে পুরুষ ও নারী ভোটারের সংখ্যা প্রায় সমান। এই বিশাল সংখ্যক ভোটারের ভোট গ্রহণের জন্য নির্বাচন কমিশন মোট ৪২ হাজার কেন্দ্র এবং প্রায় ২ লক্ষ ৬২ হাজার ভোটকক্ষের ব্যবস্থা করেছে। বাংলাদেশের গত এগারোটি নির্বাচনের ভোটগ্রহণের তথ্য পর্যালোচনা করলে দেখা যায় নির্বাচনে গড় ভোটের পরিমাণ ৫৯%। এর মধ্যে সর্বনি¤œ ভোট পড়েছিলো ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে; শতকরা ২১ ভাগ এবং সর্বোচ্চ ভোট গ্রহণ হয়েছিলো ২০০৮ সালের নির্বাচনে; শতকরা ৮৬ ভাগ। সামরিক শাসক জিয়াউর রহমান এবং এইচ এম এরশাদের সময় অনুষ্ঠিত দুটো রেফারেন্ডামের উপাত্ত এই হিসাবের মধ্যে বিবেচনায় নেয়া হয়নি।
আন্দোলনে ব্যর্থ বিএনপি-জামায়াত জোট যেহেতু দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না তাই তাদের একনিষ্ঠ ৩০-৩৫% সমর্থক এই নির্বাচনে ভোট দিতে উৎসাহিত হবে না, এটি ধরে নেওয়া যায়। ফলে তাত্ত্বিকভাবে বলা যায় যে এবারের নির্বাচনে মোট ভোটারের সর্বোচ্চ ৬৫-৭০% উপস্থিতি হতে পারে। বাস্তবতার নিরিখে এবং অতীতের গড় ভোটার উপস্থিতির বিবেচনায় বলা যায় যে এই নির্বাচনে মোট ভোটারের ৩৮-৪১% ভোট গ্রহণ হতে পারে। খুব আশাবাদী হিসাব বিবেচনায় নিলে এই সংখ্যা ৫৫-৬০% হতে পারে।
উল্লেখ্য, এবারের নির্বাচনে নতুন ভোটারের সংখ্যা প্রায় ৩ কোটি। অতএব, নির্বাচনে মোট ভোটার উপস্থিতির ক্ষেত্রে একটি বড় নির্ণায়ক হবে নতুন ভোটারদেরকে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দল এবং প্রার্থীরা কতটা টানতে পারছেন। অন্যদিকে আরেকটি বড় ভোটার অংশ হচ্ছেন মহিলারা। তাদেরকে নির্বাচনে ভোট প্রদানে উৎসাহিত করতে হলে নির্বাচনের দিন পর্যন্ত সুষ্ঠু, উৎসবমুখর ও অহিংস নির্বাচনী পরিবেশ বজায় রাখতে হবে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন, বিজিবি, সেনাবাহিনী ও নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের আন্তরিক হতে হবে।
একটি বিষয় মনে রাখতে হবে যে বাংলাদেশের চলমান উন্নয়ন সূচকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূচক হতে পারে একটি সুষ্ঠু ও প্রশ্নাতীত জাতীয় নির্বাচন। বিগত এগারোটি নির্বাচন নিয়েই জনমনে কমবেশি নানান প্রশ্ন আছে। তাই, সুযোগ এসেছে দেশের ইতিহাসের পরিচ্ছন্নতম নির্বাচন অনুষ্ঠিত করে আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনকে ইতিহাসের পাতায় অন্তর্ভুক্ত করার। নতুন প্রজন্ম তথা দেশের সতেরো কোটি মানুষের প্রত্যাশা এখন এটিই। এই নির্বাচনে স্থানীয় পর্যবেক্ষক ছাড়াও বিদেশী প্রায় দুই শতাধিক পর্যবেক্ষক আসছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়। বলা হয়- পর্যবেক্ষকরা হলেন একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের চোখ ও কান। এই পর্যবেক্ষকদের সাথে সম্প্রসারিত পর্যবেক্ষণে স¤পৃক্ত থাকবেন দেশের হাজার হাজার মিডিয়া কর্মী। তাই, ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে স্মার্ট বাংলাদেশের দিকে নতুন এই পথচলার শক্ত বুনিয়াদ রচনা করে দিতে পারে এবারের এই নির্বাচন। একটি শুদ্ধ নির্বাচন একটি শক্তিশালী সরকার গঠনের মূল উপাদান। এই শক্ত ভিতের উপর দাঁড়িয়ে পরবর্তীতে রাষ্ট্র পরিচালনা করা অনেক সহজ হয়ে যায়। দেশী-বিদেশী অপশক্তিগুলো তখন দুর্বল হয়ে যায়, নিন্দুকের মুখ অন্ততঃ পাঁচ বছরের জন্য স্তব্ধ হয়ে যায়, উন্নয়ন সহযোগী এবং বিনিয়োগকারীরা আগ্রহী হয়; এক কথায় উন্নত বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে চলার সুন্দর সোপান তৈরি হয়। এমনটাই তো চাই আমরা সবাই!
লেখক: উপ-উপাচার্য, বুয়েট ও মুখপাত্র, ইলেকশন মনিটরিং ফোরাম।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com