1. [email protected] : admin2017 :
  2. [email protected] : Sunam Kantha : Sunam Kantha
মঙ্গলবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১০:১৭ অপরাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01711-368602

৫০-৬০ ভাগ উপস্থিতি চায় আওয়ামী লীগ

  • আপডেট সময় সোমবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০২৩

সুনামকণ্ঠ ডেস্ক ::
আগামী ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থীরা। তারা নির্বাচনি মাঠে পথসভা, উঠান বৈঠক, চায়ের আড্ডায় বসছেন। একই সঙ্গে জোর দিচ্ছেন কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি বাড়ানোর কী কৌশল হতে পারে সেদিকে। কেন্দ্রে ন্যূনতম ৫০-৬০ ভাগ ভোটার টানতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে দলটি। প্রার্থী ও সমর্থকরা যাচ্ছেন ঘরে ঘরে। ইতিমধ্যে দলের হাইকমান্ডের নির্দেশে শুধু প্রার্থীরাই নন, দলের তৃণমূল নেতারাও মাঠে নেমেছেন। এ ছাড়া ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মসহ প্রচারে নানা ধরনের কৌশল নিয়েছে আওয়ামী লীগ।
অন্যদিকে গত ২৬ নভেম্বর আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে চাইলে যে কেউ হতে পারেন বলে নির্দেশনা দেন। শেখ হাসিনা বলেন, সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের ভোটকেন্দ্রে আনতে হবে। শুধু তাই নয়, তিনি কেন্দ্রে ন্যূনতম ৫০-৬০ ভাগ ভোটার উপস্থিতি নিশ্চিত করার কথা বলেন। ভোটার টানতে যত কৌশল বা কর্মসূচি প্রয়োজন তা নিতে হবে।
সূত্র বলছে, ১৯৯৬ সালের ১২ জুন সপ্তম সংসদ নির্বাচনে ভোট পড়েছিল ৭৪ দশমিক ৯৬ ভাগ। ২০০১ সালের ১ অক্টোবর অষ্টম সংসদ নির্বাচনে ৭৫ দশমিক ৫৯ ভাগ। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নবম সংসদ নির্বাচনে ৮৭ দশমিক ১৩ ভাগ। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম সংসদ নির্বাচনে ৪০ দশমিক ৪ ভাগ। এই নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ১৫৩ এমপি নির্বাচিত হন। তবে গত ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৮০ ভাগ ভোট পড়েছিল বলে জানিয়েছিলেন তৎকালীন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা। যদিও এ নিয়ে নানা বিতর্ক রয়েছে।
আগামী ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যাতে করে ভোটার উপস্থিতি বাড়ে এ বিষয়ে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। বিশেষ করে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে ৪০ দশমিক ৪ ভাগ ভোট দেখতে চায় না দলটি। ওই নির্বাচনে ১৫৩ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছিলেন। এবারের নির্বাচন যেমন অংশগ্রহণমূলক করতে চায় আওয়ামী লীগ-তেমনই একই সঙ্গে কেন্দ্রে কমপক্ষে ৫০-৬০ ভাগ ভোটার উপস্থিতি নিশ্চিত করতে মাঠে নেমেছেন দলের প্রার্থী এবং নেতাকর্মী-সমর্থকরা।
আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা বলেন, বিগত নির্বাচনগুলোর চেয়ে ৭ জানুয়ারির দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কেন্দ্রে ভোটারদের সর্বোচ্চ উপস্থিতি থাকবে। ভোটারদের সর্বোচ্চ উপস্থিতি নিশ্চিত করতে ব্যাপক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে নির্বাচনি প্রচার কার্যক্রম জমে উঠেছে। প্রার্থীরা নিজ নিজ আসনে ভোটারদের ঘরে ঘরে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। শুধু প্রার্থীরাই নন, তার স্ত্রী, বন্ধু, আত্মীয়স্বজন ও সমর্থকরাও নেমেছেন মাঠে। সারা দেশে ভোটের উৎসব শুরু হয়েছে। সবাই উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ভোট উৎসব উপভোগ করছেন। নির্বাচন যেমন অংশগ্রহণমূলক হবে, তেমনই সর্বোচ্চ ভোটার উপস্থিতি নিশ্চিত করতে দলের একাধিক উইং কাজ করছে। এরই মধ্যে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ২০ ডিসেম্বর সিলেটে জনসভার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনি প্রচার শুরু করেছেন। এ ছাড়া ডিজিটাল প্রচার তো থাকছেই। সরাসরি প্রচারের পাশাপাশি ডিজিটাল প্রচারও চলবে ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত।
রোড টু স্মার্ট বাংলাদেশ :
ভোটার আকৃষ্ট করতে ‘রোড টু স্মার্ট বাংলাদেশ’ ক্যাম্পেইন শুরু করেছে আওয়ামী লীগ। গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে ‘রোড টু স্মার্ট বাংলাদেশ’ কর্মশালায় মাস্টার ট্রেইনার প্রশিক্ষণ কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। এই কার্যক্রমের আওতায় ২০০ মাস্টার ট্রেইনারকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এসব মাস্টার ট্রেইনার সারাদেশে ৬ লাখ নেতাকর্মীকে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগের সাবেক ও বর্তমান ৬ লাখ কর্মীকে প্রশিক্ষণ দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। প্রশিক্ষিত এই কর্মী বাহিনী মাঠে কাজ করছেন। এদের একেকজন আছেন ২০০ ভোটারের দায়িত্বে। এই প্রক্রিয়ায় তারা ১২ কোটি মানুষের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। এই ক্যা¤েপইনের আওতায় ৬ লাখ কর্মীর প্রশিক্ষিত দল ভোটারদের ঘরে ঘরে যাচ্ছেন। প্রশিক্ষিত ৬ লাখ কর্মী সব ভোটারের ঘরে পৌঁছানোর লক্ষ্য নির্ধারণের এই উদ্যোগকে বলা হচ্ছে ‘অফলাইন ক্যা¤েপইন’। এদের সবার ওপরে রয়েছেন মাস্টার ট্রেইনার। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ৬ লাখ নেতাকর্মী সরাসরি ভোটারের মুখোমুখি হয়ে মাঠপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন ও ভবিষ্যতের বাংলাদেশের জন্য তার ভাবনা কী, তা তুলে ধরছেন। তারা ভোটারদের নানা প্রশ্নের জবাব দিচ্ছেন।
পাশাপাশি বিরোধী দলের অপপ্রচারের পাল্টা বক্তব্য তুলে ধরছেন, যা ভোটারদের সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করবে। এই উদ্যোগ সমন্বয়ের জন্য একজন ফোকাল পয়েন্ট নিযুক্ত করা হয়েছে। কর্মীদের তথ্য দিয়ে সহায়তা করতে কাজ করছে কেন্দ্রীয় কল সেন্টার। এ ছাড়া এই পুরো কর্মযজ্ঞ অত্যাধুনিক প্রযুক্তি দিয়ে সমন্বয় করছেন একদল তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ। তাদের বিশ্বাস, এই প্রচারের ফলে আগামী নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি বাড়বে।
ভোটার আনা-নেওয়ায় থাকছে রিকশা, ভ্যান ও নৌকা :
অনেক সময় গরিব মানুষরা ভোটকেন্দ্রে আসতে চান না, টাকার অভাবে। তাছাড়া আছেন অনেক বয়স্ক। অনেকের চলনশক্তি নেই। তাই নির্বাচনের দিন তাদের আনা-নেওয়া করানোর জন্য থাকছে রিকশা, ভ্যান ও নৌকা। যেখানে যে অবস্থা সেখানে সেই ব্যবস্থা থাকবে। এখনও অনেক এলাকা রয়েছে দুর্গম। যেখানে ভালো রাস্তা-ঘাট নেই সেসব এলাকার জলপথে নৌকা রাখা হবে। আর যেখানে রাস্তাঘাট একটু ভালো সেখানে রাখা হবে রিকশা ও ভ্যান। এ জন্য প্রতিটি এলাকায় আলাদা করে টিম গঠন করে দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে গত ১৮ ডিসেম্বর প্রচার শুরুর পর থেকে ফেসবুক এবং ইউটিউবসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও কনটেন্ট, পোস্টার আপলোড করেছেন অনেক প্রার্থী। প্রার্থীদের অনুসারীরাও এনালগ ও ডিজিটাল মাধ্যমে প্রচার চালাচ্ছেন।
আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য কাজী জাফর উল্লাহ বলেন, গত ১৮ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার পর থেকেই আমরা নির্বাচনি মাঠে আছি। প্রচার চালিয়ে যাচ্ছি। এবার নির্বাচন যেমন অংশগ্রহণমূলক হচ্ছে, একইভাবে কেন্দ্রেও যেন সর্বোচ্চ ভোটার উপস্থিতি নিশ্চিত হয়, সেই কাজটিও করা হচ্ছে। শুধু আমি নয়, নৌকার সব প্রার্থীই ভোটার উপস্থিতি বাড়ানোর চেষ্টা করছেন। এটি নেত্রীর নির্দেশ। তাই ভোটাররা যাতে কেন্দ্রে সহজেই আসতে পারেন, তার জন্য বিভিন্ন ব্যবস্থা থাকবে। বয়স্কদের আনা-নেওয়ার জন্যও থাকবে একাধিক টিম।
আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক স¤পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল বলেন, দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচন জমে উঠেছে। আমার মৌলভীবাজার-২ আসনে ভোটাররা যাতে আগ্রহ নিয়ে ভোটকেন্দ্রে আসেন আমরা সেই কাজটিই করছি। আমার আসনে আমিসহ ৮ জন প্রার্থী নির্বাচনে লড়াই করছি। বিএনপি নির্বাচনে না এলেও নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হচ্ছে। তাই ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছি। ভোটার উপস্থিতি আশানুরূপ হবে। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার নির্দেশনা রয়েছে কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি বাড়ানোর। -সময়ের আলো

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com