1. [email protected] : admin2017 :
  2. [email protected] : Sunam Kantha : Sunam Kantha
সোমবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৭:১২ পূর্বাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01711-368602

শান্তিগঞ্জে সংঘর্ষে নিহত জুনু মিয়ার বাড়িতে শোকের মাতম

  • আপডেট সময় শনিবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০২৩

হোসাইন আহমদ ::
শান্তিগঞ্জ উপজেলার পূর্ব পাগলা ইউনিয়নের ঘোড়াডুম্বুর গ্রামে দু’পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় নিহত জুনু মিয়া (৩২)-এর বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর থেকে হৃদয় বিদারক ঘটনার সৃষ্টি হয় গ্রামজুড়ে। পুত্রশোকে মা আর স্বামী হারিয়ে স্ত্রী মাজেদা বেগম বার বার কান্নায় মূর্ছা যাচ্ছিলেন। বাবাকে হারিয়ে কাতর হয়ে পড়েছে অবুঝ দুই শিশু কন্যা। বৃদ্ধা মা মনোয়ারা বেগমসহ অন্যান্য আত্মীয়ের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে ঘোড়াডুম্বুর গ্রামের শান্ত পরিবেশ।
শুক্রবার (২২ ডিসেম্বর) সকাল ১০টায় ঘোড়াডুম্বুর হাফিজিয়া দাখিল মাদরাসার মাঠে জানাজার নামাজ শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয় নিহত জুনু মিয়াকে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, লোকে লোকারণ্য নিহত জুনু মিয়ার সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাড়ি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাড়িতেই দুই শিশু কন্যা, স্ত্রী ও মাকে নিয়ে থাকতেন জুনু। পেশায় একজন ট্রলি চালক ছিলেন তিনি। তার মৃত্যুতে অসহায় হয়ে পড়েছে পরিবারটি। পুত্র শোকে মায়ের বুকফাটা আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠেছিলো চারপাশের পরিবেশ। স্বামীকে হারিয়ে শোকে বার বার মূর্ছা যাচ্ছিলেন তার স্ত্রী। কান্নায় ভেঙে পড়েছে তার অবুঝ দুই শিশু। জুনু মিয়ার দুই মেয়ের মধ্যে বড় মেয়ে তান্নি আক্তার (৮) ও ছোট মেয়ে তাসরিন আক্তার (৩)।
জানা যায়, সংঘর্ষের ঘটনায় ঘোড়াডুম্বুর গ্রামের মৃত চমক আলী মেম্বারে ছেলে আদনান হোসেন, আলী হোসেন, মৃত রজন আলীর ছেলে হারুন রশিদ ও আবদুল গফরের ছেলে রিমনসহ ৪৭ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতনামা ৩৫ থেকে ৪০ জনের বিরুদ্ধে ছয়গোষ্ঠীর পক্ষে একটি মামলা দায়ের করেন কাজি আহাদ মিয়ার ছেলে কাজি আবদুল ওয়াদুদ। মামলায় বন্দুক দিয়ে হামলা করার অভিযোগ করেন তারা। সংঘর্ষের দিন গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন জুনু মিয়া। এই গুলির কারণেই তিনি নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন জুনু মিয়ার আত্মীয়স্বজন ও ছয়গোষ্ঠী পক্ষ। নিহত জুনু মিয়া ছাড়াও তাদের পক্ষের ৩০ থেকে ৩৫ জন লোক গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতাল ভর্তি আছেন বলে দাবি করেছেন মো. নূর মিয়া। একজন নিহত হওয়ায় নতুন করে হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা।
নিহত জুনু মিয়ার স্ত্রী মাজেদা বেগম কাতর কণ্ঠে দাবি করেন, গুলি করে আমার স্বামীকে মেরে ফেলেছে হাজিবাড়ির গোষ্ঠীর লোকজন। আমি প্রশাসনের কাছে ন্যায়বিচার চাই। খুনিদের ফাঁসি চাই।
বার বার কান্নায় ভেঙে পড়ছিলেন জুনু মিয়ার মা মনোয়ারা বেগম। তিনি বিলাপ করে বলেন, আমার সন্তানের খুনিদের ফাঁসি চাই।
ছয়গোষ্ঠীর পক্ষে মো. নূর মিয়া, আকিক মিয়া, নবী হোসেন ও আরজদ আলী বলেন, আদনান, আলী ও হারুন রশিদসহ একটি গোষ্ঠী আছে যারা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে অস্ত্র নিয়ে মারামারি করে, মার্ডার ঘটায়। এর আগে আরো মার্ডার করেছে তারা। ঘটনার দিন তারা বন্দুক বের করে আমাদের লোকদের উপর গুলি ছোঁড়ে। এই গুলিতেই জুনু মিয়া নিহত হয়েছে। তার কপালে, মাথার একপাশে একাধিক গুলি আছে। আমরা হত্যা মামলা করবো। দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই। প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ এখনো হাজিগোষ্ঠীর লোকদের বাড়িতে অস্ত্র আছে, বন্দুক আছে। আপনারা দয়া করে অস্ত্রগুলো উদ্ধার করুন।
শান্তিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজি মুক্তাদির হোসেন বলেন, ইতোমধ্যে ঘোড়াডুম্বুর গ্রামে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। আমরা আসামিদের ধরতে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছি।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com