1. [email protected] : admin2017 :
  2. [email protected] : Sunam Kantha : Sunam Kantha
মঙ্গলবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১০:৫৯ অপরাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01711-368602

কমছে মূল্যস্ফীতি, অচিরেই মিলবে স্বস্তি

  • আপডেট সময় শুক্রবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০২৩

সুনামকণ্ঠ ডেস্ক ::
কমতে শুরু করেছে মূল্যস্ফীতির হার। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) বলছে, সামনে মূল্যস্ফীতির হার আরও কমতে পারে। এদিকে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে গত নভেম্বরে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমে ৯ দশমিক ৪৯ শতাংশে নেমেছে, যা গত ৭ মাসের মধ্যে সর্বনি¤œ। সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে মূল্যস্ফীতি ছিল যথাক্রমে ৯ দশমিক ৬৩ ও ৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ।
বিবিএসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত অক্টোবরে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ১২ দশমিক ৫৬ শতাংশ, যা নভেম্বরে কমে ১০ দশমিক ৭৬ শতাংশ হয়েছে। খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি অক্টোবরের তুলনায় নভেম্বরে কমে ৮ দশমিক ১৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। অক্টোবরে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৩০ শতাংশ।
যদিও সরকারি বিপণন সংস্থা টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, দুই বছরের ব্যবধানে জিরা ও শুকনো মরিচের দাম ২০০ শতাংশের বেশি বেড়েছে।
পেঁয়াজ, রসুন ও ধনের দাম বেড়েছে শতভাগের বেশি। একই সময় চিনি ও আলুর দামও শতভাগের বেশি বেড়েছে। এছাড়া অন্যান্য পণ্যের দামও নাগালের বাইরে চলে গেছে। তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বাংলাদেশে চলমান অর্থনৈতিক সংকট থেকে কিছুটা উন্নতির সম্ভাবনা দেখছে। সংস্থাটি মনে করছে, আগামীতে মূল্যস্ফীতির হার বর্তমানের তুলনায় কমবে।
আইএমএফের নির্বাহী পর্ষদের সভায় ঋণের দ্বিতীয় কিস্তি ছাড়ের অনুমোদনের পর গত ১২ ডিসেম্বর রাতে এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ নিয়ে এমন মূল্যায়ন করেছে সংস্থাটি। আইএমএফ মনে করছে, চলতি অর্থবছরের শেষে বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ২ শতাংশে নামবে। বর্তমানে যা রয়েছে ৯ শতাংশের ওপরে। সংস্থাটির মতে, মুদ্রানীতি আরও সংকোচনের মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি কমার পাশাপাশি বিভিন্ন ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতির প্রভাব জোরদার হবে। মুদ্রার একক বিনিময় হার গ্রহণের সিদ্ধান্তের প্রশংসা করে আইএমএফ ধাপে ধাপে আরও নমনীয় হওয়ার ওপর জোর দিয়েছে।
আইএমএফ জানিয়েছে, বেসরকারি খাতে চাহিদা কম থাকলেও তুলনামূলক ভালো রফতানির ওপর ভর করে চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হবে ৬ শতাংশ।
এদিকে আইএমএফের মতো সামনের মাসগুলোতে বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি কমে আসবে বলে মনে করছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। সংস্থাটি বলেছে, নানা উদ্যোগ সত্ত্বেও গত জুলাই থেকে অক্টোবরে খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ার কারণে বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতির হার দুই অঙ্কের খুব কাছাকাছি ছিল। তবে সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি অব্যাহত রাখা, বাজারভিত্তিক বিনিময় হার চালুর বিষয়ে উদ্যোগ, খাদ্যশস্যের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যমূল্য কমে আসার কারণে আগামী মাসগুলোতে মূল্যস্ফীতির হার কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (১৯ ডিসেম্বর) প্রকাশিত এডিবির ‘এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক-ডিসেম্বর ২০২৩’ প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছর দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে মূল্যস্ফীতি হতে পারে ৮ দশমিক ৬ শতাংশ। গত সেপ্টেম্বরে একই পূর্বাভাস দিয়েছিল সংস্থাটি। এ অঞ্চলের পূর্বাভাস অপরিবর্তিত রাখার কারণ হিসেবে গত কয়েক মাসে বাংলাদেশ ও নেপালে উচ্চ মূল্যস্ফীতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে এডিবির প্রতিবেদনে। এতে ২০২৪ সালে এশিয়া অঞ্চলের মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাস আগের তুলনায় বাড়িয়ে ধরা হয়েছে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। বাংলাদেশ, কাজাখস্থান, মিয়ানমার ও কোরিয়ায় আশঙ্কার চেয়ে বেশি মূল্যস্ফীতির কথা বলা হয়েছে।
এর আগে গত এপ্রিলে প্রকাশিত এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুকে বলা হয়, বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতির হার চলতি অর্থবছরে ৬ দশমিক ৬ শতাংশ হতে পারে। গত সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ওই পূর্বাভাসই বহাল রাখে এডিবি।
প্রসঙ্গত, টানা বেশ কয়েক মাস ধরে দেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতি চলছে। গত জুন থেকে নভেম্বর পর্যন্ত গড় মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের বেশি ছিল। এমন প্রবণতায় সম্প্রতি এর লক্ষ্যমাত্রায় সংশোধন এনেছে সরকার। চলতি অর্থবছরের বাজেটে মূল্যস্ফীতি ৬ শতাংশের মধ্যে রাখার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়। সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুসারে, চলতি অর্থবছরে মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে তা এখন ৭ শতাংশের মধ্যে রাখতে চাইছে সরকার।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান বলেন, গত নভেম্বরে মূল্যস্ফীতি অনেকটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। আশা করছি সামনের দিনগুলোতে মূল্যস্ফীতি আরও কমে আসবে।
এদিকে বুধবার (২০ ডিসেম্বর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশ ব্যাংক মূল্যস্ফীতির হার কমে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের এই প্রতিবেদনে দেশের সার্বিক অর্থনীতিতে নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রে মূল্যস্ফীতির চাপ নিয়ন্ত্রণ করতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা তুলে ধরেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়েছে, মূল্যস্ফীতির হার কমানোর লক্ষ্যে বহুমুখী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময় হারকে সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসা, সংকোচনমুখী মুদ্রানীতি আরও কঠোর করা, সব ধরনের সুদহার বাড়ানো, বাজারে টাকার প্রবাহ কমানো, সরকারকে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ছাপানো টাকায় ঋণের জোগান দেওয়া বন্ধ করা, অনুৎপাদনশীল খাতে ব্যয় কমিয়ে উৎপাদনমুখী খাতে ঋণের জোগান বাড়ানো হয়েছে। এজন্য সাময়িকভাবে অর্থনৈতিক কর্মকা-ের গতি কিছুটা কমলেও মূল্যস্ফীতির হার নিয়ন্ত্রণে আসবে। যেহেতু উচ্চ মূল্যস্ফীতি বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এখন একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।

 

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com