1. [email protected] : admin2017 :
  2. [email protected] : Sunam Kantha : Sunam Kantha
মঙ্গলবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১০:৩৮ অপরাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01711-368602

স্মার্ট বাংলাদেশ, স্মার্ট অর্থনীতি, স্মার্ট সোসাইটি গড়ার প্রতিশ্রুতি

  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ২১ ডিসেম্বর, ২০২৩

সুনামকণ্ঠ ডেস্ক ::
আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকায় ভোট চেয়ে স্মার্ট বাংলাদেশ, স্মার্ট অর্থনীতি ও স্মার্ট সোসাইটি গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
দেশবাসীর উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকায় ভোট দেবেন। তাহলে আমরা দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলব। আমরা স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তোলার পরিকল্পনা করেছি। স্মার্ট বাংলাদেশে পরিবেশবান্ধব দেশ, দক্ষ জনগণ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতামূলক প্রশাসন তৈরি করব। স্মার্ট বাংলাদেশ, স্মার্ট জনগণ, স্মার্ট সরকার, স্মার্ট অর্থনীতি, স্মার্ট সোসাইটি গড়ে তুলব।
বুধবার বিকালে সিলেট আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত আওয়ামী লীগের নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আগামী ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা এই জনসভা দিয়েই আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করলেন শেখ হাসিনা।
অগ্নিসন্ত্রাসের বিরুদ্ধে দেশবাসীকে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, একটা অনুরোধ আপনাদের কাছে, আজকে সব জায়গায় বোমাবাজি, অগ্নিসন্ত্রাস এবং আগুন দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে মারা এর বিরুদ্ধে সবাইকে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। মানুষের জীবন কেড়ে নেবে, মানুষকে ভোট দিতে দেবে না, নির্বাচন বন্ধ করতে বলবে- এত সাহস কোথা থেকে পায়?
তিনি বলেন, ওই লন্ডনে বসে (তারেক রহমান) হুকুম দেয় আর কতগুলো লোক নিয়ে এখানে আগুন নিয়ে খেলে। আগুন নিয়ে খেলতে গেলে আগুনেই হাত পোড়ে এটা তাদের মনে রাখা উচিত।
শেখ হাসিনা বলেন, তারা মনে করেছে, দুইটা আগুন দিলেই সরকার পড়ে যাবে। এত সহজ না। ভাত দুধ দিয়ে খাই না, এটাই আমি বলতে চাই। আওয়ামী লীগ সরকারে আসায় জনগণের উন্নতি হয়েছে, দারির্দ্যমুক্ত সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যে আমি কাজ করে যাচ্ছি।
আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা মার্কায় ভোট চেয়ে জনগণের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, আগামী নির্বাচন। নৌকা মার্কা। এই নৌকা নূহ নবীর নৌকা। এই নৌকায় মানবজাতিকে রক্ষা করেছিলেন রাব্বুল আলামিন। এই নৌকায় ভোট দিয়ে এদেশের মানুষ স্বাধীনতা পেয়েছে। এই নৌকা যখন সরকারে এসেছে তখন বাংলাদেশের মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নতি হয়েছে। আজকে তাই আপনাদের কাছে আমার আহ্বান, আমরা যারা প্রার্থী দিয়েছি তাদেরকে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আপনাদের সেবা করার সুযোগ দেবেন এটাই আমার আহ্বান। আপনারা দেবেন, বলেন হাত তুলে ওয়াদা করেন। এ সময় উপস্থিত জনতা দুই হাত উচিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে সমর্থন জানান।
সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের একমাত্র প্রাকৃতিক স¤পদ গ্যাস। আমেরিকা আমাদের এই স¤পদ গ্যাস ক্রয়ের প্রস্তাব দিয়েছিল আমাকে। কিন্তু আমি এতে রাজি হইনি। আমি বলেছি, আমার দেশের জনগণের কল্যাণে এগুলো ব্যবহার করবো। ৫০ বছরের গ্যাস মজুত রেখে অবশিষ্ট থাকলে বিক্রি করবো। কিন্তু জনগণ যাদের ক্ষমতা থেকে বিতাড়িত করেছিলেন – সেই বিএনপি আমেরিকাকে গ্যাস বিক্রয়ের মুচলেকা দিয়ে আবার ক্ষমতায় যেতে চায়।
তিনি আরও বলেন, আল্লাহ জন বুঝে ধন দেন। বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে যেসব স্থানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে গ্যাস পায়নি, আওয়ামী লীগের আমলে সেসব স্থানেই গ্যাসের সঙ্গে তেলও পাওয়া গেছে। বিএনপির আমলে মিললে এসব তারা লুটেপুটে খেতো, কিন্তু এসব স¤পদ জনগণের কল্যাণে ব্যবহার করছি।
এদিকে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের জনসভায় যোগ দিতে বুধবার সকাল ১১টা ৪০ মিনিটে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। সিলেটে পৌঁছার পরে হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজার জিয়ারত করার পর শাহ পরানের (রহ.) মাজার জিয়ারত শেষে সিলেট সার্কিট হাউজে মধ্যাহ্নভোজ ও বিশ্রাম নেন। এরপর জনসভা মঞ্চে যান তিনি।
আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেখতে সিলেট আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে নারী-পুরুষের ঢল নামে। সকাল থেকে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে আসেন তারা। এর মধ্যে নারী নেতাকর্মীদের উপস্থিতি বেশি। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আলিয়ার মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে। মাঠে জায়গা না পেয়ে সড়ক থেকে শুরু করে বাসাবাড়ির ছাদে বসে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ শুনেন নেতাকর্মীরা।
আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, নির্বাচন করতে দেবে না বিএনপি, এত সাহস কোথায় পেয়েছে? এ আগুন-সন্ত্রাস এখনই প্রতিহত করতে হবে। আগুনে পুড়িয়ে মানুষ হত্যার পথ বন্ধ করতে হবে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটা কুলাঙ্গার লন্ডনে বসে হুকুম দিচ্ছে আর দেশের কিছু পোলাপান আগুন-সন্ত্রাস করছে। এটা চলতে দেওয়া হবে না। মনে রাখতে হবে আগুন নিয়ে খেলতে গেলে সেই আগুনে নিজের হাত পোড়ে। নির্বাচন বানচাল করার সাহস দেখালে হবে না। যারা লুটেরা তারাই নির্বাচন বানচাল করতে চায়।
শেখ হাসিনা বলেন, আমার হারাবার কিছু নেই। সব হারিয়ে, নিজের সন্তানদের দূরে সরিয়ে দেশে এসেছিলাম দেশের মানুষের জন্য। পঁচাত্তরের পরে যখন দেশে আসি তখন ভেবেছি এই বাংলাদেশ আমার একটি পরিবার। সেই থেকে দেশের জন্যই কাজ করছি। জনগণের অধিকার আদায়ে কাজ করছি।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আওয়ামী লীগের প্রথম নির্বাচনী জনসভায় শেখ হাসিনা বলেন, ২০০১ সালে ভোট চুরি করে বিএনপি ক্ষমতায় আসে। এরপর তাদের সেই পথ বন্ধ হয়ে যায়। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে। এরপর থেকে অতীতের মতো তারা অগ্নিসন্ত্রাস শুরু করে। ২০১৩ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত প্রায় তিন হাজার মানুষ পুড়িয়েছে। গাড়ি ভাঙচুরসহ দেশের স¤পদ নষ্ট করেছে। এত অগ্নিসন্ত্রাস করেও তারা নির্বাচন বানচাল করতে পারেনি। মনুষ্যত্ববোধ থাকলে আগুন দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করতো না। মায়ের বুকের শিশুকে মাসহ পুড়িয়ে হত্যা করতো না।
সরকারপ্রধান বলেন, এই সিলেটে ১৯৮১ সালে এসে শুরু করেছিলাম নির্বাচনী প্রচার কাজ। সেই থেকে আজ পর্যন্ত প্রতিবার নির্বাচনের আগে সিলেটে আসি। আজও আবার এসেছি। ১৯৫৯ সালে সিলেটে এসেছিলাম। তখন ছোট ছিলাম। তবে ১৯৮১ সালে সিলেটে আসাটা ছিল ভিন্ন। কারণ তখন আওয়ামী লীগের সভানেত্রী হিসেবে সিলেটে এসেছিলাম। তখন একটা স্বপ্ন নিয়ে এসেছিলাম। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য।
তিনি আরও বলেন, আমি এমন অবস্থায় দেশে ফিরেছিলাম, যখন এই দেশে আমার বিচার চাওয়ার অধিকার ছিল না। চারদিকে পাকিস্তানের দোসররা ছিল। আমি দেখেছি কীভাবে ভোট চুরি করে, কীভাবে গণতন্ত্র হরণ করে। দীর্ঘ ২১ বছর পর সরকার গঠন করেছি। তখন থেকেই মানুষের অধিকার নিয়ে কাজ শুরু করেছি।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ২০১৮ সালে বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেয়। কিন্তু মনোনয়ন বাণিজ্য করে তারাই নির্বাচন শেষ করে দেয়। এরা মানুষের স্বার্থ চিন্তা করে না। তাদের উদ্দেশ্যই লুটপাট করা ও মানুষ পোড়ানো।
দেশে মাথাপিছু আয় বেড়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপির আমলে সেটা ছিল না। দারিদ্র্যের হার ৪১ শতাংশ থেকে কমিয়ে আমরা ১৮ শতাংশে এনেছি। দেশের আট লাখ ৪১ হাজার গৃহহীন মানুষকে ঘর দিয়েছি। ২১টি জেলা গৃহহীনমুক্ত ঘোষণা করেছি। তার মধ্যে সিলেট অন্যতম। আমাদের উদ্দেশ্য কোনো মানুষ যাতে কষ্ট না পায়। আমরা সেই লক্ষ্যেই কাজ করছি।
তিনি আরও বলেন, দেশে খাদ্যের কষ্ট হবে না। আমরা খাদ্য উৎপাদন বাড়িয়েছি। ৯ কোটি মেট্রিক টন খাদ্য উৎপাদন করছি, যা বিএনপির আমলে কল্পনাও ছিল না। আমরা পোশাকশ্রমিকের মজুরি ৭০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১২ হাজার ৫০০ টাকায় নিয়েছি। মোবাইল ফোনের ব্যবহার সহজলভ্য হয়েছে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর। এখন গ্রামের মানুষও ইন্টারনেট ব্যবহার করছে। মানুষের মাথাপিছু আয় বেড়েছে এটাই বড় কথা। ডিজিটাল সেবা পাচ্ছে মানুষ। কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সিলেট প্রতিটি ক্ষেত্রেই আমাদের সঙ্গে আছে। কোনো কিছুতেই সিলেটকে ছাড়া হয় না। সিলেটে হাইটেক পার্ক করেছি। ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ছয় লেন হচ্ছে।
৩৪ মিনিটের ভাষণের শেষ পর্যায়ে সিলেটবাসীর কাছে ভোট চান আওয়ামী লীগ সভাপতি। এসময় তিনি নৌকাকে বিজয়ী করতে উপস্থিত সবাইকে হাত তুলে ওয়াদা করান।
এর আগে বিকেল ৩টা ১০ মিনিটে জনসভার মঞ্চে ওঠেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসময় সিলেটের একটি আঞ্চলিক গান শুনিয়ে শেখ হাসিনাকে স্বাগত সিলেটের আঞ্চলিক শিল্পীরা।
জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী লীগের সাধারণ স¤পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি লালকার্ড পেয়ে গেছে। বিএনপি নাই, খেলাওনি। খেলায় আছে এক হাজার ৮৯৬ জন। সারাদেশে নির্বাচনে ৩০০ আসনে এরাই খেলবে। বিএনপির ধর্মঘট, অবরোধ, রাজনীতি কর্মসূচি সব ভুয়া।
তিনি আরও বলেন, সিলেটের মানুষ বড়ই ভাগ্যবান। যেদিকে তাকাই রাস্তাঘাট, স্কুল-কলেজ। আলো আর আলো। কোথাও অন্ধকার নেই। শতভাগ বিদ্যুৎ। কোথায় আছে বিএনপি? পালিয়ে গেছে?

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com