1. [email protected] : admin2017 :
  2. [email protected] : Sunam Kantha : Sunam Kantha
রবিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৭:১০ অপরাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01711-368602

দেশবিরোধী অপশক্তিকে প্রতিহতের অঙ্গীকার

  • আপডেট সময় সোমবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০২৩

সুনামকণ্ঠ ডেস্ক ::
সুনামগঞ্জে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান বিজয় দিবস উদযাপিত হয়েছে। শনিবার (১৬) ডিসেম্বর বীর শহীদদের প্রতি বিন¤্র শ্রদ্ধা জানান সর্বস্তরের মানুষ। এসময় তারা অগ্নিসন্ত্রাসীসহ দেশবিরোধী সকল অপশক্তিকে প্রতিহতের অঙ্গীকার করেন।
মহান বিজয় দিবসে শনিবার শহরের শহীদ স্মৃতিফলক ও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে হাজারো মানুষের ঢল নামে। বিন¤্র চিত্তে তারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের স্মরণ করেন। ওইদিন শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে জেলা আওয়ামী লীগ, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনসহ নানা রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক এবং সামাজিক সংগঠন।
রাত ১২টা এক মিনিটে রাজনৈতিক দল, সরকারী ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও শহীদ স্মৃতিফলকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে।
সূর্যোদয়ের সাথে সাথে একত্রিশবার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসের সূচনা হয়। একই সাথে সকল সরকাার-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ও ভবনে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।
শনিবার সকালে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করে জেলা আওয়ামী লীগ, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, সদর উপজেলা প্রশাসন, সদর উপজেলা পরিষদ, জেলা খেলাঘর সুনামগঞ্জ, সুনামগঞ্জ প্রেসক্লাব, প্রথম আলো বন্ধুসভা, বন্ধু মহল সুনামগঞ্জ, প্রাইম কোচিং হোম, সুনামগঞ্জ জেলা ফারিয়া ও ম্যানেজার এসোসিয়েশন, সুনামগঞ্জ অনলাইন প্রেসক্লাব, আনোয়ার মুজাহিদ নার্সিং ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ গণ অধিকার পরিষদ, সুনামগঞ্জ কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, মুক্তি সংগ্রাম স্মৃতি ট্রাস্ট, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক, সুনামগঞ্জ নদী বন্দর, সুনামগঞ্জ কল্যাণ সমিতি, আওয়ার সুনামগঞ্জ, জাতীয় পার্টি, বাংলাদেশ কৃষক লীগ, বাংলাদেশ সুপ্রীম পার্টি, কর্ণিকার মুক্ত স্কাউটস গ্রুপ, বাংলাদেশ জাসদসহ রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
এদিকে, মহান বিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সকাল সাড়ে ৮টায় জেলা স্টেডিয়াম মাঠে এই অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক রাশেদ ইকবাল চৌধুরী। জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে পতাকা উত্তোলনের পর কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে সালাম গ্রহণ করেন জেলা প্রশাসক রাশেদ ইকবাল চৌধুরী ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ এহসান শাহ। সকাল ৯টায় শরীরচর্চা প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কুচকাওয়াজ ও শরীর চর্চায় অংশ নেয়।
অপরদিকে, মহান বিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যগণকে সংবর্ধনা দেয়া হয়েছে। শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় শহরের শহীদ আবুল হোসেন মিলনায়তনে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক রাশেদ ইকবাল চৌধুরী। সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ এহসান শাহ, পৌর মেয়র নাদের বখত, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক দেওয়ান তাজুল ইসলাম, সিনিয়র আইনজীবী বীর মুক্তিযোদ্ধা আলী আমজদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী নুরুল মোমেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাড. গোলাম মোস্তফা, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অ্যাড. পীর মতিউর রহমান। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মৌসুমী মান্নান। অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. এমদাদুল হক শরীফ। সভার শুরুতে কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন মাও. তাজুল ইসলাম। গীতা থেকে পাঠ করেন অমিত চক্রবর্তী।
অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যগণকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান অতিথিবৃন্দ। পরে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মার শান্তি কামনায় এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। আলোচনা সভা শেষে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের মধ্যে শাড়ি, লুঙ্গি ও যাতায়াত ভাতা প্রদান করা হয়।
সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সিনিয়র আইনজীবী বীর মুক্তিযোদ্ধা আলী আমজদ বলেন, সুনামগঞ্জের ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালে কোনো চিকিৎসা, ওষুধ ও নেই। মুক্তিযোদ্ধাগণ ভাল চিকিৎসা পান না। সাধারণ মানুষও চিকিৎসা পান না। তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য রেশন চালু করতে হবে। যাতে মুক্তিযোদ্ধারা কম মূল্যে খাদ্যদ্রব্য কিনতে পারেন। তিনি আরও বলেন, সকল জেলা ও উপজেলায় জীবিত মুক্তিযোদ্ধা লুকান্তরিত হলে এক জায়গায় সায়িত হওয়ার স্থান নির্ধারণ করার ব্যবস্থা করতে হবে।
সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র নাদের বখত বলেন, আমার বাবা হোসেন বখত বলতেন, পরাধীন রাষ্ট্রে দশ সন্তান নিয়ে বেঁচে থাকার চেয়ে দুই সন্তান নিয়ে স্বাধীন দেশে বেঁচে থাকা অনেক ভাল। আজ আমার পরিবারের মুক্তিযোদ্ধা ভাইয়েরা একে একে না ফেরার দেশে চলে গেছেন। আমার পরিবারে ছিলেন ৪ জন মুক্তিযোদ্ধা ভ্রাতা। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকলে মুক্তিযোদ্ধাদের সকল সমস্যা সমাধান হবে যেমন, তেমনি সাধারণ মানুষের সমস্যাও সমাধান হবে। তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার সকল নাগরিকের অধিকার পূরণ করতে যাচ্ছে। আমাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে আওয়ামী লীগের পক্ষে নৌকা প্রতীকের জন্য কাজ করতে হবে।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ এহসান শাহ বলেন, এই দেশ অনেক কষ্টে এবং অনেক ত্যাগের বিনিময়ে স্বাধীন করেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধারা। তাদের কল্যাণে সরকার কাজ করছেন। এই স্বাধীন দেশের মুক্তিযোদ্ধারা তাদের সকল আশা-প্রত্যাশা ধীরে ধীরে পূরণ হবে। তিনি শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
জেলা প্রশাসক রাশেদ ইকবাল চৌধুরী বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতি স্মরণীয় করে রাখতে অনেক জায়গায় কাজ হয়েছে। নতুন নতুন জায়গায় আরও উন্নয়ন কাজ হবে। তিনি বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক চিকিৎসার অভাব, চলমান ভাতা বৃদ্ধি, রেশন প্রদান, কবরস্থানের নির্দিষ্ট জায়গা নির্ধারণের যে দাবি তুলে ধরা হয়েছে, এসব যৌক্তিক দাবি। আমি উচ্চ পর্যায়ে আলোচনা করে তা সমাধানের চেষ্টা করব। তিনি বলেন, ডলুরা শহীদ মিনার যেতে যে প্রধান সড়ক সংস্কারের অভাবে চলাচলে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। এই সড়কে দ্রুত উন্নয়নকাজের ব্যবস্থা করা হবে। তিনি আরও বলেন, মেট্রো রেলে মুক্তিযোদ্ধাদের ভাড়া দিতে হবে না, তবে মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়ের কার্ড দেখাতে হবে। এটা সরকার কর্তৃক ঘোষণা করা হয়েছে।
এদিকে, ওইদিন দুপুরে হাসপাতাল, জেলখানা ও শিশু পরিবারে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হয়।

 

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com