1. [email protected] : admin2017 :
  2. [email protected] : Sunam Kantha : Sunam Kantha
বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১১:৪৩ অপরাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01711-368602

হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ উদ্বোধন

  • আপডেট সময় শনিবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০২৩

সুনামকণ্ঠ ডেস্ক ::
সুনামগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলা হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ উদ্বোধন করা হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার খরচার হাওরের ঘাগটিয়া গ্রামের কাছের ডুবন্ত বাঁধে মাটি ফেলে বাঁধের কাজের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মো. রাশেদ ইকবাল চৌধুরী। এসময় জেলা স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ পরিচালক দেওয়ান মো. তাজুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. রেজাউল করিম, হাওর বাঁচাও আন্দোলনের সাধারণ স¤পাদক বিজন সেন রায়, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন হাওলাদার, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সফর উদ্দিন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মফিজুর রহমান, এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী ইকরামুল সরকার, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম, বিশ্বম্ভরপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি স্বপন কুমার বর্মণ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী গোলাম কিবরিয়া, ফতেপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ফারুক আহমদ, ধনপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. মিলন মিয়া, হাওর বাঁচাও আন্দোলন কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর স¤পাদক দুলাল মিয়া, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা কমিটির সভাপতি আব্দুল গণি আনছারি, সাধারণ স¤পাদক হাসান বশির প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। পানি উন্নয়নবোর্ড সূত্র জানায়, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় চলতি মেয়াদে ৩৩টি প্রকল্প প্রস্তাবিত হবে। এতে প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে।
সুনামগঞ্জ সদর :
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ উদ্বোধন করা হয়েছে। শুক্রবার রঙ্গারচর ইউনিয়নের কাংলার হাওরে ১নং প্রকল্পে কাজের উদ্বোধন করেন সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান খায়রুল হুদা চপল, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌসুমী মান্নান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এমদাদুল হক শরীফ, সদর উপজেলার পাউবোর শাখা কর্মকর্তা আতিকুর রহমান, রঙ্গারচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুলহাই মাস্টার, ১নং পিআইসির সভাপতি আনোয়ার, হাওর বাঁচাও আন্দোলন সুনামগঞ্জ জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল হক মিলন, সাংগঠনিক সম্পাদক শহীদনূর আহমদ, সাংবাদিক আব্দুল বাসির। এছাড়াও পানি উন্নয়ন বোর্ড ও হাওর বাঁচাও আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চলতি বছর সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় ৩১টি প্রকল্পের প্রস্তাব করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। এর মধ্যে ১১টি প্রকল্পের অনুমোদন করেছে জেলা কমিটি।
ধর্মপাশা ও মধ্যনগর :
ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলায়l) করার কথা ছিল। আর ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে বাঁধের কাজ শুরু করে তা ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শেষ করার কথা রয়েছে। কিন্তু হাওর থেকে দেরিতে পানি নামায় জরিপ, প্রাক্কলন তৈরি, প্রকল্প স্থান নির্ধারণসহ অন্যান্য কাজ সময়মতো শেষ না হওয়ায় পিআইসি গঠনের কাজ কিছুটা পিছিয়েছে বলে জানিয়েছোন পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
শুক্রবার (১৫ ডিসেম্বর) সকাল ১১টার দিকে মধ্যনগর উপজেলার ঘোড়াডোবা হাওরের একটি ফসলরক্ষা বাঁধে অ্যাস্কেভেটর দিয়ে মাটি ফেলে এই কাজের উদ্বোধন করা হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন মধ্যনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অতীশ দর্শী চাকমা। এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কাবিটা প্রকল্প বাস্তবায়ন ও পর্যবেক্ষণ কমিটির সদস্য সচিব মো. নুর আলম, মধ্যনগর থানার এসআই আব্দুল আলীম, এলজিইডির উপসহকারী প্রকৌশলী জসীম উদ্দিন, পিআইসির সভাপতি বিকাশ চন্দ্র সরকার, সুরেশ সরকার প্রমুখ।
এদিকে একইদিন সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ধর্মপাশা উপজেলার চন্দ্র সোনার থাল হাওরের একটি ফসলরক্ষা বাঁধে অ্যাস্কেভেটর দিয়ে মাটি ফেলে বাঁধ পুননির্মাণ ও মেরামত কাজ শুরু করা হয়েছে। প্রধান অতিথি হিসেবে এই কাজের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক এসএম শহিদুল ইসলাম। এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত মহাপরিচালক আমিরুল হক ভূঞা, মো. মনিরুজ্জামান, সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী খুশি মোহন সরকার, ধর্মপাশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহাম্মদ গিয়াস উদ্দীন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মীর হাসান আল বান্না, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মনীন্দ্র চন্দ্র তালুকদার, উপজেলা কাবিটা প্রকল্প বাস্তবায়ন ও পর্যবেকক্ষণ কমিটির সদস্য সচিব জাহাঙ্গীর আলম, সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ ইউপি চেয়ারম্যান মোকাররম হোসেন, হাওর বাঁচাও আন্দোলনের ধর্মপাশা উপজেলা কমিটির সদস্য সচিব সাংবাদিক চয়ন কান্তি দাস, পিআইসির সভাপতি শাহ আলম প্রমুখ।
ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলায় ৯টি হাওর সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে রয়েছে। হাওরগুলো হচ্ছে- চন্দ্র সোনার থাল, গুরমা, গুরমার বর্ধিতাংশ, ঘোড়াডোবা, রুই বিল, সোনামড়ল, কাইলানী, জয়ধনা ও ধানকুনিয়া। এই ৯টি হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের দৈর্ঘ্য ২৪০ কিলোমিটার। এরমধ্যে এবার ২১৮ কিলোমিটার জরিপ কাজ করা হয়েছে। ধর্মপাশা উপজেলায় সম্ভাব্য পিআইসির সংখ্যা ৯৬টি। এর বিপরীতে সম্ভাব্য বরাদ্দ ধরা হয়েছে ২১ কোটি ৫০ লাখ টাকা। অপরদিকে মধ্যনগর উপজেলায় সম্ভাব্য পিআইসির সংখ্যা ৩৪টি। সম্ভাব্য বরাদ্দ ধরা হয়েছে ছয় কোটি তিন লাখ টাকা। এ পর্যন্ত ধর্মপাশা উপজেলায় তিনটি ও মধ্যনগর উপজেলায় দুটি পিআইসি গঠন করা হয়েছে।
ধর্মপাশার ইউএনও মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দীন ও মধ্যনগরের ইউএনও অতীশ দর্শী চাকমা বলেন, নানাবিধ কারণে পিআইসি গঠন কিছুটা পিছিয়েছে। হাওর থেকে এখনো পুরো পানি নামেনি। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই পিআইসি গঠন কাজ শেষ করে পুরোদমে বাঁধের কাজ শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশা করছি। এছাড়া আগামী বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ শেষ করার জন্য আমাদের সবরকম প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
জগন্নাথপুর :
জগন্নাথপুর উপজেলায় ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণকাজের একটি প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে নলুয়ার হাওরের দাসনাগাঁও কুরেরপাড় এলাকায় ৩নং প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির মাধ্যমে বাঁধ নির্মাণ সংস্কার কাজের উদ্বোধন করা হয়। এ প্রকল্পের বরাদ্দ ২৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা। জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল বশিরুল ইসলাম প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। পরে এক আলোচনা সভা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কার কাবিটা কমিটির সভাপতি আল বশিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ সহকারী প্রকৌশলী সবুজ কুমার শীল-এর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য দেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিয়াদ বিন ইব্রাহিম ভূঞা, উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুর রব সরকার, ৩নং প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি রণধীর দাস, চিলাউড়া হলদিপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য অনিল দাস, কৃষক আহমেদ আলী, জুয়েল মিয়া প্রমুখ।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ সহকারী প্রকৌশলী সবুজ কুমার শীল জানান, এবার জগন্নাথপুরে ৭০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ নির্মাণ সংস্কার কাজের জন্য চার কোটি ৮ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া যায়। ৩১টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির মাধ্যমে কাজ বাস্তবায়ন করা হবে।
শাল্লা :
শাল্লায় ২০২৩-২০২৪ অর্থ বছরে হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধ সংস্কার কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। ১৫ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলার উদগল বিল হাওর উপ প্রকল্পের আওতায় ৩৩নং পিআইসির বাঁধ মেরামত কাজের উদ্বোধন করা হয়। ওই প্রকল্পের সভাপতি সুরঞ্জিত সামন্ত। তার ২৩৮ মিটার জয়পুর ক্লোজার বাঁধে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ১৭ লাখ। ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা কাবিটা স্কিম প্রকল্প বাস্তবায়ন ও মনিটরিং কমিটির সভাপতি মনজুর আহসান। এসময় উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) আলা উদ্দিন, উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অমিতা রাণী দাশ, ভাইস চেয়ারম্যান দিপু রঞ্জন দাশ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ সহকারী প্রকৌশলী (এসও) রিপন আলী, হাওর বাঁচাও আন্দোলন উপজেলা কমিটির সভাপতি অধ্যাপক তরুণ কান্তি দাস, উপজেলা কৃষকলীগের আহ্বায়ক রণজিৎ কুমার দাশ, ইউপি সদস্য টিপু সুলতানসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
উল্লেখ্য, ২০২৩-২০২৪ অর্থ বছরে উপজেলায় ১৩০টি পিআইসি গঠন করা হয়েছে। ৮৪.২৮৩ কি.মি. বাঁধ সংস্কারে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ২২ কোটি, ৬৯ লাখ টাকা। গত বছর পিআইসি ছিল ১৯৪টি। এবছর কমেছে ৬৪টি প্রকল্প। উপজেলার ৬টি হাওরে ক্লোজার রয়েছে ৩০টি। সংশোধিত কাবিটা নীতিমালা ২০১৭ অনুযায়ী কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে ২৮ ফেব্রুয়ারি।

 

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com