1. [email protected] : admin2017 :
  2. [email protected] : Sunam Kantha : Sunam Kantha
  3. [email protected] : wp-needuser : wp-needuser
বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৪, ০২:৫৬ অপরাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01711-368602

এবারও নির্ধারিত দিনে শুরু হয়নি সকল বাঁধের কাজ

  • আপডেট সময় শনিবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০২৩

স্টাফ রিপোর্টার ::
সুনামগঞ্জের ছোট বড় ৫২টি হাওরের একমাত্র বোরো ফসল রক্ষায় প্রকৃত কৃষকদের নেতৃত্বে ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণকাজ ১৫ ডিসেম্বর শুরু করার কথা থাকলেও নির্ধারিত দিনে কাজ শুরু হয়নি। তবে প্রতিটি উপজেলায় নিয়মরক্ষার জন্য কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে বলে জানা গেছে। ফলে এবারও যথাসময়ে বাঁধের কাজ সম্পন্ন সম্ভব হবেনা বলে মনে করছেন কৃষকরা। ১৫ ডিসেম্বর থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কাজ শেষ করার নির্দেশনা আছে। এদিকে ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণের নামে অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পে সরকারি বরাদ্দ লোপাটের অভিযোগ থাকায় হাওর বাঁচাও আন্দোলন নীতিমালা অনুযায়ী প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩-২০২৪ অর্থ বছরে হাওরের ফসলক্ষা বাঁধ নির্মাণে ১৫০ কোটি টাকা চেয়েছিল সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড। মন্ত্রণালয় ৯০ কোটি টাকার প্রাথমিক বরাদ্দ দিয়েছে। এই বরাদ্দে এবার ৭৩৮টি পিআইসি (প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি) গঠন করার কথা। সেপ্টেম্বর মাস থেকে হাওরে সার্ভে করে নভেম্বরের মধ্যেই হাওর এলাকায় গিয়ে গণশুনানীর মাধ্যমে পিআইসি সম্পন্ন করার কথা ছিল। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণ কমিটির সভাপতি ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সেকশন অফিসার (এসও) সদস্য সচিব হিসেবে পিআইসি প্রস্তাব দেন। পরে জেলা প্রশাসক সভাপতি ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সদস্য সচিব হিসেবে কমিটির বৈঠক করে এগুলো চূড়ান্ত অনুমোদন দেন। এবার গত ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত জেলা কমিটি ৩৯১টি পিআইসি অনুমোদন দিলেও উপজেলা কমিটি ১৭৭টি পিআইসি গঠন করতে পেরেছে। এই অর্থ বছরে হাওরের ৫৩১ কিলোমিটার ফসলরক্ষা বাঁধ মেরামত ও সংস্কার করতে ৭৩৮টি পিআইসি গঠনের নির্দেশনা রয়েছে।
হাওর বাঁচাও আন্দোলনের সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, প্রতি বছর হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণের নামে অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প গ্রহণ এবং অল্পক্ষতিগ্রস্ত প্রকল্পকে অধিক ক্ষতিগ্রস্ত দেখিয়ে প্রকল্প গ্রহণ করে সরকারের বিপুল অর্থ লোপাট করা হচ্ছে। তাই তারা মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে ও সরেজমিন গিয়ে সরকারি অর্থ নয়ছয়ের ঘটনা বন্ধে অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প গ্রহণ না করতে দাবি জানান। গত বছর প্রায় তিন শতাধিক অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প ছিল বলে তাদের অভিযোগ। গত বছর ১৫৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ১ হাজার ৬৪টি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছিল। প্রকল্প গ্রহণ, অনুমোদন ও কাজ নিয়ে চরম দুর্নীতি ও অনিয়মের ঘটনা ঘটেছিল। হাওর বাঁচাও আন্দোলন দুর্নীতি ও অনিয়মের প্রতিবাদে প্রতিটি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছিল।
হাওর বাঁচাও আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক বিজন সেন রায় বলেন, প্রতি বছর অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প ও কম ক্ষতিগ্রস্ত প্রকল্পগুলোতে ক্ষতিগ্রস্ত দেখিয়ে সরকারি বিপুল অর্থ লোপাট করা হয়। কৃষকদের বদলে অকৃষক ও সুবিধাবাদীদের প্রকল্প দেওয়া হয়। ফসলরক্ষা বাঁধের প্রকল্প এক শ্রেণির লোকদের কাছে টাকা কামানোর মেশিনে পরিণত হয়েছে। আমরা প্রতিবারই স্বচ্ছতার দাবি জানিয়ে আসছি। এবারও নীতিমালা মেনে প্রকৃত কৃষকদের নিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছি। তবে এবার নির্ধারিত দিনে নিয়মরক্ষার কাজের উদ্বোধন হলেও বাস্তবে এই মাসে কাজ শুরু করার সম্ভাবনা নেই।
সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বিমল চন্দ্র সোম জানান, ২০২৩-২০২৪ মওসুম বছরে সুনামগঞ্জ জেলায় ২ লাখ ২৩ হাজার ৩৪৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গতবার ছিল ২ লক্ষ ২২ হাজার ৭৯৫ হেক্টর। গতবার বাম্পার ফলন হয়েছে। এবারও আমরা আশা রাখি কৃষকরা বাম্পার ফলন পাবেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী-১ খন্দকার মামুন হাওলাদার বলেন, ১৫ ডিসেম্বর হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ শুরুর করার কথা। কিন্তু আজ পর্যন্ত কয়টি কাজ শুরু হয়েছে এখনো (শুক্রবার বিকাল) আমার কাছে খবর আসেনি। তবে প্রতিটি উপজেলাতেই কাজের উদ্বোধন হয়েছে বলে জানি।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com