1. [email protected] : admin2017 :
  2. [email protected] : Sunam Kantha : Sunam Kantha
শুক্রবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০২:৪৭ পূর্বাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01711-368602
সংবাদ শিরোনাম

শিক্ষকদের লন্ডন যাওয়ার হিড়িক

  • আপডেট সময় বুধবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২৩

মো. শাহজাহান মিয়া ::
‘উন্নত জীবনে’র আশায় লাখ লাখ টাকা খরচ করে লন্ডনে যাওয়ার হিড়িক পড়েছে। এ থেকে বাদ যাচ্ছেন না শিক্ষকরাও। যার বিরূপ প্রভাব পড়েছে শিক্ষা কার্যক্রমে। ‘সোনার হরিণ’ নামে খ্যাত সরকারি চাকরি ফেলে পাড়ি জমাচ্ছেন লন্ডনে। ফলে দিনেদিনে বেড়ে চলছে শিক্ষক সংকট, ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান। পরিস্থিতি সামাল দিতে রীতিমতো বিপাকে পড়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্যমতে, ইতোমধ্যে কেয়ার, স্টুডেন্ট ও স্পাউস ভিসায় জগন্নাথপুর উপজেলা থেকে গত কয়েক মাসের ব্যবধানে প্রায় অর্ধশতাধিক শিক্ষক লন্ডনে পাড়ি দিয়েছেন। আরো অনেকে লন্ডনে যাওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছেন। এমতাবস্থায় শিক্ষক সংকটের প্রভাবে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ ডেপুটেশনে অন্য শিক্ষকদের দিয়ে কোন রকমে পাঠদান চালু রেখেছেন। আর কতোদিন এভাবে স্কুল চলবে, এ নিয়ে অভিভাবকরাও চিন্তিত।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জগন্নাথপুর উপজেলার সৈয়দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. রুহুল আমিন বলেন, উন্নত জীবনের আশায় শিক্ষকদের লন্ডন যাওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে বিধিমোতাবেক গেলে কোন সমস্যা হতো না। তারা সরকারি চাকরি ঝুলন্ত রেখে যাওয়ায় শিক্ষক সংকট দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় কর্তৃপক্ষকে আরো কঠোর হতে হবে। আইনি দীর্ঘসূত্রিতা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। তাৎক্ষণিক বহিষ্কারসহ শূন্যপদ ঘোষণার মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ করতে হবে। তা না হলে দিনেদিনে শিক্ষক সংকট আরো বৃদ্ধি প্রকট হবে।
ইতোমধ্যে লন্ডন যাওয়াদের মধ্যে জগন্নাথপুর উপজেলার চিলাউড়া-হলদিপুর ইউনিয়নের গোলাপাড়াপুঞ্জি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. শের আলী’র সাথে এ প্রতিবেদকের কথা হয়। তিনি জানান, জগন্নাথপুরের ৪০ থেকে ৫০ জন শিক্ষক লন্ডনে অবস্থান করছেন। কেয়ার, স্টুডেন্ট ও স্পাউস ভিসায় সবাই লন্ডন এসেছেন। এর মধ্যে কেউ স্থায়ী ও কেউ অস্থায়ীভাবে আছেন। আমি উচ্চশিক্ষার জন্য লন্ডনে এসেছি। ফের দেশে ফিরবো। তাই চাকরি থেকে অব্যাহতি নেয়নি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ছুটি চেয়েও পাইনি। তাই না বলে আসতে হয়েছে। আমার মতো আরো অনেকে এরকম অস্থায়ীভাবে আছেন। তবে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমি সহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা হলেও বাকিদের বিরুদ্ধে কেন হয়নি। যারা আমাদের অনেক আগে লন্ডনে আছেন। তারা কি আইনের ঊর্ধ্বে?
এ ব্যাপারে জগন্নাথপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মানিক চন্দ্র দাশ বলেন, জগন্নাথপুর উপজেলার ১৫৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সংখ্যা ৭৬৮ জন। এর মধ্যে গত জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত অনুপস্থিত রয়েছেন ২৯ জন। এর মধ্যে ২০ জন নারী ও ৯ জন পুরুষ। শুনেছি তারা নাকি লন্ডন চলে গেছেন। তাই তাদের মধ্যে দুই ধাপে ১৮ জনের বিরুদ্ধে সুনামগঞ্জ জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মামলা করেছেন। অন্যদের বিরুদ্ধেও ক্রমান্বয়ে মামলা হবে। মামলার মাধ্যমে শূন্যপদে শিক্ষক নিয়োগ করা হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এর মধ্যে ৩/৪ জন শিক্ষক ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা করে ঋণ নিয়েছেন। এ ঋণ ফেরত পাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, সরকারি টাকা পরিশোধ করতেই হবে। অন্যথা হওয়ার সুযোগ নেই। তিনি শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে বলেন, শিক্ষকরা লন্ডন চলে যাওয়ায় সংকটের প্রভাব পড়েছে। ডেপুটেশনে শিক্ষক দিয়ে কোন রকমে পাঠদান চলছে।
ফিরে দেখা জগন্নাথপুর :
শিক্ষক সংকট যেন জগন্নাথপুরবাসীর পিছু ছাড়তে চাইছে না। এক সময় জগন্নাথপুরে শিক্ষিত লোকের হার কম থাকায় বহিরাগত শিক্ষকরা নানা কৌশলে জগন্নাথপুরের বাসিন্দা সেজে সরকারি চাকুরি নিতেন। কিছুদিন পর আবার বদলি হয়ে নিজ এলাকায় চলে যেতেন। ফলে জগন্নাথপুরের শূন্যপদ শূন্যই থেকে যেতো।
তবে সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে দ্রুত বাড়তে থাকে জগন্নাথপুরে শিক্ষিত লোকের হার। এক পর্যায়ে আন্দোলনের মাধ্যমে বহিরাগতদের সরিয়ে স্থানীয় শিক্ষিত লোকেরা নিজ অধিকার আদায় করে সরকারি চাকরি বাগিয়ে নেন। ফলে দীর্ঘ অনেক বছর ধরে জগন্নাথপুরে শিক্ষক সংকট দেখা দেয়নি। তবে গত কয়েক মাসের ব্যবধানে লন্ডন যাওয়ার হিড়িক পড়ায় আবারো জগন্নাথপুরে শিক্ষক সংকট দেখা দিয়েছে। যা কোন অবস্থায় কাম্য নয় – এমন অভিমত সচেতন মহলের।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com