1. [email protected] : admin2017 :
  2. [email protected] : Sunam Kantha : Sunam Kantha
শুক্রবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৩:৫৬ পূর্বাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01711-368602
সংবাদ শিরোনাম

‘স্বতন্ত্র প্রার্থী’ হচ্ছেন নৌকাবঞ্চিতরা

  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২৩

শহীদনূর আহমেদ ::
সুনামগঞ্জ জেলার ৫টি সংসদীয় আসনের ৩টিতে নৌকার নতুন প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছে আওয়ামী লীগ। যা রাজনৈতিক সমীকরণে যোগ করেছে নতুন মাত্রা। এদিকে নৌকাবঞ্চিত অনেকেই ‘স্বতন্ত্র প্রার্থী’ হিসেবে নির্বাচনী মাঠে লড়বেন বলে জানাগেছে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজন তাদের প্রার্থিতার কথা জানান দিয়েছেন।
সুনামগঞ্জ-১ আসনে টানা ৩ বারের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতনের পরিবর্তে রাজপথের পরীক্ষিত আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট রনজিত সরকারের ওপর আস্থা রেখেছে আওয়ামী লীগ। সুনামগঞ্জ-২ আসনে বাদ পড়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য ড. জয়া সেনগুপ্তা। তার পরিবর্তে আ.লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন শাল্লা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আল-আমিন চৌধুরী। এছাড়া সুনামগঞ্জ-৪ আসন পুনরুদ্ধারে নিজেদের প্রার্থী হিসেবে পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিকের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে নৌকার বৈঠা। অপরদিকে সুনামগঞ্জ-৩ আসনে সরকারের সফল পরিকল্পমন্ত্রী এমএ মান্নান এবং সুনামগঞ্জ-৫ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য মহিবুর রহমান মানিকের ওপর আস্থা রেখেছে আওয়ামী লীগ।
দলীয় সূত্র জানায়, সুনামগঞ্জের ৫টি আসনেই ‘স্বতন্ত্র প্রার্থী’ হিসেবে লড়াই করবেন নৌকাবঞ্চিতরা। ইতোমধ্যে সুনামগঞ্জ-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন। মনোনয়নবঞ্চিত আওয়ামী লীগ নেতা সেলিম আহমদসহ আরও অনেকে নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে মাঠে থাকবেন বলে জানাগেছে।
সুনামগঞ্জ-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে মনোনয়নবঞ্চিত আওয়ামী লীগ নেতা সাবেক সচিব মিজানুর রহমানসহ একাধিকজনের।
সুনামগঞ্জ-৩ আসনে মনোনয়নবঞ্চিত সামাদপুত্র আজিজুস সামাদ ডনকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে চাচ্ছেন তাঁর সমর্থকরা। তবে দলের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে নির্বাচনে তিনি প্রার্থী হবেন না। তবে ‘ডন বলয়ে’র অনুসারী জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মুক্তাদির আহমদ মুক্তা সুনামগঞ্জ-৩ আসনে ‘স্বতন্ত্র প্রার্থী’ হতে পারেন বলে গুঞ্জন রয়েছে।
অপরদিকে, সুনামগঞ্জ-৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে পারেন মনোনয়নবঞ্চিত সাবেক সংসদ সদস্য মতিউর রহমান ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ব্যারিস্টার এম এনামুল কবীর ইমন।
এছাড়াও সুনামগঞ্জ-৫ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত বর্তমান সংসদ সদস্য মহিবুর রহমান মানিকের জন্য চ্যালেঞ্জ হতে পারেন মনোনয়নবঞ্চিত জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ স¤পাদক শামীম আহমদ চৌধুরী। নির্বাচনী মাঠ উন্মুক্ত থাকায় শামীম চৌধুরী স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে পারেন বলে জানাগেছে।
সুনামগঞ্জ-১ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন বলেন, প্রার্থী হওয়ার সুযোগ থাকায় নির্বাচনী আসনের ভোটারদের দাবির প্রেক্ষিতে আমি স্বতন্ত্রপ্রার্থী হতে যাচ্ছি। আগামী ৩০ নভেম্বর জেলা প্রশাসকের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দিব।
আওয়ামী লীগ নেতা সেলিম আহমদ বলেন, বিভিন্ন মেরুকরণের কারণে দলের মনোনয়ন পাইনি। তবে দলের সিদ্ধান্তের প্রতি আমার সম্মান রয়েছে। তৃণমূলের দাবির প্রেক্ষিতে আমি নির্বাচনে প্রার্থী হবো। আশা করি বিপুল ভোটে নির্বাচিত হবো।
আ.লীগের মনোনয়নবঞ্চিত সাবেক সংসদ সদস্য মতিউর রহমান বলেন, নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার সুযোগ রয়েছে। ভোটার ও সমর্থকদের দাবির কারণে আমি সুনামগঞ্জ-৪ আসন থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
সুনামগঞ্জ-৩ আসনে মনোনয়নবঞ্চিত সামাদপুত্র আজিজুস সামাদ ডন বলেন, দলের সিদ্ধান্তের প্রতি আমার আস্থা রয়েছে। আমি প্রার্থী হচ্ছি না। দলের প্রার্থীকে সমর্থন ও সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
উল্লেখ্য, ‘বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কেউ যেন নির্বাচিত হতে না পারে’ – আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এমন একটি বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ঘুরছে। দলীয় প্রতীকের বিপক্ষে প্রার্থী হতে এটিকেই এখন অনুপ্রেরণার জায়গা হিসেবে দেখছেন নৌকাবঞ্চিতরা। আওয়ামী লীগ সূত্র জানায়, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আনতে দলের স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বিদ্রোহী তকমা দেওয়া হবে না। তাই নৌকাবঞ্চিত অনেকে লড়বেন নৌকার বিপক্ষে।
এদিকে, আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া গেছে। তাঁরা বলছেন, এবার আগে থেকেই নির্বাচনে না আসার ঘোষণা দিয়েছে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। এতে করে মাঠে আওয়ামী লীগের শক্ত প্রতিপক্ষ নেই। স্বচ্ছ ভাবমূর্তি তৈরি করতে টানা তিনবার ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগের অনেক আসনে প্রার্থী বদলের ইঙ্গিত ছিল। তাই আগে থেকেই নিজ নিজ এলাকায় ব্যাপক জনসংযোগ করেছেন নেতারা। বর্তমান সংসদ সদস্যের বিপক্ষে মনোনয়ন পেতে অর্থ খরচও করেছেন প্রচারে। এছাড়া তাঁদের যাঁরা প্রচারে সমর্থন দিয়েছেন, তাঁদের প্রতিও দায়বদ্ধতা তৈরি হয়েছে। এখন স্বতন্ত্র প্রার্থিতার সুযোগ থাকায় তাঁরা ভোটের মাঠে থাকতে চাইছেন।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com