1. [email protected] : admin2017 :
  2. [email protected] : Sunam Kantha : Sunam Kantha
মঙ্গলবার, ২৮ নভেম্বর ২০২৩, ০৬:০৪ অপরাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01711-368602

ঝুঁকিতে সড়ক পথ : সড়কে নিবন্ধনহীন যানবাহন

  • আপডেট সময় সোমবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৩

শহীদনূর আহমেদ ::
সম্প্রতি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন শান্তিগঞ্জের পাথরিয়া সুরমা উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী তাওফিয়া ও ইমরান হোসেন নামের এক সিএনজি চালক। সড়কে অটোরিকসাকে পাস দিতে গিয়ে বাস ও সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষের এই দুর্ঘটনা ঘটে। সড়ক পথে লাইসেন্সবিহীন অবৈধ যানবাহন চলাচল, অদক্ষ চালক ও ট্রাফিক আইন না মানায় এভাবে জেলার বিভিন্ন স্থানে বিগত ১০ মাসে প্রায় অর্ধশত ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে। ঝরেছে অনেক নিরীহ পথচারী ও যাত্রীর প্রাণ। আহত হয়ে দুর্ঘটনার ক্ষত বয়ে বেড়াচ্ছেন অনেকেই।
ফিটনেসবিহীন এবং নিবন্ধনহীন যানবাহন ও ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া যানবাহন চালালে রয়েছে জেল-জরিমানার বিধান। ২০১৮ সালের সড়ক পরিবহন আইনে এ শাস্তি আরো কঠোর হয়েছে। তারপরও কমেনি ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া যান চালানোর প্রবণতা। আর চলাচলকারী যানের মধ্যে সংখ্যায় সবচেয়ে বেশি মোটরসাইকেল ও সিএনজি-লেগুনার ক্ষেত্রেই আইন অমান্যের এ প্রবণতা তুলনামূলক বেশি।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সুনামগঞ্জের হিসাব অনুযায়ী, জেলায় নিবন্ধিত সিএনজির সংখ্যা মাত্র ৩৩০০, লেগুনা ২৮৩, মোরসাইকেল ৯১৮০টি। বাস্তবে সড়ক পথে এর চেয়ে কয়েকগুণ বেশি সিএনজি ও মোটরসাইকেল চলাচল করার তথ্য পাওয়া যায়। এদিকে নিবন্ধিত পরিবহনের বিপরীতে জেলায় পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্সধারী ৩৩৯১ জন ও অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্সধারী মাত্র ১৮০১ জন। উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পেশাদার ও অপেশাদার চালক লাইসেন্স ছাড়া সড়ক যানবাহন চালিয়ে থাকেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
ড্রাইভিং লাইসেন্সবিহীন চালকদের কারণে দুর্ঘটনাও তুলনামূলক বেশি মোটরসাইকেলে ও সিএনজি চালিত অটোরিকসার ক্ষেত্রে। শহর কিংবা গ্রাম সবখানেই সমানভাবে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে এই দুই মোটরযান। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সিএনজি চালিত অটোরিকসার চেয়ে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে মোটরসাইকেলের বেচাকেনা। সঙ্গে বেড়েছে দুর্ঘটনাও। বেসরকারি তথ্য বলছে, ২০২০ সালে দেশে যত সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে, কেবল তার ২৭ শতাংশই হয়েছে মোটরসাইকেলে। সমান তালে দুর্ঘটনার হার সিএনজিচালিত অটোরিকসার ক্ষেত্রে। বেশির ভাগ দুর্ঘটনা ঘটিয়েছেন লাইসেন্সবিহীন ও অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকরা। তবে এ সংখ্যাটি আরো কয়েক গুণ বেশি বলে মনে করছেন সচেতন ব্যক্তিবর্গ। তাদের যুক্তি, এসব পরিবহন সংখ্যা দিয়ে এর চালকের সংখ্যা নিরূপণ করা যায় না। কারণ পরিবারে যদি একটি মোটরসাইকেল থাকে, তাহলে সেটি কিন্তু পরিবারের অন্য সদস্যরাও ব্যবহার করেন। এমনও দেখা যায়, পরিবারে মোটরসাইকেল একটি, কিন্তু সেটি চালান অন্তত পাঁচজন। কাজেই মোটরসাইকেলের সংখ্যার চেয়ে বাহনটির চালকের সংখ্যা কয়েক গুণ বেশি বলে মনে করেন তারা। বিপুলসংখ্যক চালকের প্রয়োজনীয় দক্ষতা, ট্রাফিক আইন স¤পর্কে সম্যক ধারণা ও সচেতনতা না থাকায় দে দুর্ঘটনার হার বাড়ছে বলেও জানিয়েছেন তারা।
স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)-এর সভাপতি মহিম তালুকদার বলেন, সুনামগঞ্জের বিভিন্ন সড়কে নিয়মিতই ঘটছে ছোটবড় দুর্ঘটনা। অদক্ষ চালক, ফিটনেস বিহীন যানবাহন আর ট্রাফিক আইন না মানা এর পেছনে দায়ি। নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতে আমরা আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে নিয়মিত জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছি। আমরা চালক ও যাত্রীদের সচেতনতা সৃষ্টিতে প্রচার অভিযান করেছি। সড়কে দুর্ঘটনা কমিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করেন এই সংগঠক।
সুনামগঞ্জ বিআরটিএ-এর মোটরযান পরিদর্শক সফিকুল ইসলাম রাসেল বলেন, অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে থাকি। আগামীতেও সেটি অব্যাহত থাকবে।
ট্রাফিক পুলিশের টিআই মো. মহিবুর রহমান বলেন, লাইসেন্সবিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে জরিমানা করে থাকি। সড়কে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে ড্রাইভিং লাইসেন্স, ফিটনেসবিহীন যানবাহন ও ট্রাফিক রুলস পর্যবেক্ষণ করা হয়ে থাকে।

 

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com