1. [email protected] : admin2017 :
  2. [email protected] : Sunam Kantha : Sunam Kantha
মঙ্গলবার, ২৮ নভেম্বর ২০২৩, ০৬:৩৯ অপরাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01711-368602

দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচন : হার্ডলাইনে আওয়ামী লীগ

  • আপডেট সময় শুক্রবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৩

সুনামকণ্ঠ ডেস্ক ::
আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে হার্ডলাইনে যাচ্ছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। দলীয় সূত্র বলছে, জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে আগামী নভেম্বরে তফসিল ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন। একই সঙ্গে ওই তফসিল অনুযায়ী আগামী বছরের জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে নির্বাচনকে ঘিরে দেশের রাজনীতিতে বেড়েছে উত্তাপ।
বিএনপি বলছে, তারা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ছাড়া নির্বাচনে যাবে না। আর আওয়ামী লীগ বলছে, সংবিধানের বাইরে একচুলও নড়বে না। সংবিধান অনুযায়ী যথাসময়ে নির্বাচন হবে। নির্বাচন ইস্যুতে হার্ডলাইনে রয়েছে আওয়ামী লীগ। দলটি এখন যেকোনো উপায়ে নির্বাচন পর্যন্ত দখলে রাখতে চায় রাজনীতির মাঠ।
ক্ষমতাসীন দলটি জানিয়েছে, আগামী নির্বাচন পর্যন্ত তারা মাঠ ছেড়ে দিতে রাজি নয়। একের পর এক কর্মসূচি ও সরকারি বড় বড় প্রকল্পগুলোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান নিয়ে দলটি মাঠে থাকবে। উদ্বোধন অনুষ্ঠানগুলো মহাসমাবেশে রূপ দেওয়ার প্রচেষ্টা থাকবে। পাশাপাশি বিএনপি-জামায়াত নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করলে প্রতিহত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন দলটির শীর্ষ নেতারা। যদিও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভিসানীতির পর থেকে বিএনপি এবং তার মিত্রদের সভা-সমাবেশ পালনে উদারতা দেখালেও সরকারের পদত্যাগ এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের দাবিতে আর বড় ধরনের আন্দোলনের সুযোগ দিতে রাজি নয় আওয়ামী লীগ।
সূত্র বলছে, ক্ষমতাসীন দলটি সাময়িক আন্তর্জাতিক চাপে থাকলেও এটি কাটিয়ে উঠতে তেমন কোনো বেগ পেতে হবে না। কূটনৈতিক চাপের পাশাপাশি সরকারের পতন ঘটাতে বিএনপির এক দফা আন্দোলন কর্মসূচি চলমান রয়েছে। গত বছরের ১০ ডিসেম্বর থেকে বিএনপির এক দফা আন্দোলনের বিপরীতে মাঠে ছিল ক্ষমতাসীনরাও। ইতিমধ্যে ক্ষমতাসীন দলটির হাইকমান্ড বিএনপি নির্বাচন ঠেকাতে আসলে তাদের প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছে। এতে বিএনপি কিছুটা বিচলিত হলেও তারাও মাঠ ছাড়তে নারাজ। তাই আওয়ামী লীগ বিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক দলগুলো রাজপথ দখলে রাখতে মাঠে নেমেছে।
আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার বিএনপির সরকার পতনের এক দফা আন্দোলনের নামে নাশকতা ও নৈরাজ্যের আশঙ্কা করছে। এ অবস্থায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও শক্ত অবস্থানে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগের হাইকমান্ডের কাছে তথ্য রয়েছে, নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি-জামায়াত রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামের নামে সহিংসতা করতে পারে। এমনকি জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে। সবকিছু মাথায় রেখেই আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রস্তুতি নিচ্ছে। একই সঙ্গে দুই বছরের বেশি সময় ধরে মুলতবি থাকা মামলাগুলো দ্রুত নি®পত্তির জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ডিএমপির অপরাধ বিভাগ এবং গোয়েন্দা বিভাগকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ডিএমপির অপরাধ বিভাগ এবং গোয়েন্দা বিভাগকে দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে মুলতবি থাকা ১৩৪টি রাজনৈতিক মামলাও দ্রুত নি®পত্তির নির্দেশনা দেওয়া হয়।
আওয়ামী লীগের এক সভাপতিম-লীর সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে গণমাধ্যমকে বলেন, বিএনপির নির্বাচন প্রতিহত করার ক্ষমতা নেই। ২০১৪ সালে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপির জ্বালাও-পোড়াও আমরা মোকাবিলা করেছি। ওই পরিস্থিতি এখন আর বিএনপি সৃষ্টি করতে পারবে না। নির্বাচনে সব রাজনৈতিক দল অংশ নেবে সেটা আমরা চাই। তবে নির্বাচন বানচালের জন্য কোনো ষড়যন্ত্রের চেষ্টা করা হলে তাদের কঠোর হস্তে মোকাবিলা করার সব ধরনের কৌশল নেওয়া হয়েছে। বিএনপিকে আর কোনো ধরনের জ্বালাও-পোড়াওয়ের মতো আন্দোলন করার সুযোগ দেওয়া হবে না। ইতিমধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মাঠ পর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা এগুলো তদারকি করবেন।
আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা বলেন, সংবিধানের বাইরে গিয়ে বিএনপির কোনো দাবিই মেনে নেওয়া হবে না। উচ্চ আদালত তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে অবৈধ ঘোষণা করেছেন। তাই সংবিধান অনুযায়ী দলীয় সরকারের অধীনেই আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ নিয়ে বিএনপি আন্দোলনের নামে বিশৃঙ্খলা করলে রাজপথেই তাদের মোকাবিলা করা হবে। আওয়ামী লীগ মাঠে আছে, থাকবে। আওয়ামী লীগ একটি গণতান্ত্রিক দল। দলটি কখনো নির্বাচন ব্যতীত ক্ষমতায় আসেনি। বিএনপির অপকৌশলের কারণে নির্বাচন ও গণতন্ত্রে যে ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে, সেটার দায়ভার তাদেরকেই নিতে হবে। তাই বিএনপি জনগণের সামনে দাঁড়াতে ভয় পাচ্ছে।
আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য কাজী জাফর উল্ল্যাহ বলেন, দেশ ও জনগণের স্বার্থে আগামী নির্বাচন যথাসময়ে সংবিধান অনুযায়ী হবে। যারা ষড়যন্ত্র করবে তাদের আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিহত করবে। বিএনপি নির্বাচন বানচালে আন্তর্জাতিক মহলকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে। তারা মাঠে আন্দোলনের নামে অসাংবিধানিকভাবে ক্ষমতা দখলের লালসায় দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করতে চায়। তারা পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় যেতে চায়। দেশে আরেকটি ১/১১ সৃষ্টি করতে চায়। কিন্তু আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বেঁচে থাকতে সেই সুযোগ দেওয়া হবে না। তারা সহিংসতা করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা নেবে।
আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেন, আমরা মাঠে আছি, মাঠে থাকব। আগামী নির্বাচন পর্যন্ত মাঠে থাকব। কেউ নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করলে তা প্রতিহত করা হবে। দেশে কোনো অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমরা প্রতিরোধ গড়ে তুলব। বিএনপির গতিবিধি ভালো মনে হচ্ছে না। তারা আবার নাশকতার দিকে এগুচ্ছে। তাই রাজনৈতিক মাঠে তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ কর্মসূচি থাকবে। কোনোভাবেই তাদের আর ছাড় দেওয়া হবে না। বিএনপিকে অনেক ছাড় দিয়েছি, আর নয়। তারা নাশকতা করলে আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দেশের মানুষ শান্তি চায়, চায় সাংবিধানিকভাবে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ভোট প্রয়োগ করতে।
আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক স¤পাদক সফিউল আলম চৌধুরী নাদেল বলেন, দেশের ক্ষমতার পালাবদলের একমাত্র পথ নির্বাচন। নির্বাচন ছাড়া ক্ষমতায় যাওয়ার আর কোনো রাস্তা নেই। তাই বিএনপি যদি নির্বাচনে না এসে প্রতিহত করার চেষ্টা করে, সেটি হবে দেশের সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণার শামিল। একই সঙ্গে নির্বাচন প্রতিহত করা রাষ্ট্রদ্রোহিতারও শামিল। তাই তারা যদি নির্বাচন প্রতিহত করার কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র, মানুষ হত্যা বা সহিংসতা করে, তা হলে দেশের প্রচলিত আইনে তাদের বিচার হবে। ২০১৪ এবং ২০১৫ সালের মতো আন্দোলনের নামে আর কোনো জ্বালাও-পোড়াও করার সুযোগ তাদের দেওয়া হবে না। তারা যদি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করতে চায়, তা প্রতিহত করতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা রাজপথে থাকবে। তাদের যেকোনো ষড়যন্ত্র কঠোর হস্তে প্রতিহত করা হবে। -সময়ের আলো

 

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com