1. [email protected] : admin2017 :
  2. [email protected] : Sunam Kantha : Sunam Kantha
রবিবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৩, ১০:৫৩ পূর্বাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01711-368602

হাওরে অবাধে চলছে পোনা নিধন

  • আপডেট সময় সোমবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

মধ্যনগর প্রতিনিধি ::
মধ্যনগর উপজেলার বিভিন্ন হাওরে গত দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে নিষিদ্ধ মশারি (খনা) জাল ও চায়না দুয়ারি বাইর দিয়ে দিনে-রাতে মা ও পোনা মাছ নিধন করা হচ্ছে। এতে করে দেশীয় মাছের বংশ ধ্বংস হওয়ার পাশাপাশি মাছের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ধর্মপাশা উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মধ্যনগর উপজেলায় ২০ একরের ঊর্ধ্বে ২৮টি জলমহাল ও ২০ একরের নিচে ১২টি জলমহাল রয়েছে। এই উপজেলায় নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা প্রায় ৭ হাজার। আর অনিবন্ধিত জেলের সংখ্যা চার হাজারেরও বেশি। অন্যান্য বছরে বৈশাখ মাসের মাঝামাঝি কিংবা শেষ সপ্তাহে হাওর পানিতে ভরে যায়। কিন্তু এবার পানি এসেছে আষাঢ় মাসের মাঝমাঝি সময়ে। ফলে মাছের প্রজনন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
মৎস্য সংরক্ষণ আইন ১৯৫০-এ বলা হয়েছে, নির্বিচারে পোনা মাছ নিধন মৎস্য স¤পদ বাড়ানোর ক্ষেত্রে বিরাট অন্তরায়। এই আইনে উল্লেখ রয়েছে- ২৩ সেন্টিমিটারের (৯ ইঞ্চি) নিচে কাতলা, রুই, মৃগেল কালবাউস, ঘনিয়াসহ দেশিয় প্রজাতির মাছ নিধন করা যাবে না। এ ধরনের মাছ নিধন বেআইনি।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, মধ্যনগর উপজেলার শালদিঘা, আতলা, হানিয়া কলমা, মুক্তারখলা, লামারখলা দিঘা বিল, লুঙ্গাতুঙ্গা মুক্তারখলাসহ বিভিন্ন হাওরে জেলেরা নিষিদ্ধ মশারি (খনা) জাল ও চায়না দুয়ারি বাইর দিয়ে রুই, কাতলা, বোয়াল, মৃগেল, কালবাউস, ভেদা, কাকিয়া, ঘনিয়া, বোয়াল, স্টার বাইম, পুঁটি, টাকি, গজার, আইড়সহ দেশীয় প্রজাতির বিভিন্ন পোনা মাছ শিকার করে তা স্থানীয় বাজার ও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন জেলে জানিয়েছেন, বিকল্প কর্মসংস্থান না থাকায় জীবন বাঁচানোর তাগিদেই তাঁরা মা ও পোনা মাছ শিকার করছেন। মাছ শিকার বন্ধ রাখলে তাঁদেরকে না খেয়ে থাকতে হবে। তাঁদের দাবি, এবার জালে কম মাছ ধরা পড়ছে। এই বছরের অন্যান্য সময়ে মাছ বিক্রি করে জনপ্রতি প্রতিদিন গড়ে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা পেলেও এবার ৩০০ থেকে সর্বোচ্চ ৪০০ টাকা পাওয়া যাচ্ছে।
মধ্যনগর উপজেলার মধ্যনগর সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সঞ্জিব রঞ্জন তালুকদার বলেন, বর্ষা মৌসুমে জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না থাকায় এবং জনসচেতনতা না থাকায় তারা মাছের পোনা নিধন করে আসছে। আমি মনে করি মা ও পোনা মাছ নিধন বন্ধ রাখতে হবে। আর এ জন্য জেলে পরিবারগুলোকে প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। এ বছরের হাওরে তেমন মাছ নেই, তাই মাছের মাছের উৎপাদন বাড়াতে হলে সরকারি ব্যবস্থাপনায় এবার হাওরগুলোতে বেশি পরিমাণে মাছের পোনা অবমুক্ত করতে হবে।
মধ্যনগর উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করে আসছেন সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা প্রশান্ত দে। তিনি বলেন, এবার মাছের প্রজনন মৌসুমে হাওর অনেকটাই পানি শূন্য ছিল। দেরিতে পানি আসায় মাছের স্বাভাবিক বংশ বৃদ্ধি ব্যাহত হয়েছে। তাই এবার মাছের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পোনা নিধন বন্ধে দ্রুততম সমযের মধ্যে অভিযান পরিচালনা করা হবে।
মধ্যনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অতিরিক্ত দায়িত্বে ধর্মপাশার ইউএনও শীতেষ চন্দ্র সরকার বলেন, মধ্যনগর উপজেলায়ও মৎস্য বিভাগের কোনো জনবল নেই। পোনা মাছ নিধন বন্ধে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ জনসচেতনতা বৃদ্ধিসহ সরধরনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

 

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com