1. [email protected] : admin2017 :
  2. [email protected] : Sunam Kantha : Sunam Kantha
  3. [email protected] : wp-needuser : wp-needuser
শনিবার, ২২ জুন ২০২৪, ০৮:৪৪ পূর্বাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01711-368602

মানুষের প্রতি মানুষের বৈরিতা বিমানবিকতার লক্ষণ

  • আপডেট সময় শুক্রবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

গত বৃহস্পতিবার (১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩) দৈনিক প্রথম আলোর এক সংবাদ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “থানায় নিয়ে ছাত্রলীগের তিন নেতাকে মারধরের ঘটনায় পুলিশের এডিসি হারুন অর রশিদকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। গঠন করা হয়েছে তদন্ত কমিটিও। পুলিশের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, অথচ বারডেমে হারুন অর রশিদের ওপর ‘হামলাকারী’ রাষ্ট্রপতির সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) আজিজুল হকের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।”
আলোড়ন সৃষ্টিকারী এই ঘটনা নিয়ে পারস্পরিক দোষারোপ চলছে, গণমাধ্যমে তার খবর ছাপা হচ্ছে। এমনকি রাষ্ট্রপতির সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) আজিজুল হকের-এর স্ত্রীও ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন। এবংবিধ ঘটনা ঘটার নিহিতার্থ কী? পত্রিকার ভাষ্য ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গের ব্যক্তিগত ভাষ্য নিরপেক্ষ দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে অর্থাৎ বিবেচনায় নিলে সাধারণত কী প্রতিপন্ন হয়? এই প্রশ্নের জবাবে বলা যায়, রাষ্ট্র পরিচালনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দুই ক্ষেত্র জাতীয় সংসদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রাজনীতি, অন্যদিকে জননিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পুলিশ প্রশাসনে অন্যরকম একাটা কিছু চলছে, নৈতিকতার দৃষ্টিকোণ থেকে যা ঠিক নয় কিংবা উচিত নয় এবং যা কিছু চলছে তাকে ঠিক নিয়মনিষ্ঠতা বলা যায় না। পুলিশবাহিনী ও রাজনীতিক ক্যাডারগণ এমন বিতিকিচ্ছিরি কর্মকা-ে জড়িয়ে পড়ে সভ্যতা ও ভব্যতার মুখে চুনকালি লেপনের নায়ক হয়ে উঠবেন, সাধারণ মানুষ তাঁদের প্রিয় এইসব মানুষদের কাছ থেকে এমনটা প্রত্যাশা করেন না।
কানাডা বা লন্ডনের পুলিশপ্রশাসনে কিংবা রাজনীতিক পরিসরে কর্মরত জনবলের বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করুন। সেখানে তাঁদের মধ্যে একটি উচ্চতর ও চূড়ান্তমাত্রায় বিকশিত আদর্শের প্রতিরূপকে প্রত্যক্ষ করবেন। সেখানে একজন পুলিশ সাধারণ কোনও মানুষের উপর কোনও অজুহাতেই হামলে পড়ে না অথবা কোনও রাজনীতিবিদ বা তাঁর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনও কর্মকর্তা কোনও পুলিশের উপর কথিত প্রকারে সহিংসু হয়ে উঠেন না। সেখানে পুলিশপ্রশাসনে আমাদের দেশের মতো সিনহা হত্যাকারী পুলিশ সদস্যের আবির্ভাব ঘটে না। অপরদিকে সেখানে কোনও রাজনীতিবিদ দেশসেবার নামে আত্মসেবায় নিমগ্ন হয়ে দেশের মানুষকে শোষণ করে দেশের বাইরে সম্পদসঞ্চয় করেন না এবং রাজনীতিকে লাভজনক ব্যবসায় করে তোলেন নি। সভ্যতা সেখানে অন্তত এমন পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে যে, তাঁরা তাঁদের দেশের নেতাকে কিংবা জাতির পিতাকে হত্যা করে অন্যরকম রাজনীতির পরিসর তৈরি করে না।
বললে অনেক কীছুই বলার আছে, সঙ্গত কারণেই বলতে চাই না। কিন্তু একটি কথা না বললেই নয়, দেশ উন্নত দেশের পর্যায়ে উন্নীত হওয়ার পথে পদক্ষেপ রেখেছে। এই যাত্রাপথের শেষ মাথায় যেতে হলে শোষণমূলক ও আত্মসাৎপ্রবণ উপর্যুক্ত পরস্পরবিরোধী জনবল নিয়ে এক কদমও অগ্রসর হওয়া যাবে না। আমাদের চাই সমগ্র দেশজুড়ে পরিশুদ্ধ ও উন্নত সংস্কৃতিকে মনে ও আচরণে ধারণ করার সামর্থ্যসম্পন্ন প্রকৃত অর্থেই দেশপ্রেমিক মানুষের সমাহার, যাঁদের ব্যক্তিগত চরিত্রে অবধারিতভাবে মানুষকে বিমানবিক বৈশিষ্ট্যে সমাবৃত করতে পারে এবংবিধ কোনও দুষ্ট ও দুর্নীতির চর্চা করার সুযোগ থাকবে না। তাঁরা কেউই কোনও মানুষের প্রতিই আক্রমণপ্রবণ হবেন না, সে-মানুষটা অমানুষের চূড়ান্ত হলেও, এনকাউন্টার কিংবা ক্রসফায়ার নয় তার জন্যে বিচারের ব্যবস্থা করতে হবে। মনে রাখতে হবে মানুষের প্রতি মানুষের বৈরিতা আর বৈরিতাসঞ্জাত আক্রমণপ্রবণতা বিমানবিকতার লক্ষণ। এবংবিধ দেশপ্রেমিক মানুষ হতে পারেন যে-কোনও একজন সাধারণ নাগরিকÑ কৃষক কিংবা শ্রমিকÑ অথবা তিনি হতে পারেন একজন পুলিশ কিংবা রাষ্ট্রপতির একান্ত সচিব এবং স্বয়ং রাষ্ট্রপতিও তার বাইরে নন।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com