1. [email protected] : admin2017 :
  2. [email protected] : Sunam Kantha : Sunam Kantha
  3. [email protected] : wp-needuser : wp-needuser
বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই ২০২৪, ০৩:৫৪ অপরাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01711-368602

ধর্মঘটে স্থবির তিন শুল্ক স্টেশন, বিপাকে ১০ হাজার শ্রমিক

  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

মো. সাজ্জাদ হোসেন শাহ্ ::
দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সর্ববৃহৎ তিন শুল্ক স্টেশন তাহিরপুর উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের বড়ছড়া, চারাগাঁও ও বাগলী (বীরেন্দ্রনগর)। এই তিন শুল্ক স্টেশনের আমদানিকৃত কয়লা ও চুনাপাথরবাহী নৌযান থেকে টোল ও খাস কালেকশন আদায়ের নামে বেপরোয়া চাঁদাবাজি বন্ধের দাবিতে আমদানিকারক, ব্যবসায়ী ও নৌ-মালিকদের ডাকা ধর্মঘটের ৫দিন অতিবাহিত হলেও এ নিয়ে কোন কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি প্রশাসন। ফলে তিন শুল্ক স্টেশনের লোড-আনলোড, ট্রাক, লরি, নৌ-শ্রমিক ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রায় ১০ হাজার শ্রমিক কর্মহীন হয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছে। সেই সাথে প্রায় ৭শত আমদানিকারক ও ৩ শতাধিক ছোট ছোট সরবরাহকারি পড়েছেন মোটা অংকের লোকসানের মুখে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাযায়, তাহিরপুর উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের বড়ছড়া, চারাগাঁও ও বাগলী (বীরেন্দ্রনগর) এই তিন শুল্ক স্টেশন দিয়ে প্রতিদিন ভারত থেকে আমদানিকৃত কোটি কোটি টাকার কয়লা ও চুনাপাথর নৌপথে দেশের নানা প্রান্তে সরবরাহ করা হয়। গত দু/তিন মাস ধরে উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞাকে অমান্য করে সরকারি খাস কালেকশন (কোর্টগারী) এবং নিয়ম বহির্ভূতভাবে চলন্ত নৌকা থেকে বিআইডব্লিউটিএ’র নামে উপজেলার পাটলাই নদীতে স্থানীয় দুইটি চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট প্রতিটি ১২০-৩০০টন কয়লা ও চুনাপাথর পরিবহনকারী বাল্কহেড নৌকা থেকে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা করে চাঁদা আদায় করছে। শুধু তাই নয় তাদের দাবিকৃত টাকা পরিশোধ না করলে নৌকা আটকে রাখাসহ নৌ শ্রমিকদের মারপিট করা হয়। এদিকে, এই বেপরোয়া চাঁদাবাজি বন্ধের দাবিতে তিন শুল্ক স্টেশনে গত শনিবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য কয়লা-চুনাপাথর বিক্রি ও পরিবহন বন্ধ ঘোষণা করে আমদানিকারক সমিতি। টোল ও খাস কালেশেনের নামে বেপরোয়া চাঁদাবাজি বন্ধের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গত রবিবার দুপুরে জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগও দায়ের করেন তাহিরপুর কয়লা আমদানিকারক গ্রুপের সভাপতি হাজি আলকাছ উদ্দিন খন্দকার।
গতকাল বুধবার দুপুরে সরেজমিনে বীরেন্দ্রনগর শুল্ক স্টেশন গেলে নৌ-চালক নিয়ামত উল্লাহ জানান, নৌকা লোড করে গত ৪দিন ধরে পাটলাই নদীর পাড়ে নোঙর করে বসে আছি। প্রতিদিন নৌকার খরচ আছে প্রায় পাঁচ হাজার টাকা। যার এক টাকাও মালিক আমাদেরকে দিবেন না। আমাদের বেতন থেকে এ টাকা কেটে নেয়া হবে।
বড়ছড়া শুল্ক স্টেশনের আনলোড শ্রমিক সরদার নজরুল ইসলাম বলেন, এমনিতেই বছরের ৬-৭ মাস নানা জটিলতার কারণে আমদানি বন্ধ থাকে। দীর্ঘদিন পর আমদানি শুরু হলেও নৌপথে বেপরোয়া চাঁদাবাজির কারণে আমদানিকারক, নৌমালিকগণ ধর্মঘট ডাকায় গত পাঁচ এ তিন বন্দরে কয়লা-চুনাপাথর বিক্রি পরিবহন বন্ধ থাকায় কর্মহীন হয়ে প্রায় ১০ হাজার শ্রমিক খেয়ে না খেয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছে।
আমদানিকারক এরশাদ মিয়া বলেন, উপজেলার পাটলাই নদীতে বিআইডব্লিউটিএ’র টোল এবং সরকারি খাস কালেকশনের নামে বেপরোয়া চাঁদাবাজির ফলে এ তিন শুল্ক স্টেশনের কয়লা-চুনাপাথর পরিবহনে কোন নৌযান আসতে চায়না। এতে করে আমদানিকারকগণ তাদের আমদানিকৃত কয়লা-চুনাপাথর বিক্রি করতে পারছেন না। ফলে শুল্ক স্টেশনগুলোর আমদানিকারকগণ মোটা অংকের লোকসানের মুখে পড়েছেন। অবিলম্বে টোল আদায় ও খাসকালেকশের নামে চাঁদাবাজি বন্ধ করে নির্বিঘেœ ব্যবসা পরিচালনা করার জোর দাবি জানাই প্রশাসনের প্রতি।
তাহিরপুর কয়লা আমদানিকারক গ্রুপের সভাপতি হাজি আলকাছ উদ্দিন খন্দকার জানিয়েছেন, ধর্মঘটের ৫দিন অতিবাহিত হওয়ার পরেও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় মঙ্গলবার আমদানিকারকদের নিয়ে এক জরুরি সভা হয়। এই সভায় টোল ও খাস কালেকশন আদায়ের নামে বেপরোয়া চাঁদাবাজি বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তিন শুল্ক স্টেশনে কয়লা-চুনাপাথর বিক্রি ও পরিবহন অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুপ্রভাত চাকমা বলেন, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে টোল এবং খাস কালেকশন আদায়কারীদের জানিয়ে দেয়া হয়েছে কেউ অতিরিক্ত টাকা আদায় করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তারপরেও আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছি। কেউ যেন নির্ধারিত হারের বেশি টাকা আদায় না করতে পারে।

 

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com