1. [email protected] : admin2017 :
  2. [email protected] : Sunam Kantha : Sunam Kantha
  3. [email protected] : wp-needuser : wp-needuser
বুধবার, ২৯ মে ২০২৪, ১২:৩১ অপরাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01711-368602

নতুন কোন দুরভিসন্ধি নিয়ে ঢাকায় ইউএস প্রতিনিধি?

  • আপডেট সময় বুধবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

সুনামকণ্ঠ ডেস্ক ::
ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে বাংলাদেশ। বিভিন্ন কারণে আমেরিকার কাছে আগ্রহের কেন্দুবিন্দুতে অবস্থান করছে বাংলাদেশ। এই আগ্রহকে সফল করতে কিছু চাপ অব্যাহত রাখলেও প্রতি মাসেই কোন না কোন যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের প্রতিনিধি বা সিনেট সদস্যরা আসছেন বাংলাদেশে।
৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে এসেছেন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক-সামরিক ব্যুরোর ডেপুটি এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটেরি মিরা রেসনিক। মিরা রেসনিক যেই ডিপার্টমেন্টের প্রতিনিধিত্ব করছেন সেই ব্যুরো অফ পলিটিক্যাল-মিলিটারি অ্যাফেয়ার্স মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এমন একটি এজেন্সি যা স্টেট ডিপার্টমেন্ট ও প্রতিরক্ষা বিভাগের সাথে সেতুবন্ধন করে। এটি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা, নিরাপত্তা সহায়তা, সামরিক অভিযান, প্রতিরক্ষা কৌশল এবং নীতি, স্থানের সামরিক ব্যবহার এবং প্রতিরক্ষা বাণিজ্যের ক্ষেত্রে নীতি প্রদান করে। এই এজেন্সির প্রধানকে বলা রাজনৈতিক-সামরিক বিষয়ক সহকারী সেক্রেটারি অফ স্টেট। মিরা রেসনিক সেই এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেসিকা লুইস এর ডেপুটি।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ বশির আহমেদ বলেন, ইউএস এম্বাসির প্রটোকল অনুযায়ী সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন, সুশাসন, মানবাধিকার বিষয়গুলো আসবে। কিন্তু মিরা রেসনিক এর আসল এজেন্ডা হচ্ছে বাংলাদেশের প্রতিবেশী আঞ্চলিক দেশগুলোর সাথে প্রতিরক্ষা বিষয়ে বাংলাদেশের সিভিলিয়ান সোসাইটিকে জানানো বা সতর্ক করা। বিশেষ করে চীন, মিয়ানমার এবং ভারতের সাথে বাংলাদেশের কি কি প্রতিরক্ষা কৌশল নেয়া উচিত সে নিয়ে আলোচনা করবেন। কারণ উনি যে ব্যুরোর প্রতিনিধিত্ব করছেন, সে ব্যুরোর কাজই হচ্ছে এই সকল প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা বিশ্লেষণ করা, যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট কৌশল তৈরি করা, আর সংশ্লিষ্ট দেশকে বুঝিয়ে সেই কৌশল গ্রহণ করানো। সাধারণত বিভিন্ন দেশের সাথে প্রতিরক্ষা সামরিক চুক্তি সমূহ করে থাকে এই ব্যুরো থেকে।
যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার হাস ২০২২ সাল থেকে বাংলাদেশের সাথে সামরিক অস্ত্র বিক্রয় চুক্তি করার কথা বলে আসছেন। গত বছরের ২৪শে এপ্রিল তিনি বলেছিলেন, “প্রথমত আমরা আমাদের নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়াতে পারি। আমরা অন্যান্য সমমনা পরস্পর সহযোগী দেশগুলোর সমন্বয়ে নিজেদের স¤পৃক্ততাকে আরও জোরদার করতে পারি। আমরা জিসমিয়া ও আকসা এ দুটি মৌলিক চুক্তিতেও যেতে পারি। জিসমিয়া চুক্তির মাধ্যমে সামরিক ক্রয়-সংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্য আদান-প্রদানের মূলনীতি নির্ধারিত হবে। এ রূপরেখাটি বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী অভীষ্ট ২০৩০ অর্জনে অবদান রাখবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তির সহায়তায় বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীর আধুনিকায়ন ত্বরান্বিত হবে।”
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশেষজ্ঞ সালাম হোসেন জানান, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রাণালয় এখনই জিসমিয়া চুক্তি স্বাক্ষরে রাজি নয়। বাংলাদেশ চাইছে ইলেকশনের পরে এই ব্যাপারে চিন্তা ভাবনা করবে। ধারণা করা যায় জিসমিয়া ও আকসা চুক্তি স্বাক্ষরকে ত্বরান্বিত করতেই মিরা রেসনিক এর এই সফর।
উল্লেখ্য, রেসনিক আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং অস্ত্র স্থানান্তরের ব্যুরো অফিসের তত্ত্বাবধান করেন, যা বিদেশি সামরিক অস্ত্র বিক্রয়, তৃতীয় পক্ষের সাথে ক্রয় বিক্রয়, এবং প্রতিরক্ষা কৌশল ডিজাইন ও বিক্রয় তত্ত্বাবধান করেন। এবং জি২জি এর মাধ্যমে প্রতি বছরে ৪০ বিলিয়ন ডলার এরও বেশি লেনদেন করে। বাংলাদেশের অগ্রসরমান অর্থনীতি, মিয়ানমারে চীন-রাশিয়ার যৌথ কর্মকান্ড, এই সকল কারণেই যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বাংলাদেশের আঞ্চলিক গুরুত্ব অপরিসীম। যুক্তরাষ্ট্র এই কারণেই চাইছে বাংলাদেশের সাথে নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম থেকে শুরু করে কৌশল বাংলাদেশকে দিতে।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com