1. [email protected] : admin2017 :
  2. [email protected] : Sunam Kantha : Sunam Kantha
  3. [email protected] : wp-needuser : wp-needuser
সোমবার, ২২ জুলাই ২০২৪, ০২:৩৫ পূর্বাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01711-368602

শোবিজ : সুখের ঘরে তুষের আগুন : রেজানুর রহমান

  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৩

শোবিজ : সুখের ঘরে তুষের আগুন
রেজানুর রহমা
যার যায় সেই বুঝে ক্ষতিটা কেমন। যে অপমানিত হয় সেই বুঝে অপমান কাকে বলে। একজন কাউকে ‘শুয়োরের বাচ্চা’ বলে গালি দিয়ে বলল ‘সরি’। আশপাশে যারা ছিল, যারা গালি শুনেছে, গালি দিতে দেখেছে তাদের কেউ কেউ হয়তো অপরাধীর পক্ষে দাঁড়িয়ে বলতে শুরু করলেন, সে একটা ভুল করেছে। ভুল তো মানুষই করে। কাজেই তাকে ক্ষমা করে দাও। ক্ষমার চেয়ে মহৎ শব্দ আর হয় না। ক্ষমা করতে পারা ব্যক্তির মহৎ গুণ। কিন্তু প্রকাশ্যে চরম অপমানিত হওয়ার পর অপরাধীকে কী সহজেই ক্ষমা করে দেওয়া উচিত?
ওই যে বললাম, ‘যার যায় সেই বুঝে, অপমানের আঘাতটা কেমন?’ মানুষের মুখের কথায় মধু আছে। জাদুও আছে। আবার কারও কারও মুখের কথা এতটাই ভয়ংকর, এতটাই কদর্য, এতটাই রুচিহীন, ‘ক্ষমা’ শব্দটা মাথায় আসে না। আমরা শারীরিক নির্যাতনকে যতটা গুরুত্ব দেই মানসিক নির্যাতনকে ততটাই অগ্রাহ্য করি। অথচ শারীরিক নির্যাতনের চেয়ে মানসিক নির্যাতন অনেক ভয়ংকর। মানসিক নির্যাতন অনেকটা তুষের আগুনের মতো। দেখা যায় না। অনেক মানুষের ভিড়ে পাশাপাশি বসে আছে দু’জন। একজন সিনিয়র, অন্যজন জুনিয়র। জুনিয়রের উচিত আচার-আচরণে সিনিয়রকে শ্রদ্ধা, সমীহ করা। কিন্তু সে সেটা করলো না। বরং আচার-আচরণে সিনিয়রকে অবজ্ঞা করতে থাকলো। এটাই তুষের আগুন। প্রকাশ্যে দেখা যায় না। তুষের আগুন ভেতরে ভেতরে পোড়ায়। ফাইনালে দেখা যায় সব শেষ। পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
আমাদের শোবিজে, বিশেষ করে টিভি নাটকের ক্ষেত্রে তুষের আগুন লেগেছে। টেলিভিশনের নাটককে ঘিরে জন্ম নেওয়া সংগঠনগুলোর পার¯পরিক ঐক্য, ভ্রাতৃত্ববোধ, অকৃত্রিম বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক সর্বমহলে প্রশংসনীয়। নিকেতনের একটি বাড়িতে একই ফ্লোরে সব সংগঠনের অফিস। যেন একটি যৌথ পরিবার। একটা ঘর বড় ভাইয়ের, আরেকটা ঘর মেজ ভাইয়ের। পাশেরটা ছোট বোনের, তার পাশেই ছোট ভাইয়ের ঘর। প্রডিউসার্স অ্যাসোসিয়েশন, অভিনয় শিল্পী সংঘ, ডিরেক্টরস গিল্ড, নাট্যকার সংঘ- চার ভাইবোনের মতো, একই ফ্লোরে বসবাস। আহ! কী শান্তি। দেখলেই মন-প্রাণ জুড়িয়ে যায়। কিন্তু বাস্তবতা হলো, শোবিজের এই যৌথ পরিবারে তুষের আগুন লেগেছে। এতদিন পেশাগত স্বার্থ রক্ষায় ৪টি সংগঠন অভিন্ন সুরে কথা বলেছে, অভিন্ন সুরে বক্তৃতা- বিবৃতি দিয়েছে। যেন একই বৃত্তে ৪টি ফুল। অথবা যৌথ পরিবারের ঐক্যের প্রতীক। অথচ হঠাৎ করেই পরিবারটিতে দেখা দিয়েছে অনৈক্যের তীব্র ¯্রােত।
এবার তাহলে মূল ঘটনায় যাই। কী এমন ঘটলো যে শোবিজে সম্ভাবনার আলো ছড়ানো এই যৌথ পরিবারে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিলো। একই ছাদের নিচে বসবাস করেও কেন একপক্ষ অন্য পক্ষের বিরুদ্ধে কথা বলছে? রসুনের কোয়ার মতো একসঙ্গে জড়িয়ে থাকা ৪টি সংগঠনের মধ্যে কী এমন ঘটলো যে এক পক্ষ অন্য পক্ষের সিদ্ধান্ত মানছেন না?
প্রকৃত ঘটনা সবার জানা। তবু বলি। একটি টিভি নাটকের শুটিং ¯পটের ঘটনা। একজন অভিনেত্রী শুটিং চলাকালে পরিচালকসহ বয়োজ্যেষ্ঠ একজন বিশিষ্ট অভিনেতা মাসুম বাশার এবং আরও কয়েকজনের সঙ্গে চরম দুর্ব্যবহার করেছেন। নিজে অপরাধ করেও অন্যকে শায়েস্তা করার জন্য শুটিং স্পটে দুবার পুলিশ ডেকে এনেছেন। ঘটনার আকস্মিকতায় পরিচালক স্বয়ং অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে চিকিৎসা দেওয়ার জন্য হাসপাতালেও নিতে হয়েছিল। এই ঘটনায় পরিচালক স্বয়ং অভিনয় শিল্পী সংঘ ও ডিরেক্টরস গিল্ডে অভিযুক্ত অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ৪ সংগঠনের উদ্যোগে একটি যৌথ সভার আয়োজন করা হয়। যৌথ সভায় অভিযুক্ত অভিনেত্রীও উপস্থিত ছিলেন। সভায় অভিনেত্রী তার কৃতকর্মের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। সভায় তাকে সতর্ক করাসহ কয়েকটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এই সিদ্ধান্ত নিয়েই মূলত তুষের আগুন জ্বলছে শোবিজে।
ডিরেক্টরস গিল্ডের ভাষ্য, যৌথ সভায় ডিরেক্টরস গিল্ডের যৌক্তিক বক্তব্যকে অগ্রাহ্য করা হয়েছে। অভিযুক্ত অভিনেত্রীর অপরাধের শাস্তিস্বরূপ টানা ৩ মাস তাকে শোবিজে বহিষ্কার করার দাবি তুলেছিল ডিরেক্টরস গিল্ড। এই সংগঠনের দাবি, প্রডিউসারস অ্যাসোসিয়েশন ও অভিনয় শিল্পী সংঘ যৌথ সভায় ডিরেক্টরস গিল্ডকে তেমন একটা গুরুত্ব দেয়নি। অথচ বাদী একজন ডিরেক্টর। কিন্তু ডিরেক্টরের সম্মানকে যৌথ সভায় গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। এটা দুঃখজনক।
যৌথ সভার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে ডিরেক্টরস গিল্ড। পৃথকভাবে সংবাদ সম্মেলন করে ওই অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে ৩ মাসের বহিষ্কারাদেশ ঘোষণা করেছে। প্রচার মাধ্যমে এই সংবাদ প্রকাশের পরপরই প্রডিউসারস অ্যাসোসিয়েশন ও অভিনয় শিল্পী সংঘ প্রতিবাদ জানিয়েছে। অভিনয় শিল্পী সংঘের সভাপতি আহসান হাবিব নাসিম বলেছেন, অভিযুক্ত অভিনেত্রীকে ৩ মাসের বহিষ্কারাদেশ সংক্রান্ত ডিরেক্টরস গিল্ডের সিদ্ধান্ত ঠিক হয়নি। আমাদের যৌথ সভায় এরকম কোনও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়নি। কাজেই তাকে ৩ মাস বহিষ্কার করার প্রশ্নই আসে না। তবে ডিরেক্টরস গিল্ডের সিদ্ধান্ত মেনে ডিরেক্টররা যদি আগামী ৩ মাস ওই অভিনেত্রীকে অভিনয়ে না ডাকেন, সেটা তাদের ব্যাপার।
নাসিম আরও বলেন, একজন শিল্পীকে বহিষ্কার করার রাইট কারও নাই। প্রয়োজনে সংগঠনে তার সদস্যপদ স্থগিত করা যেতে পারে। কিন্তু অভিযুক্ত অভিনয় শিল্পী তো ডিরেক্টর গিল্ডের সদস্য নন। কাজেই ডিরেক্টরস গিল্ড পৃথকভাবে তাকে বহিষ্কার করে কীভাবে?
ডিরেক্টরস গিল্ডের সাধারণ স¤পাদক কামরুজ্জামান সাগরের বক্তব্য- যৌথ সভায় অভিযুক্ত অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে ৩ মাসের বহিষ্কারাদেশের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছিল। অথচ অভিনয় শিল্পী সংঘ এবং প্রডিউসারস অ্যাসোসিয়েশন এই সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব দেয়নি। বাধ্য হয়ে আমরা পৃথক সংবাদ সম্মেলন করে আমাদের কথা বলেছি।
বিশিষ্ট অভিনেতা মাসুম বাশার ডিরেক্টরস গিল্ডের সিদ্ধান্তের পক্ষেই সমর্থন জানিয়ে বলেন, যৌথ সভায় আমিও ছিলাম। সভায় আমি বলেছি, অভিযুক্ত অভিনেত্রী চমক আমার চেয়ে বয়সে অনেক ছোট। অথচ শুটিং ¯পটে সে আমার সঙ্গে যে রকম দুর্ব্যবহার করেছে, ভাবলে এখনও মানসিক যন্ত্রণায় ছটফট করি। সভায় আমি বলেছি অভিযুক্ত চমক অভিনয় শিল্পী সংঘের সদস্য নন। আমি সংঘের প্রবীণ সদস্য হওয়া সত্ত্বেও আমাকে সভায় যথাযথ সম্মান দেওয়া হয়নি। চমকের ব্যাপারেই সবিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শোবিজের অভিভাবক সংগঠন এফটিইওর একটি জরুরি সভা আহ্বান করা হয়েছে। ১ সেপ্টেম্বরের এই সভা নিয়েও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ডিরেক্টর গিল্ডের সাধারণ স¤পাদক বলেছেন, ঘটনার দিন আরও ৬টি সংগঠনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। ওই ৬টি সংগঠন এফটিইওর সদস্য নয়। তাদের কথা না শুনে এফটিইওর সভায় কোনও সিদ্ধান্ত গৃহীত হলে তা কতটা কার্যকর হবে বলা মুশকিল।
প্রিয় পাঠক, এবার একটা বিশ্লেষণে যেতে চাই। লেখার শুরুতে একটা যৌথ পরিবারের কথা বলছিলাম। আবারও পরিবারটির কথা বলি। ভালোই তো চলছিল পরিবারটি। হঠাৎ দুর্যোগ নেমে এলো পরিবারের একজন সদস্যের উগ্রতা এবং অন্যকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করার মানসিকতার কারণে। বলা বাহুল্য, তৃতীয় একটা পক্ষ এখানে সন্দেহ আর অবিশ্বাসের আগুন উসকে দিচ্ছেন। অনেকটা ভারতীয় সিরিয়ালেরই মতো। যেখানে এক বা একাধিক চরিত্র থাকে, যার বা যাদের কাজই হলো ‘কুটনামি’ করা। একজনের কথা অন্যজনকে নেগেটিভভাবে উপস্থাপন করা। আমাদের শোবিজেও বোধকরি এমনই একটা পরিস্থিতি চলছে। সুখের ঘরে তুষের আগুন লেগেছে। আমরা অনেকে তা বুঝেও না বোঝার ভান করছি। এটা ভবিষ্যতর জন্য ভালো ইঙ্গিত নয়। এটাই সত্যি…।
লেখক: কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, স¤পাদক- আনন্দ আলো।

 

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com