1. [email protected] : admin2017 :
  2. [email protected] : Sunam Kantha : Sunam Kantha
  3. [email protected] : wp-needuser : wp-needuser
বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই ২০২৪, ০৩:৫৮ অপরাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01711-368602

খাস কালেকশনের নামে অবাধে চাঁদাবাজি

  • আপডেট সময় শুক্রবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৩

স্টাফ রিপোর্টার ::
আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে তাহিরপুর উপজেলার শ্রীপুর ও ডাম্পেরবাজার নৌঘাটে চলছে অবৈধ খাস কালেকশন। খাস কালেকশন বন্ধে উচ্চ আদালতের স্পষ্ট নির্দেশনা থাকলেও সেটা মানা হচ্ছেনা। উপজেলার মন্দিআতা ও মনতলা গ্রামের একটি চক্র আদালতের আদেশ উপেক্ষা করে রাতে কয়লা, পাথরবাহী নৌকা ও চোরাই কয়লা নৌকা থেকে ৫-৭ হাজার টাকা করে অবৈধভাবে চাঁদা উত্তোলন করছে। তারা প্রতিদিন প্রায় লাখ টাকা উত্তোলন করছে অবৈধভাবে। চাঁদাবাজ চক্রের সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনের কয়েকজন দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, তাহিরপুরে এতিম তালুকদার ওয়াকফ অব স্টেইট ডাম্পের বাজার, শ্রীপুরঘাটসহ ওয়াকফের সম্পত্তি রক্ষায় তাহিরপুর সহকারী জজ আদালতে ১০/২০০২ স্বত্ত্ব মোকদ্দমা দায়ের করে। একই বছরের ২৭ এপ্রিল নি¤œ আদালত আদেশ দেন। আদালতের আদেশ স্থানীয় প্রশাসন না মানায় এতিম তালুকদার ওয়াকফ অব স্টেইট উচ্চ আদালতে যায়।
জানা গেছে, ১৪৩০ বঙ্গাব্দে এই ঘাটসহ কয়েকটি ঘাট ইজারা দিতে দরপত্র আহ্বান করে স্থানীয় প্রশাসন। এর বিরুদ্ধে এতিম তালুকদার ওয়াকফ অব স্টেইট উচ্চ আদালতে ২৮৭৭/২০২৩ রিট পিটিশন দায়ের করে। উচ্চ আদালত চলতি বছরের ৪ এপ্রিল ওয়াকফের পক্ষে রুল জারি করেন। আদালতের নির্দেশনায় ইজারাপ্রদান তৎপরতা স্থগিত করা হলেও পরবর্তীতে উপজেলা প্রশাসন খাস কালেকশনের জন্য ইজারা দেয়। এদিকে খাস কালেকশনের বিরুদ্ধেও ২৮৭৭/২০২৩ রিট পিটিশন দায়ের করলে উচ্চ আদালত গত ২ আগস্ট খাস কালেকশন বন্ধেও স্থগিতাদেশ দেন।
সরেজমিন গত ২৩ আগস্ট (বুধবার) ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, মনতলা গ্রামের মতিউর রহমান, তরিকুল ইসলাম, বাবলু মিয়া, তোফাজ্জল এবং মন্দিআতা গ্রামের জিলানি মিয়া ও শাহিন মিয়া প্রকাশ্যে কয়লাবাহী বাল্কহেড নৌকা আটকিয়ে ৫-৭ হাজার টাকা করে চাঁদা উত্তোলন করছেন। চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে নৌকার মাঝিদের হুমকি ধমকি এমনকি মারধরও করা হচ্ছে।
এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিদিন প্রায় ৩০টির মতো বাল্কহেড নৌকা ওই দুই ঘাট ব্যবহার করে। এর মধ্যে অর্ধেক কয়লাবাহী বৈধ নৌকা এবং অর্ধেক চোরাই কয়লাবাহী নৌকা। এই দুই ধরনের নৌকা থেকেই তারা খাস কালেকশন করছে।
প্রত্যক্ষদর্শী এলাকাবাসী জানান, বৈধভাবে খাস কালেকশন করা হলে নৌকা প্রতি ৫-৭শ টাকা নেওয়ার কথা। কিন্তু নৌকা থেকে জোর করে ৫-৭ হাজার টাকা উত্তোলন করা হচ্ছে। কেউ দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে মারধরসহ হুমকি ধমকিও দেওয়া হয়।
খাস কালেকশনে যুক্ত মতিউর রহমান খাস কালেকশন উত্তোলনের কথা স্বীকার করে বলেন, আমরা খাস কালেকশন বন্ধ বা স্থগিত বিষয়ে কিছু জানিনা। প্রশাসন আমাদের কিছু জানায়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আমির হামজা এন্ড মাইনুল নৌ পরিবহনের একজন জানান, আমরা জানতাম ৬-৭শ টাকা খাস কালেকশন করার কথা। কিন্তু প্রতিটি নৌকা থেকে ৫-৭ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়। কেউ দিতে অস্বীকার করলে তাদের উপর নির্যাতন চালানো হয়।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুপ্রভাত চাকমা বলেন, এতিম তালুকদার ওয়াকফ অব স্টেইট নিম্ন আদালতে যে মামলা করেছিল তা তাদের বিপক্ষে আদেশ হয়। তাই পরবর্তীতে সংক্ষুব্ধ হয়ে তারা উচ্চ আদালতে গেলে উচ্চ আদালতও স্বত্ত্ব মামলা মোকদ্দমাটি আবারও নি¤œ আদালতে পাঠিয়ে দেন। এই মামলাটি চলমান আছে। তবে প্রশাসনের কেউ খাস কালেকশনের সঙ্গে জড়িত নয় জানিয়ে তিনি বলেন, কেউ অবৈধভাবে চাঁদা তুললে আমরা অভিযান চালিয়ে থাকি।

 

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com