1. [email protected] : admin2017 :
  2. [email protected] : Sunam Kantha : Sunam Kantha
  3. [email protected] : wp-needuser : wp-needuser
সোমবার, ০৪ মার্চ ২০২৪, ০৮:৪৫ অপরাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01711-368602

গ্রেনেড হামলা মামলা : ১৯ বছরেও অধরা ১৩ আসামি!

  • আপডেট সময় সোমবার, ২১ আগস্ট, ২০২৩

সুনামকণ্ঠ ডেস্ক ::
দেশের ইতিহাসে ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা ছিল একটি বর্বরোচিত রক্তাক্ত ঘটনা। ঢাকার বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমাবেশে এই হামলায় সব মিলিয়ে প্রাণ হারান ২৪ জন। আহত হন কয়েক শ’ মানুষ। অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনা।
ভয়াবহ ওই হামলার ঘটনায় মামলা হয়। গত প্রায় ১৯ বছরে সেই মামলার বিচার কার্যক্রম নি¤œ আদালতে শেষ হলেও উচ্চ আদালতে এখনও বিচারাধীন। এই মামলায় সাজাপ্রাপ্ত ৫২ আসামির মধ্যে কারাগারে আটক আছেন ৩১ জন। সাবেক তিন আইজিপি জামিনে আছেন। গত বছর র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন মুফতি আবদুল হাই ও শফিকুর রহমান। অন্য মামলায় ফাঁসির দ-প্রাপ্ত হওয়ায় সাজা কার্যকর হয়েছে তিন আসামির।
করোনায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০২১ সালের ১৫ আগস্ট মারা গেছেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুর রহিম। ২০২২ সালে মারা যান বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক সচিব চৌধুরী আবদুল হারিছ ওরফে হারিছ চৌধুরীও।
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী এখনও পলাতক রয়েছেন ১৩ আসামি। দীর্ঘ ১৯ বছর ধরেই তারা ধরাছোঁয়ার বাইরে। তাদের খুঁজে বের করতে শুরু থেকেই তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। কিন্তু এখনও তাদের অবস্থানের সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই পুলিশের কাছে।
এ প্রসঙ্গে পুলিশ সদর দপ্তরের মিডিয়া শাখার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এনামুল হক সাগর বলেন, পলাতকদের মধ্যে তিনজনের নামে ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারি আছে। অন্য আসামিদের অবস্থানগত তথ্য জানার চেষ্টা চলছে।
২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় ঘোষণা করা হয় ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর। শুরুতে ১৮ জন আসামি পলাতক থাকলেও পরে দু’জন আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। এছাড়া করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা যান হারিছ চৌধুরী। গত বছর ধরা পড়েন আরও দুজন। অন্য ১৩ জন আসামি এখনও পলাতক। তাদের মধ্যে মৃত্যুদ- ও যাবজ্জীবন দ-প্রাপ্ত আসামিও রয়েছে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান তাদের একজন। পুলিশের খাতায় সবাইকে পলাতক দেখানো হলেও তারেক রহমান লন্ডনে রয়েছেন সেটা সবাই অবগত। অন্যদের বিষয়ে পুলিশ বিভিন্নভাবে জানতে পারে তাদের একাধিক সম্ভাব্য অবস্থানের কথা। তবে সুনির্দিষ্ট করে পলাতকদের বিষয়ে কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই।
পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র জানায়, তারেক রহমানের অবস্থানের তথ্য জানা থাকলেও তিনি কাগজে-কলমে পলাতক। পলাতক অন্য আসামিরা হচ্ছেন- কুমিল্লার মুরাদনগরের বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য কাজী শাহ মোফাজ্জেল হোসেন কায়কোবাদ, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) সাইফুল ইসলাম জোয়ার্দার, হানিফ পরিবহনের মালিক মোহাম্মদ হানিফ, নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদের শীর্ষ নেতা মাওলানা মোহাম্মদ তাজউদ্দিন মিয়া, বাবু রাতুল আহমেদ, মাওলানা মহিবুল মুত্তাকিন, আনিসুল মুরসালিন ওরফে মুরসালিন, মোহাম্মদ খলিল, জাহাঙ্গির আলম বদর, মো. ইকবাল, মাওলানা আবু বকর ওরফে হাফেজ লোকমান হাওলাদার ও মাওলানা লিটন ওরফে দেলোয়ার হোসেন ওরফে জোবায়ের।
তারেক রহমান :
পলাতক আসামিদের মধ্যে লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। ইন্টারপোলের রেড নোটিশে তার নাম দ্বিতীয় দফায় অন্তর্ভুক্ত করারও জোর চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ সদর দফতর। তবে এ বিষয়ে তারা এখনও সফল হতে পারেনি।
কাজী শাহ মোফাজ্জেল হোসেন কায়কোবাদ :
বিএনপি দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য শাহ মোফাজ্জেল হোসেন কায়কোবাদ সংযুক্ত আরব আমিরাত কিংবা মালেয়েশিয়াতে রয়েছেন বলে মনে করছেন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্বশীলরা। তাকে ফেরাতেও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। তার নামও ইন্টারপোলের তালিকায় ছিল। কিন্তু বিষয়টি রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে নিশ্চিত করে তার নাম ইন্টারপোলের রেড নোটিশের তালিকা থেকে বাদ দিতে সক্ষম হয়েছেন তিনি। এদিকে কায়কোবাদের ঘনিষ্ঠরা জানিয়েছেন, তিনি এখন সৌদি আরবে টুপি বিক্রি করেন।
মোহাম্মদ হানিফ :
হানিফ পরিবহনের মালিক মোহাম্মদ হানিফ এই মামলায় মৃত্যুদ-প্রাপ্ত আসামি। তাকে খুঁজে বের করতেও ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারি করা হয়। তার সম্ভাব্য অবস্থান থাইল্যান্ড বা মালেয়েশিয়া বলে জানায় পুলিশ।
মাওলানা মোহাম্মদ তাজউদ্দিন মিয়া :
২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার পরপরই ২০০৪ সালে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান মাওলানা মো. তাজউদ্দিন মিয়া। ঘটনার পরই ভুয়া পাসপোর্টে তাকে দেশের বাইরে পাঠিয়ে দেয়া হয়। তার অবস্থান শনাক্তের জন্য ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারি করা হয়। পুলিশের ধারণা, তিনি পাকিস্তানে আছেন। তবে কেউ কেউ বলছেন তিনি দক্ষিণ আফ্রিকায় অবস্থান করছেন।
রাতুল আহমেদ বাবু :
গ্রেনেড হামলা মামলায় মৃত্যুদ-প্রাপ্ত এই আসামির নামও রয়েছে ইন্টারপোলের রেড নোটিশের তালিকায়। তার সম্ভাব্য অবস্থান ইতালি ও দক্ষিণ আফ্রিকায় বলে জানতে পেরেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
আনিসুল মুরসালিন ও মহিবুল মুত্তাকিন :
হরকাতুল জিহাদের অন্যতম শীর্ষ জঙ্গি মাওলানা মহিবুল মুত্তাকিন ও আনিসুল মুরসালিন ওরফে মুরসালিন। এই দুই সহোদর বর্তমানে ভারতের তিহার কারাগারে সেখানে জঙ্গি কর্মকা-ের ঘটনায় আটক রয়েছেন।
অন্য পলাতক আসামিদের মধ্যে লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) সাইফুল ইসলাম জোয়ারদার কানাডায় এবং মাওলানা আবু বকর, মো. ইকবাল, খলিলুর রহমান, জাহাঙ্গীর আলম ওরফে বদর ও মাওলানা লিটন ওরফে জোবায়ের ওরফে দেলোয়ার পাকিস্তানে অবস্থান করছেন বলে ধারণা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের। তবে কারও সুনির্দিষ্ট অবস্থানের কোনো তথ্য নেই পুলিশের কাছে।
পলাতক আসামিদের অবস্থান ও তাদের ফিরিয়ে আনা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি (অপারেশন) আনোয়ার হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই পলাতক আসামিদের ফিরিয়ে আনার বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে কাজ করা হচ্ছে। আসামিরা কে কোথায় আছে তা জেনেই সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে। এ বিষয়ে সার্বক্ষণিকভাবে আমাদের এনসিবি ইন্টারপোলের সদর দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে। শিগগির তাদের ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে মনে করেন তিনি। – নিউজ বাংলা

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com