1. [email protected] : admin2017 :
  2. [email protected] : Sunam Kantha : Sunam Kantha
  3. [email protected] : wp-needuser : wp-needuser
সোমবার, ০৪ মার্চ ২০২৪, ০৩:২৬ অপরাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01711-368602

বিএনপিকে নিয়ে চাপ নেই আওয়ামী লীগে

  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ১০ আগস্ট, ২০২৩

সুনামকণ্ঠ ডেস্ক ::
সরকার পতনের আন্দোলনের অংশ হিসেবে ১৫ আগস্টের পর বিএনপির ঘেরাও বা অবস্থান কর্মসূচি দেওয়ার পরিকল্পনাকে আমলে নিচ্ছে না ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ।
দলীয় সূত্র বলছে, বিএনপি যে আন্দোলনের ঢেউ তুলেছিল, সেখান থেকে তারা সরে এসেছে। তাদের সুর নরম হয়ে গেছে। তাদের আন্দোলনের দম ফুরিয়ে গেছে। তাদের দিয়ে আর আন্দোলন হবে না। তারা ভেবেছিল, বিদেশিরা তাদের ক্ষমতায় বসিয়ে দেবে, তাদের সে ‘গুড়ে বালি পড়েছে’। সঙ্গত কারণে তাদের চোখ-মুখ শুকিয়ে গেছে। গত কয়েক মাস ধরে বিদেশিদের কাছে তারা অনেক ধরনা দিয়েছে। সম্প্রতি মার্কিন প্রতিনিধি উজরা জেয়া ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে এসে তাদের সঙ্গেও বৈঠক করেছে। কিন্তু বৈঠকে বিএনপি তেমন কোনো সাড়া না পেয়ে এখন অনেকটাই হতাশ হয়ে পড়েছে। তারা ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের সঙ্গেও কয়েক দফায় বৈঠক করেছে। কিন্তু সেখান থেকেও তারা তেমন কোনো সাড়া পায়নি।
সম্প্রতি সাধারণ স¤পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে বৈঠক করেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস। বৈঠক শেষে পিটার হাসের বক্তব্য বিএনপিকে আরও হতাশ করেছে। ফলে তারা এখন অনেকটা আন্দোলন থেকে চুপসে গেছে। তাদের আর কোনো আন্দোলন দেশে সাড়া ফেলবে না। তাদের এখন উচিত হবে হত্যা, ক্যু, সন্ত্রাস, নৈরাজ্যের মতো ষড়যন্ত্রের পথ বেছে না নিয়ে নির্বাচনি প্রস্তুতি নেওয়া। আর আন্দোলনের নামে আবার জ্বালাও-পোড়াও করলে আওয়ামী লীগও জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তাদের প্রতিহত করবে। তবে তাদের আন্দোলনের শুধু ফাঁকা বুলি। তারা ঘেরাও বা অবস্থান কর্মসূচি যাই দিক না কেন, এগুলোকে আওয়ামী লীগ কিছু মনে করছে না। তাদের কোমর ভেঙে গেছে।
আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা বলেন, তারা এখন আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাই বিএনপি কী করল না করল তা দেখার সময় নেই। বিএনপি শুধু ফাঁকা আওয়াজ দেয়। তারা চান বিএনপি আন্দোলনের নামে ষড়যন্ত্রের পথ পরিহার করে নির্বাচনের পথে আসুক।
তারা বলেন, বাংলাদেশের নির্বাচনের ব্যাপারে এ দেশের জনগণ সিদ্ধান্ত নেবে। বিএনপি যতই বিদেশি প্রভুদের কাছে ধরনা দিক না কেন কোনো লাভ হবে না। বিগত নির্বাচনের আগেও তারা এটা করেছিল, কিছুই করতে পারেনি। এবারও পারবে না। নির্বাচন হবে সংবিধান অনুযায়ী। এটা মেনেই বিএনপিকে নির্বাচনে আসতে হবে। তারা যতই আন্দোলন-সংগ্রাম করুক কোনো লাভ হবে না। তারা যদি ১৫ আগস্টের পর ঘেরাও বা অবস্থান কর্মসূচির নামে কোনো সহিংসতা করে, তবে প্রশাসন আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। পাশাপাশি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আগামী নির্বাচন পর্যন্ত মাঠে থাকবে। তাদের যেকোনো সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আমাদের নেতাকর্মীরা রাজপথে সমুচিত জবাব দেবে।
সূত্র বলছে, গত মে মাসে বাংলাদেশিদের জন্য ভিসানীতি প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির এই ভিসানীতির ফলে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগে বেশ চাপ সৃষ্টি হয়। আওয়ামী লীগের নেতাদের বক্তব্যে তখন অনেকটাই স্পষ্ট হয়। আতঙ্ক ছিল প্রশাসনেও। তবে, সম্প্রতি মার্কিন প্রতিনিধি উজরা জেয়া এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রতিনিধি দলের সফরের পর পরিস্থিতি পাল্টে গেছে অনেকটা। তবে সম্প্রতি আওয়ামী লীগের সাধারণ স¤পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে বৈঠক করে ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার হাস।
বৈঠক শেষে পিটার হাস বলেন, নির্বাচনব্যবস্থা নিয়ে চলমান রাজনৈতিক সংকট কীভাবে সমাধান হবে, সে প্রক্রিয়া রাজনৈতিক দলগুলোকেই নির্ধারণ করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র কোনো ধরনের সহিংসতা চায় না। অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন চায়। কোনো রাজনৈতিক দলকে অন্য দলের চেয়ে বেশি গুরুত্বও দেয় না। শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনে রাজনৈতিক দল, মিডিয়া, সুশীল সমাজ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সবারই ভূমিকা রয়েছে। জনগণ যেন নিজের পছন্দের প্রার্থীকে নির্বাচিত করতে পারে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ইস্যুতে আমাদের কোনো বক্তব্য নেই। ফলে চাঙ্গা হয়ে উঠেছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। অপরদিকে, গত ৩ মার্চ এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাফ জানিয়ে দেন বিদেশিদের যেই চাপই আসুক না কেন, জনগণের স্বার্থে যা করা দরকার, সরকার সেটাই করবে।
আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেন, বিএনপির আন্দোলনের মুরদ কী আছে সেটি আমরা জানি। তাদের বিগত দিনের আন্দোলন তো দেশবাসী দেখেছে। তারা যদি ১৫ আগস্টের পর বড় ধরনের কর্মসূচি দেয়, দেবে। কিন্তু কী কর্মসূচি দেবে সেটা দেখার বিষয়। আগে কর্মসূচি তারা দিক। তার পরে দেখব কীভাবে তাদের মোকাবিলা করা যায়। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আগামী জাতীয় নির্বাচন পর্যন্ত মাঠে আছে। মাঠ এখন আওয়ামী লীগের দখলে। আমাদের নেতাকর্মীরা নির্বাচনের আগে মাঠ ছাড়বে না। তারা যদি আন্দোলনের নামে সন্ত্রাসের পথ বেছে নেয়, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা রাজনৈতিকভাবে তাদের জবাব দেবে।
আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক স¤পাদক আহমদ হোসেন বলেন, বিএনপির ফাঁকা আওয়াজ দেশবাসী বুঝে গেছে। তারা ফাঁকা আওয়াজের দল। তাদের কথা কেউ বিশ্বাস করে না। তাদের এখন দম বন্ধ হয়ে গেছে। গত কয়েক দিন ধরে তাদের কোনো আওয়াজ নেই। এখন ভোটারদের কাছে তাদের গিয়ে ভোট ভিক্ষা চাওয়া উচিত। কারণ তারা বিগত দিনে যেসব অপকর্ম করেছে, এ জন্য জনগণের কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত। আর তারা সেটি না করে সন্ত্রাসের পথ বেছে নিলে জনগণ তাদের উচিত শিক্ষা দেবে। আগস্ট মাস বাঙালি জাতির শোকের মাস। এই মাসে তারা যদি কোনো ধরনের সন্ত্রাসের পথ বেছে নেয়, আমাদের নেতাকর্মীরা তাদের প্রতিহত করবে। পাশাপাশি প্রশাসনও তাদের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। তারা আর কোনো আন্দোলন করতে পারবে না। এখনও সময় আছে, তাদের একমাত্র পথ ষড়যন্ত্র পরিহার করে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া। এখন দেশে ডেঙ্গু প্রাদুর্ভাব বেড়েছে। এর পরেও তারা যদি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়, আমরা তাদের চিকিৎসা দেব।
আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক স¤পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল বলেন, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত মাঠে থাকবে। রাজপথ আওয়ামী লীগের নিয়ন্ত্রণে থাকবে। তাদের আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা রাজপথেই মোকাবিলা করবে। আর যদি আন্দোলন কর্মসূচির নামে অগ্নিসন্ত্রাসের পথ বেছে নেয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com