1. [email protected] : admin2017 :
  2. [email protected] : Sunam Kantha : Sunam Kantha
  3. [email protected] : wp-needuser : wp-needuser
সোমবার, ০৪ মার্চ ২০২৪, ০৯:২০ অপরাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01711-368602

নৌ ইউনিট করার পরিকল্পনা ছিল জঙ্গিদের!

  • আপডেট সময় শুক্রবার, ৪ আগস্ট, ২০২৩

সুনামকণ্ঠ ডেস্ক ::
জঙ্গি সংগঠন ‘জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বিয়া’র পরিকল্পনা ছিল একটি নৌ ইউনিট করার। সামরিক প্রশিক্ষণ নিয়ে সমতলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়লে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সবাই নৌ ইউনিটে গিয়ে আশ্রয় নেবে, এমনটাই পরিকল্পনা ছিল সংগঠনটির। আর এই নৌ ইউনিট করার পরিকল্পনা করা হয় পটুয়াখালীতে। এই ইউনিট করতে দায়িত্ব দেওয়া হয় সম্প্রতি গ্রেফতার হওয়া জঙ্গি সংগঠন হুজি থেকে শারক্বিয়ায় যোগ দেওয়া পটুয়াখালীর বাসিন্দা কাজী সরাজ উদ্দিন ওরফে সিরাজকে। গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।
কর্মকর্তারা বলছেন, শারক্বিয়ার সঙ্গে জড়িত এখন পর্যন্ত ১২ থেকে ১৫ জন ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। তারমধ্যে ১০ জনের মত নিখোঁজ যারা পাহাড়ে গিয়ে প্রশিক্ষণ নিয়েছে। এছাড়া পাহাড়ে প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করা দুজন রয়েছে। তাদের অবস্থান শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে কাজ করছেন র‌্যাবের গোয়েন্দারা।
শারক্বিয়ার যে দুই শীর্ষস্থানীয় নেতা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে আছে বলে র‌্যাব জানাচ্ছে, তারা হলো কারশে ও সিমরাত। যারা তথাকথিত হিজরতের উদ্দেশে পাহাড়ি এলাকায় গিয়েছিল, তাদের প্রশিক্ষণ দিয়েছিল এই দুই জন। তারা দুজনই উচ্চ ক্ষমতাস¤পন্ন বিস্ফোরক বা আইইউডি তৈরিতে পারদর্শী।
র‌্যাব বলছে, প্রশিক্ষণের পর সমতলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকার পর যদি তারা মনে করে সমতলে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ছে সে বিষয়টি মাথায় রেখে আগে থেকেই নৌ ইউনিটের পরিকল্পনা করা হয়। আর এই নৌ ইউনিটের অর্থায়নের পেছনে অর্থদাতা হিসেবে ছিল আনসার আল ইসলাম। পটুয়াখালী ভোলার মধ্যে থাকা বড় নদীগুলোকে টার্গেট করে এই নৌ ইউনিট করার পরিকল্পনা ছিল। বড় নদীগুলো পার হয়ে যেসব চর রয়েছে সেখানে অবস্থান করারও পরিকল্পনা ছিল তাদের। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেলে নৌপথ ব্যবহার করে নিজেদের অর্থায়নে বানানো বড় বড় নৌকার মাধ্যমে বড় বড় নদীগুলোতে অবস্থান করবে এমনটাই পরিকল্পনা ছিল তাদের।
র‌্যাব আরও জানায়, এতকিছু পরিকল্পনা করার পর নৌ ইউনিট করার জন্য অর্থ লগ্নী করলেও পরবর্তীতে সেটি কিছুটা পিছিয়ে যায়। কারণ পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় তারা একটি মানানসই জায়গা পেয়েছিল যার সহায়তা করে বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন কেএনএফ। যেখানে সামরিক প্রশিক্ষণ নেওয়ার সুযোগ পায় শারক্বিয়ায় যুক্ত হওয়া সদস্যরা।
শারক্বিয়ার প্রথমদিকে যে ধরনের প্রশিক্ষণগুলো হয়েছে সেগুলো পটুয়াখালীতে হয়েছে উল্লেখ করে র‌্য্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, সব ধরনের পরিকল্পনা করেই তারা সংগঠনের কাজগুলো পরিচালনা করে আসছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বাড়লে তারা কোথায় কীভাবে অবস্থান নেবে, কোন কোন জায়গায় অবস্থান নেবে সে বিষয়ে আগে থেকেই তারা পরিকল্পনা করে রেখেছিল। সমতলে প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর যখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা তারা টের পেয়ে যায়, তখন তারা পাহাড়ি এলাকায় পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় গিয়ে আস্তানা গাড়ে। এর আগেও তারা সমতলে থাকার সময় নৌপথ ব্যবহার করে একটি নৌ ইউনিট করার পরিকল্পনা করেছিল। সেখানে থেকে আত্মগোপনে থেকে সংঘটিত হওয়ার পরিকল্পনাও ছিল তাদের। যদিও শেষ পর্যন্ত তা করতে সফল হয়নি।
রাবের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, পাহাড়ে শারক্বিয়ার কোনও সদস্য এখন আর লুকিয়ে নেই। তারা এখন সমতলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
র‌্যাব জানায়, যারা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে তাদের জন্য এই জঙ্গি সংগঠনকে পুনরায় চাঙা করে সক্রিয় হওয়া অনেকটাই কঠিন। কারণ দলটি নতুন। জেএমবি, হুজি কিংবা আনসার আল ইসলাম থেকে সদস্য হিসেবে শারক্বিয়ার যুক্ত হলেও এখন অনেকে তারা আবার পুরনো দলগুলোতে যুক্ত হওয়ার চেষ্টায় রয়েছে।
র‌্যাবের তথ্য বলছে, ২০২২ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৩ সালের ৩০ জুলাই পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন জায়গা এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বিয়ার ৮২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পাহাড়ে অবস্থান প্রশিক্ষণ এবং অন্যান্য কার্যক্রমে জঙ্গিদের সহায়তার অভিযোগে পাহাড়ি বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন কেএনএফ এর ১৭ জন নেতাকে এখন পর্যন্ত গ্রেফতার হয়েছে। যদিও এখন পর্যন্ত কেএনএফ এর কথিত প্রধান নাথান বমকে গ্রেফতার করতে পারেনি বাহিনীটি।
এখন পর্যন্ত সংগঠনটির আমির আনিসুর রহমান ওরফে মাহমুদ, দাওয়াতি শাখার প্রধান আবদুল্লাহ মায়মুন, সামরিক শাখার প্রধান রণবীর ও উপপ্রধান মানিক, অর্থ ও গণমাধ্যম শাখার প্রধান রাকিব, অর্থ বিষয়ক প্রধান সমন্বয়ক মুনতাসির, দাওয়াতি ও অন্যতম অর্থ সরবরাহকারী হাবিবুল্লাহ, বোমা বিশেষজ্ঞ বাসার ও পার্বত্য অঞ্চলের প্রশিক্ষণ কমান্ডার দিদার হোসেন ওরফে চ¤পাই গ্রেফতার হয়েছে।
এছাড়া কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি) শারক্বীয়ার প্রতিষ্ঠাতা শামীন মাহফুজসহ প্রায় ১০ জনকে গ্রেফতার করে।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com