1. [email protected] : admin2017 :
  2. [email protected] : Sunam Kantha : Sunam Kantha
  3. [email protected] : wp-needuser : wp-needuser
রবিবার, ২৬ মে ২০২৪, ১১:৩৪ পূর্বাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01711-368602

হাওর-নদীতে বৈদ্যুতিক তারের মরণফাঁদ

  • আপডেট সময় শনিবার, ২২ জুলাই, ২০২৩

জাহাঙ্গীর আলম ভূঁইয়া ::
তাহিরপুরের টাঙ্গুয়ার হাওরের দিগন্তজোড়া মায়াবী সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে প্রতিদিনই ছুটে আসছেন শত শত পর্যটক। তবে জল আর আকাশের সৌন্দর্য্যরে মাঝে ‘মরণফাঁদ’ হয়ে দেখা দিয়েছে নদী ও হাওরের দুই শতাধিক পয়েন্টে আড়াআড়িভাবে ঝুলে থাকা পল্লীবিদ্যুতের তার। এই মরণফাঁদে ১১ দিনের ব্যবধানে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দুই জন নিহত হয়েছেন। সচেতন ব্যক্তিবর্গ বলছেন, সঠিক উচ্চতায় বিদ্যুৎ সঞ্চালন তারগুলো টানিয়ে না দিলে এমন দুর্ঘটনা আরও ঘটতে পারে।
গত শনিবার (৮ জুলাই) দুপুরে বৌলাই নদীতে পল্লীবিদ্যুতের তারে জড়িয়ে তাহিরপুর সদর ইউনিয়নের উজান তাহিরপুর গ্রামের আব্দুল লতিফের ছেলে জানে আলম ঝন্টু নিহত হন। এছাড়া বৃহস্পতিবার (২০ জুলাই) পাটলাই নদীতে পল্লী বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে জামরুল মিয়া (৪৫)-এর মৃত্যু হয়। তিনি ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল থানার বাড়ই গ্রামের মৃত হারুন রশীদের ছেলে। এ দুর্ঘটনায় আহত হন আরও ৩ জন।
সোহানুর রহমান সোহাগ বলেন, পর্যটন স্পটখ্যাত হাওর এলাকায় যে সকল নদী ও হাওরপাড়ের গ্রাম ও নদীর উপর দিয়ে বৈদ্যুতিক তার নিচু বা ঝুলে আছে সেগুলো সঠিক উচ্চতায় টানানো প্রয়োজন। পল্লী বিদ্যুতের তারে অপেক্ষাকৃত নিচু হওয়ায় সেখানে জড়িয়ে দু’জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা রুবেল মিয়া জানান, হাওরে পর্যটকদের অতিরিক্ত সুবিধা দিতে গিয়ে অপরিকল্পিতভাবে হাউজবোট তৈরি করছে ব্যবসায়ীরা। সেই সাথে পল্লীবিদ্যুতের ঝুলে থাকা তারের কারণে হাওরে মৃত্যুফাঁদ তৈরি হয়েছে। এ ব্যাপারে জরুরি পদক্ষেপ প্রয়োজন। তা না হলে কে, কখন দুর্ঘটনার শিকার হবে আমরা কেউ বলতে পারবো না।
তাহিরপুর উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলী আহমদ মোরাদ বলেন, বছরে দীর্ঘ ছয় থেকে সাত মাস পানিতে পরিপূর্ণ থাকে নদী ও হাওরাঞ্চল। তাই স্থায়ীভাবে পল্লীবিদ্যুতের ঝুলে থাকা তার সঠিক উচ্চতায় টানানোর ব্যবস্থা করতে হবে। বিষয়টিকে বিদ্যুৎ বিভাগ, জেলা এবং উপজেলা প্রশাসনকে বিশেষ গুরুত্ব সহকারে দেখতে হবে এবং দ্রুত উদ্যোগ নিতে হবে। না হলে আরও প্রাণহানির ঘটনা ঘটবে। কারণ পর্যটন স্পট হিসেবে এই হাওর এলাকায় পর্যটক আসবেই।
তাহিরপুর উপজেলার দায়িত্বে থাকা পল্লী বিদ্যুতের এজিএম ইকরাম হোসেন জনি বলেন, নদী ও হাওর এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ লাইন নিয়ে আমরা কাজ করছি। ঝুঁকিপূর্ণ লাইন চিহ্নিত করা হয়ে সেগুলোতে নিরাপত্তা চলাচলের জন্য সতর্কতা অবলম্বন করাসহ প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। এছাড়াও অতিরিক্ত উচ্চতায় ও নিয়মবর্হিভূতভাবে তৈরি করা হাউজবোট ও নৌকাগুলো এই দুর্ঘটনার কারণ বলে দাবি করেন তিনি।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুপ্রভাত চাকমা বলেন, সামান্য অসতর্কতায় দুর্ঘটনার শিকার হতে হয়। তাই আগত সকল পর্যটক, হাউজবোট ও নৌকা চালকদের আরও সজাগ থাকতে হবে। হাউজ বোট ও নৌকাগুলোর তৈরি করা থেকে শুরু করে সকল বিষয়ে তদরকি বাড়ানো হবে।
তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান করুণাসিন্ধু চৌধুরী বাবুল বলেন, বর্ষায় হাওর এলাকায় পর্যটকবহনকারী নৌকার ব্যবহার বেড়ে যায়। নৌকা চালকসহ সবাইকে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। বিশেষ করে রাতে চলাচলের সময় সাবধান থাকতে হবে। আর নদীর উপর আড়াআড়িভাবে টানানো পল্লী বিদ্যুতের তারের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলবো।

 

 

 

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com