1. [email protected] : admin2017 :
  2. [email protected] : Sunam Kantha : Sunam Kantha
মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৬:২৭ পূর্বাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01711-368602

শনিবার থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ শুরু

  • আপডেট সময় শুক্রবার, ১৪ জুলাই, ২০২৩

শহীদনূর আহমেদ ::
হাইকোর্টের রিট পিটিশন অনুযায়ী সুনামগঞ্জ পৌরসভার অভ্যন্তরে অবস্থিত ৫টি খাল উদ্ধারে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে জেলা প্রশাসন ও সুনামগঞ্জ পৌরসভা। খালগুলো হলো- কামারখাল, তেঘরিয়া খাল, বড়পাড়াখাল, নলোয়াখালি খাল, বলাইখালি খাল। এই পাঁচটি খাল উদ্ধারে গতকাল বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী শহরে মাইকিং করা হয়েছে।
গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী এই পাঁচটি খালের সীমানা এলাকা লাল কালি দ্বারা ইতিমধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে। উল্লেখিত খালগুলোতে অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণ করে যেসকল ব্যক্তি বসবাস বা ব্যবসা করে আসছেন তাদের ১৪ জুলাইয়ের মধ্যে নিজ দায়িত্বে মালামাল ও স্থাপনা সরিয়ে নেয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। আগামী ১৫ জুলাই সকাল ১০টা থেকে মহামান্য হাইকোর্টের রিটপিটিশন আদেশ অনুযায়ী অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু হবে। উচ্ছেদ কার্যক্রম জেলা প্রশাসন ও পৌর কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে পরিচালনা করবে বলে জানা যায়।
এর আগে সুনামগঞ্জে খাল উদ্ধারে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) পক্ষ থেকে জনস্বার্থে একটি মামলা (যার নং-১০৮১/২০২৩) করা হয়। মামলার প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ চলতি বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জ পৌর শহর ও আশপাশের এলাকার পাঁচটি খালের দখলদারদের পূর্ণ তালিকা করে তাদের উচ্ছেদের আদেশ দেন। একই সঙ্গে খালগুলোর সীমানা নির্ধারণেরও নির্দেশ দেওয়া হয়। আদালত নির্দেশনা বাস্তবায়ন সাপেক্ষে ছয় মাসের মধ্যে মামলার বিবাদীদের এ বিষয়ে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। অন্তর্র্বর্তীকালীন এ আদেশের পাশাপাশি অননুমোদিত দখল থেকে পাঁচটি খাল রক্ষায় বিবাদীদের ব্যর্থতাকে কেন আইনবহির্ভূত ও জনস্বার্থ পরিপন্থী ঘোষণা করা হবে না, তা-ও জানতে চেয়েছেন আদালত।
বেলা’র মামলার বিবাদীরা করা হয়- ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের সচিব, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র, পরিবেশ অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক, সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পওর বিভাগ-১) নির্বাহী প্রকৌশলী, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সুনামগঞ্জ কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সদর উপজেলা সহকারী কমিশনারকে (ভূমি)।
এদিকে, খাল উদ্ধারের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন সুনামগঞ্জ শহরের সচেতন মহল। এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে শহরের হারানো ঐতিহ্য ফিরে আসার পাশাপাশি পৌর এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসন ও পানি প্রবাহ স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে মনে করছেন পৌর নাগরিকরা।
সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট শাহ আলম মহিউদ্দিন বলেন, পৌরবাসীর এটি দীর্ঘদিনের দাবি শহরের খালগুলো উদ্ধার করা হোক। আমরা আইনজীবীরা খাল উদ্ধারের দাবিতে মানববন্ধন করেছি। ইতিপূর্বে অনেক সামাজিক সংগঠন বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন। দেরিতে হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ খাল উদ্ধারের উদ্যোগ নেয়ায় স্বাগত জানাই।
পরিবেশকর্মী প্রভাষক ফজুলল করিম সাইদ বলেন, আমরা চাই এই উচ্ছেদ অভিযান যেন কেবল লোক দেখানোর জন্য না হয়। মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী খালের প্রকৃতি সীমানা চিহ্নিত করে খালের উপর নির্মিত স্থাপনা যাতে উচ্ছেদ করা হয়। মাঝপথে যেন উচ্ছেদ অভিযান থেমে না যায় এমনই প্রত্যাশা করি।
এদিকে খাল উদ্ধারে পৌরবাসীর সহযোগিতা চেয়েছেন পৌর মেয়র নাদের বখত। তিনি বলেন, শহরবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল শহরের খালগুলো উদ্ধার করার। এ ব্যাপারে মহামান্য হাইকোর্টের একটি নির্দেশনাও রয়েছে। আগামী ১৫ জুলাই থেকে পৌরসভা ও জেলা প্রশাসন যৌথভাবে খাল উদ্ধারে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করবে। খাল উদ্ধারে সর্বস্তরের জনগণের সহযোগিতা চাই। যারা খাল দখল করেছেন আশা করছি তারা নিজেরা তাদের স্থাপনা অপসারণ করবেন।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com