1. [email protected] : admin2017 :
  2. [email protected] : Sunam Kantha : Sunam Kantha
  3. [email protected] : wp-needuser : wp-needuser
বুধবার, ২৯ মে ২০২৪, ১১:৫৫ পূর্বাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01711-368602

হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধ নিয়ে শঙ্কা কাটছে না

  • আপডেট সময় রবিবার, ২৬ মার্চ, ২০২৩

বিশেষ প্রতিনিধি ::
সুনামগঞ্জে বিভিন্ন হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধে ফাটল দেখা দিয়েছে। ভালো করে কমপেকশন (দুর্মুজকরণ) না হওয়ায় অল্প বৃষ্টিতেই এই সমস্যা দেখা দিয়েছে। ভারি বৃষ্টিপাত হলে বাঁধগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।
এদিকে টাঙ্গুয়ার হাওরের নজরখালি বাঁধ (পাউবো নির্মিত বাঁধ নয়) ভেঙে যাওয়ায় মধ্যনগর উপজেলার উত্তর ও দক্ষিণ বংশিকু-া ইউনিয়নের কয়েকটি হাওরের ফসল ঝুঁকিতে আছে। টাঙ্গুয়ার হাওরে ফসল চাষাবাদ না হওয়ায় প্রশাসন নজরখালিতে ফসলরক্ষা বাঁধের প্রকল্প গ্রহণ করেনি। তবে স্থানীয়রা ভেঙে যাওয়া এই বাঁধটি রক্ষার চেষ্টা করে যাচ্ছেন।
হাওর আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ফসলরক্ষা বাঁধের কাজে সরকার বিপুল পরিমাণ বরাদ্দ দিলেও কমপেকশন, স্লোভ ও দুর্বাঘাস লাগানোতে নজরদারি ছিল কম। যার ফলে কাজ শেষ হয়েছে দাবি করলেও এখনো এই জরুরি কাজ অসমাপ্ত রয়েছে। দিরাই ও শাল্লা উপজেলার অধিকাংশ বাঁধেই ফাটল দেখা দিয়েছে। আটগাঁও ইউনিয়নের অধিকাংশ বাঁধই কয়েকদিনের অল্প বৃষ্টিতে ছোট ছোট ফাটল দেখা দিয়েছে। ভারি বৃষ্টি হলে বড়ো ফাটলের আশঙ্কা রয়েছে। যথাসময়ে কাজ শুরু হলে বাঁধে ফাটল দেখা দিতোনা বলে জানান কৃষকরা।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রতিদিনের আবহাওয়া বুলেটিন থেকে দেখা যায়, গত ২০ মার্চ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত জেলার সব নদ-নদীতে পানি সামান্য বেড়েছে। কয়েকদিনের হাল্কা বৃষ্টিতে সুনামগঞ্জের বিভিন্ন নদ নদীর পানি কিছুটা বাড়লেও এতে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার কোন কারণ নেই বলে জানিয়েছে সিলেট আবহাওয়া অফিস। পানি উন্নয়ন বোর্ড আবহাওয়া সতর্কীকরণকেন্দ্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, আগামী ২৮ মার্চ কিছু বৃষ্টিপাত হতে পারে। এরপরে আপাতত বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা কম।
এদিকে গত ২৩ মার্চ তাহিরপুর উপজেলার টাঙ্গুয়ার হাওরের নজরখালি এলাকার নিচু বাঁধটি ভেঙে যায়। স্থানীয়রা এখন সেই বাঁধ মেরামত করার চেষ্টা করছেন। গত সপ্তাহে ভারতের মেঘালয়ে বৃষ্টিপাতের কারণে সুনামগঞ্জের যাদুকাটা, বৌলাই, রক্তি, পাটলাই ও পইকরতলা, চলতি, সুরমাসহ বিভিন্ন নদীতে পানি কিছুটা বেড়েছে।
মধ্যনগরের রংচী গ্রামের বাসিন্দা স্থানীয় ইউপি সদস্য নুরুজ্জামান সিদ্দিকী বলেন, গতবছর পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) আট লক্ষ টাকা ব্যয়ে এই বাঁধ নির্মাণ করেছিল। ৩১ মার্চ এই বাঁধটি ভেঙে যায়। এবার ২৩ মার্চই ভেঙে গেছে। টাঙ্গুয়ার হাওর আন্তর্জাতিক রামসার সাইট হিসেবে এখানে কোন প্রকল্প গ্রহণ করার নিয়ম না থাকায় প্রশাসন বাঁধ দেয়নি। এখানে বাঁধ না দেওয়ায় আমাদের মধ্যনগর উপজেলার হাওরগুলোর ফসল অনেকটা ঝুঁকিতে আছে। কারণ ভারি বৃষ্টিপাত ও বা উজানের ঢল হলে আমাদের সর্বনাশ হয়ে যাবে।
শাল্লা উপজেলার মৌরাপুর গ্রামের কৃষক শিশু সরকার বলেন, আমাদের এলাকায় বাইরের এলাকা থেকে হায়ার করে কৃষক এনে পিআইসি দেওয়া হয়েছে। তাই বাঁধের কাজ টেকসই হয়নি। এখন ফাটল ধরতেছে বাঁধে। যথাসময়ে ও যথাযথভাবে কাজ হলে বাঁধগুলো ঝুঁকির মধ্যে পড়তোনা।
হাওর বাঁচাও আন্দোলনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক চিত্তরঞ্জন তালুকদার বলেন, আমি ধর্মপাশা ও মধ্যনগরের বিভিন্ন বাঁধ দেখেছি। অনেক বাঁধে ফাটল দেখা দিয়েছে। কমপেকশন ও দুর্বাঘাস লাগানো হয়নি। ভারি বৃষ্টিপাত হলে বাঁধ ঝুঁকিতে পড়বে।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর জেলায় ২০৩ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়ে ১ হাজার ৭৬টি পিআইসির (প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি) কাজ বাস্তবায়ন করে। এবার ৫৪টি ছোট বড়ো হাওরে ৭৪৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করেছে। সংশ্লিষ্টরা এ পর্যন্ত ৯৫ ভাগ বাঁধের কাজ শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছে। তবে এবার যাচ্ছেতাই প্রকল্প বাড়িয়ে সরকারে অর্থ লোপাট করা হচ্ছে বলে কৃষকদের অভিযোগ।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী-২ শামসুদ্দোহা বলেন, অল্প বৃষ্টিতে নদ-নদীর পানি কিছুটা বাড়লেও আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। তবে সম্প্রতি হাল্কা বৃষ্টিতে যেসব বাঁধে সামান্য ফাটল দেখা দিয়েছে তা সংস্কারসহ বাঁধে দুর্বাঘাস লাগানোর কাজ চলমান আছে। ফসল গোলায় ওঠার আগ পর্যন্ত এই কাজ চলমান থাকবে।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com