1. [email protected] : admin2017 :
  2. [email protected] : Sunam Kantha : Sunam Kantha
সোমবার, ২৭ মার্চ ২০২৩, ১০:৫২ পূর্বাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01711-368602

শ্রেণিকক্ষে বইয়ের গুদাম : পাঠদান ব্যাহত

  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ২ মার্চ, ২০২৩

জাহাঙ্গীর আলম ভুঁইয়া ::
স্কুলটিতে আছে একটি চার কক্ষবিশিষ্ট একতলা ভবন ও তিনটি শ্রেণিকক্ষবিশিষ্ট একটি দু’তলা ভবন কাম আশ্রয় কেন্দ্র। এর মধ্যে একতলা বিল্ডিংয়ের চারটি কক্ষের মধ্যে তিনটি শ্রেণিকক্ষেই সরকারি বইয়ের গুদাম করে রাখায় হয়েছে। এ কারণে তিনটি শ্রেণির শতাধিক কোমলমতি শিশুদের স্কুলে এসে এখন মেঝেতে বসে পাঠ গ্রহণ করতে হচ্ছে। এছাড়াও শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের নিয়মিত সঠিকভাবে পাঠদান করতে পারছেন না। সরেজমিনে এমন চিত্রই দেখা গেছে তাহিরপুর উপজেলার উজান তাহিরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। এনিয়ে অভিভাবক ও সচেতন মহলে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।
তাহিরপুর সদর ইউনিয়নের বৌলাই নদীর পাড়ে ও তাহিরপুর-সুনামগঞ্জ সড়কের পাশেই উজান তাহিরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এই বিদ্যালয়ে প্রাক প্রাথমিক, দ্বিতীয় ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের তিনটি শ্রেণিকক্ষ তালাবদ্ধ আছে দীর্ঘদিন ধরে। প্রাক প্রাথমিক ৩০, দ্বিতীয় ৫০ ও পঞ্চম শ্রেণিতে ৫০ জন শিক্ষার্থী শিক্ষার্থী রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, শ্রেণিকক্ষ তালাবদ্ধ থাকায় সকাল থেকে শিক্ষার্থীরা এসে এলোমেলোভাবে ঘুরাফেরা করছে বিদ্যালয় আঙিনায়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দু’তলা বিল্ডিংয়ের নিচের মেঝেতে বসে আছে কিছু শিক্ষার্থী আরও কিছু শিক্ষার্থী রয়েছে বারান্দায়। অন্যরা মাঠে বা এদিক-সেদিক এলোমেলোভাবে ঘুরাফেরা করছে। অন্যদিকে কিছু শিক্ষার্থী স্কুলের পরিত্যক্ত একটি টিন সেডের ঘরে কয়েকটি বেঞ্চে বসে আছে কিন্তু শিক্ষক নেই।
শিক্ষার্থীরা জানায়, শ্রেণিকক্ষকে বইয়ের গুদাম হিসেবে ব্যবহার করায় এগুলো তালাবদ্ধ আছে দীর্ঘদিন ধরে। তাই তারা শ্রেণিকক্ষে পাঠ গ্রহণ করতে পারে না। শিক্ষকরা তাদের জানিয়েছেন, চট বিছিয়ে মেঝেতে বসতে। এতে শিক্ষার্থীদের কষ্ট হচ্ছে।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সহ-সভাপতি ইয়াছিম মিয়াসহ অন্য অভিভাবকগণ ক্ষোভের সাথে বলেন, আমাদের ছেলে-মেয়েদের স্কুলে পাঠিয়ে দেই সকালে। স্কুল শেষে বাড়ি ফিরে এসে তারা জানায় মেঝেতে বসে তাদের পাঠ দেয়া হয়। এটা খুবই মন্দ কাজ। শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষ বন্ধ করে বইয়ের গুদাম করার এমন কোনো নিয়ম আছে বলে আমাদের জানা নেই। এর একটা বিহিত করা প্রয়োজন।
উজান তাহিরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিলীপ কুমার গাঙ্গুলী বলেন, বিদ্যালয়ের তিনটি শ্রেণিকক্ষে সরকারি বইসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সামগ্রী রাখার কারণে তালাবদ্ধ। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশই রাখা হচ্ছে। আমাদের কিছু করার নেই। তবে শ্রেনিকক্ষে গুদাম করার কারণে শিক্ষার্থীদের অনেক কষ্ট হয় ও পাঠ্যদান চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। তিনটি শ্রেণিকক্ষ বন্ধ থাকায় দুটি শ্রেণিকক্ষে কোনো রকমে পাঠ্যদান চালিয়ে যাচ্ছি। এতে সঠিকভাবে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় মনোযোগী হতে পারছে না।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মইনুল হক জানান, বছরের পর বছর ধরে এভাবে স্কুলের শ্রেণিকক্ষ বইয়ের গুদাম করে রাখায় পাঠদান চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। আর শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
এ বিষয়ে তাহিরপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সৈয়দ আবুল খায়ের জানান, আমি প্রায়দিনই ওই বিদ্যালয়ে যাই। সেখানে কোনো শ্রেণিকক্ষের সংকট নাই। তবে বিদ্যালয়ের তিনটি শ্রেণিকক্ষে সরকারি বই রাখা আছে। আগামী ৬-৭ দিনের মধ্যে বই বিতরণ শেষ করা হবে। আর যেগুলো থাকবে তা অন্য কোনো স্থানে রাখার ব্যবস্থা করা হবে।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com