1. [email protected] : admin2017 :
  2. [email protected] : Sunam Kantha : Sunam Kantha
রবিবার, ২৬ মার্চ ২০২৩, ১২:১৩ অপরাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01711-368602

প্রতিশ্রুতি হাওরডুবিকে প্রতিহত করতে পারে না

  • আপডেট সময় রবিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩

কোনও কোনও প্রাকৃতিক দুর্যোগ কখন, কোথায় এবং কীভাবে ঘটে তা আগে থেকেই মানুষ এখনও একেবারে সুনির্দিষ্ট করে জানতে পারে না। ভূমিকম্প তার একটি। ভূমিকম্প হতেই পারে, মানুষ সেটা জানে। সে-জন্য বাড়ি-ঘর ইত্যাদি স্থাপনা মজবুত করে বানাতে হয়। যাতে উচ্চমাত্রার ভূমিকম্পেও ভেঙে না পড়ে। কিন্তু যখন ভূমিকম্পসহিষ্ণু স্থাপনা নির্মাণের সরকার নির্ধারিত নিয়ম না মেনে স্থাপনা তৈরি করা হয় তখন সে-সব স্থাপনা ভূমিকম্পের চোটে সহজেই ভেঙে পড়ে। এমন হলে ভূমিকম্পের ভয়াবহতাটি আর প্রাকৃতিক দুর্যোগ থাকে না, বরং হয়ে যায় মানবসৃষ্ট দুর্যোগ। বলা হচ্ছে, এই মানবসৃষ্ট দুর্যোগই সংঘটিত হয়েছে সিরিয়া ও তুরস্কে, যেখানে কয়েকদিন আগের ভূমিকম্পে ৪০ হাজারেরও বেশি লোক নিহত হয়েছেন। দুই দেশের সাধারণ মানুষেরা ভূমিকম্পে ভয়াবহ ক্ষতির কারণ হিসেবে ভবন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ও ঠিকাদারদের দুর্নীতিকে দায়ী করছেন। এবং প্রকৃতপ্রস্তাবে সত্য এটাই, দুর্নীতি করে টাকা উপার্জনের লোভাগ্নি ভূমিকম্পকে প্রতিহত করার কার্যকর ব্যবস্থা অবলম্বনের সদিচ্ছাকে জ্বালিয়ে ছাই করে দিয়েছে।
আমাদের দেশের অবস্থা আরও খারাপ। এক শ্রেণির মানুষের এই হেনতেন প্রকারেণ টাকা উপার্জনের সীমাহীন লোভের আগুন দেশের সকল সাংস্কৃতিক কিংবা সামাজিক-আর্থনীতিক উন্নয়ন কার্যক্রমের পরিসরে তুষের আগুনের মতো ধিকিধিকি জ্বলছে। পুড়িয়ে দিচ্ছে সকল ফসল ও সাফল্যকে। বর্তমান সমাজসংস্থিতির পরিপ্রেক্ষিত বিবেচনায় অনিয়ম দুর্নীতির বিষয়টা একটি কাঠামোগত অনিয়ম-দুর্নীতিতে পর্যবসিত হয়েছে। এর ব্যাপক বিস্তৃতি-গভীরতার ফিরিস্তি দিতে গেলে তার বহরটা কয়েক হাজার সম্পাকীয়র বহরবপুত্বকেও ছাড়িয়ে যাবে। আপাতত কেবল হাওর দুর্নীতির প্রসঙ্গে যৎকিঞ্চিৎ আলোকপাত করছি। গত শুক্রবার (১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩) দৈনিক সুনামকণ্ঠে হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণকাজে বরাদ্দ, অনিয়ম, দুর্নীতি, অগ্রগতি ও করণীয় ইত্যাদি বিষয় নিয়ে একটি মতবিনিময় সভার সংবাদ ছাপা হয়েছে। বিভিন্নজনের বক্তব্য থেকে ফসলরক্ষাবাঁধের কাজের যে-সার্বিক পরিস্থিতি প্রতিভাত হয়েছে তাতে ফসলডুবির আশঙ্কাকে উড়িয়ে দেওয়া গেলেও অনিয়ম-দুর্নীতি যে সংঘটিত হয়েছে সেটার নিশ্চয়তাকে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। আমাদের কথা হলো, যে-দুর্নীতির কারণে সিরিয়া-তুরস্কে ভূমিকম্পের ভয়াবহতা বেড়েছে সেই একই অনিয়ম-দুর্নীতি ঘটছে হাওরের ফসলরক্ষাবাঁধ নির্মাণেরকাজে। বাংলাদেশে কমবেশি আটমাত্রার ভূমিকম্প হলে বুঝা যাবে ভবন নির্মাণে কতোটা অপরিণামদর্শী অনিয়ম-দুর্নীতি এখানে সংঘটিত হয়েছে। এমনটা যেনো কখনওই না হয়। আপাতত যেটা লক্ষণীয়, সেটা হলো, তুরস্ক-সিরিয়ায় দুর্নীতিটি হয়েছে ভবন নির্মাণে আর এখানে হাওরে ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণে। ভূমিকম্পে তাৎক্ষণিক ৪০ হাজারের অধিক সংখ্যক মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং সমগ্র হাওরাঞ্চলে ফসলডুবি হলে কম করে হলেও দুই/তিন কোটি মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা বিঘিœত হবে, পরিস্থিতি সামাল দিতে না পারলে এখানেও মানুষের মৃত্যু হওয়াটা কোনও অস্বাভাবিক ব্যাপার হবে না তখন। বিষয়টা অবশ্যই গুরুতর। ভেবে দেখতে হবে।
তুরস্ক-সিরিয়ার ভূমিকম্পকে প্রধানত যে-কারণে মানবসৃষ্ট বলা হচ্ছে, সেই মানবসৃষ্ট দুর্যোগ সংঘটনের সকল আলামত বিদ্যমান আছে হাওররক্ষা বাঁধ নির্মাণের কর্মকা-ের পরতে পরতে। দুর্নীতির প্রমাণ মেলে মতবিনিময় সভায় যখন পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ এমপি বলেন, ‘২০১৭ সালে আগাম বন্যায় ফসল তলিয়ে যাওয়ার পর ফসলরক্ষা বাঁধের বরাদ্দ ছিল মাত্র ৩৪ কোটি টাকা।’ অথচ জেলাবাসী জানেন, ২০১৭ সালের পরের বছর ২০১৮ সালে বাঁধের কাজ সুচারুরূপেই সম্পন্ন হয়েছিল তৎকালের জেলা প্রশাসকের কঠোর নিয়ন্ত্রণে। সে-বছর হাওররক্ষা বাঁধ নির্মাণকাজে সকল প্রকার অনিয়ম-দুর্নীতিকে কঠোর হস্তে প্রতিহত করা হয়েছিল। এমপি মিসবাহ আরওবলেন, ‘প্রতি বছর বাঁধের বরাদ্দ বৃদ্ধি পাচ্ছে। […] অন্যান্য বারের তুলনায় এবার ২ শত কিলোমিটার বাঁধ বেশি হয়েছে। এসব বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। বাঁধের দৈর্ঘ্য কেন বেড়ে গেলো তা তদন্ত করতে হবে।’
আর কথা বাড়িয়ে লাভ নেই। সার কথা হলো, এখনও সময় আছে। প্রশাসন কঠোর হলে হাওররক্ষা বাঁধ নির্মাণকাজে অনিয়ম-দুর্নীতিকে প্রতিহত করা সম্ভব। দুর্নীতি হলে ছাড় দেওয়া যাবে না, বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং বিধপ্রতিশ্রুতিতে ফসল রক্ষা হবে না, হাওরডুবিকে প্রতিহত করা যাবে না।

 

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com