1. [email protected] : admin2017 :
  2. [email protected] : Sunam Kantha : Sunam Kantha
রবিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০৮:২৫ অপরাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01711-368602

ফসলডুবির আশঙ্কাকে বাস্তব করে তোলবেন না

  • আপডেট সময় বুধবার, ২৫ জানুয়ারী, ২০২৩

গত মঙ্গলবার (২৪ জানুয়ারি ২০২৩) দৈনিক সুনামকণ্ঠে একটি সংবাদের শিরোনাম ছিল, ‘নির্ধারিত সময়ে বাঁধের কাজ শুরু হয়নি : জেলাজুড়ে প্রতিবাদ’। সংবাদের শুরুতেই বলা হয়েছে, ‘হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ নির্ধারিত সময়ে শুরু না করার প্রতিবাদে জেলাজুড়ে প্রতিবাদ সমাবেশ এবং মানববন্ধন করেছে হাওর বাঁচাও আন্দোলন। কর্মসূচি থেকে সবগুলো হাওরে বাঁধের কাজ দ্রুত শুরু করার দাবিও জানানো হয়। হাওর বাঁচাও আন্দোলন সুনামগঞ্জ জেলা কমিটি সোমবার সকালে শহরের আলফাত স্কয়ারে প্রতিবাদ সমাবেশ এবং মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে।’
প্রতি বছরের মতো এবারও চিরন্তন দীর্ঘসূত্রিতার কবলে পড়েছে হাওরের বোরো ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণের কাজ। এমতাবস্থায় ২০১৭ সালের শতভাগ ফসলডুবির আশঙ্কাকে একেবারে ফুঁ দিয়ে উড়িয়ে দেওয়া যায়না। ভুলে গেলে চলবে না, গত বছরে অনিশ্চিত আচরণে অভ্যস্ত প্রকৃতির খামখেয়ালীপনাসঞ্জাত স্মরণাতীতকালের ভয়াবহ বন্যার কথা। প্রকৃতির অপ্রতিরোধ্য খামখেয়ালীপনার আশঙ্কাকে ভুলে না গিয়ে বোরো ফসলের উপর অকাল বন্যার আকস্মিক ও অপ্রত্যাশিত আক্রমণকে প্রতিহত করার সার্বিক প্রস্তুতি সুনামগঞ্জের অবশ্যই থাকতে হবে এবং সে-প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে পিছিয়ে পড়লে বা ব্যর্থ হলে চলবে না। প্রশাসনের ভেতরে যে- চিরন্তন করিব কর্মা তান্ত্রিকতা বিদ্যমান আছে সেটা অন্তত যাতে হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণের কাজে প্রযুক্ত না হয় সেটাকে অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে। পাউবো ও জেলা প্রশাসনকে এ বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে। যদিও ইতোমধ্যে প্রমাণিত হয়েছে যে, তাঁরা সজাগ তো ননই বরং তাঁদের উদাসীনতার কারণে ‘১৫ ডিসেম্বর বাঁধ নির্মাণকাজ শুরু করার কথা থাকলেও এখনও পর্যন্ত বেশির ভাগ হাওরে কাজ শুরুই হয়নি। ২৮ ফেব্রুয়ারি বাঁধ নির্মাণকাজ শেষ করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় কাজ শুরু হচ্ছে না। পাউবো অফিস ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এখনো পিআইসি নিয়ে দর কষাকষিতে রয়েছেন। এবং জেলাজুড়ে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে।’ কর্তৃপক্ষের এই জেগে ঘুমিয়ে থাকার ‘কুম্ভকর্ণের ঘুম’ ভেঙে জেগে উঠার আহ্বান জানাচ্ছি না। কারণ অতীতে এমন, আহ্বান, আবেদন, মিনতি ইত্যাদি যে তাঁদের কর্ণপাত হয়না তার ভুরিভুরি উদাহরণের ইতিহাস আছে। কিন্তু ভুলে যাওয়া উচিত নয় যে, সবকিছুরই একটা সীমা থাকে এবং সীমালঙ্ঘন খুব একটা ভালো কিছু নয়। বলা তো যায় না, এমনতর সীমালঙ্ঘনের কারণে ২০১৭ সালের শতভাগ ফসলডুবির ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলে হয়েও যেতে পারে। কারণ কীহবে সেটা কেউ নিশ্চিত করে জানেনা। আমরা কেবল বলতে চাই, কোনও কাজের নির্দিষ্ট তারিখ নির্ধারণ করে সে-নির্ধারিত কাজ সচেতনভাবে কিংবা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে পিছিয়ে দিয়ে স্বার্থোদ্ধারের সুযোগ সৃষ্টি করার এবং তার বিপরীতে জনগণের স্বার্থ ক্ষুণœ করার অধিকার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কে দিয়েছে? যে-স্বার্থ ক্ষুণœ হলে হাওরাঞ্চলের বোরো ফসল শতভাগ ডুবে যাওয়ার আশঙ্কাকে সত্যি ঘটনায় পর্যবসিত করে দিতে পারে। প্রশাসনের কাছে আমাদের দাবি এই যে, এর একটি বিহিত ব্যবস্থা করুন; অতীতের সব উদাসীনতা, গাফিলতিকে বাদ দিয়ে অন্তত এবার একবারের জন্য এবং হাওর রক্ষা বাঁধের কাজ যাতে এই মুহূর্তে শুরু হয় তা যে-করেই হোক নিশ্চিত করুন। আবারও বলি, সময় থাকতে একটা কীছু করুন। ফসলডুবির আশঙ্কাকে বাস্তব করে তোলবেন না। সেটা হবে অপরিণামদর্শিতার পরাকাষ্ঠা। ২০১৭ সালের মতো আবারও ফসলডুবির পর বিপন্ন দুর্গত হাওরবাসী কৃষকদেরকে সান্ত¡না প্রদানের নাটক মঞ্চস্থ করার কর্তৃপক্ষীয় ব্যবস্থাকে প্রতিরোধ করুন। কথাটা একেবারে ফালতু কোনও কথা নয়। প্রকৃতির উপর কোনও ভরসা করা যায় না। ঘটনা ঘটেও যেতে পারে।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com