1. [email protected] : admin2017 :
  2. [email protected] : Sunam Kantha : Sunam Kantha
  3. [email protected] : wp-needuser : wp-needuser
বুধবার, ২৯ মে ২০২৪, ১২:০১ অপরাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01711-368602

আলোর মুখ দেখছে দিরাই-শাল্লা সড়ক

  • আপডেট সময় শুক্রবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২২

জয়ন্ত সেন ::
‘বর্ষায় নায়, হেমন্তে পায়’ এই প্রবাদবাক্যটির বাস্তবতা এখনো শাল্লায় পরিলক্ষিত হয়। উপজেলাটি সরকার ঘোষিত একটি দুর্গম উপজেলা। এই উপজেলার বৈশিষ্ট্য হলো বছরের ছয়মাস গ্রামের চারিদিকে থৈথৈ পানি আর বাকি ছয়মাস শুকনো মৌসুম। বর্ষায় যোগাযোগ ব্যবস্থার একমাত্র মাধ্যম হচ্ছে নৌকা। শুকনো মৌসুমে গ্রাম থেকে উপজেলায় যাতায়াতের একমাত্র ভরসা পায়ে হেঁটে। এভাবেই যুগযুগ ধরে গ্রামীণ মেঠোপথে কষ্ট করে মাইলের পর মাইল পায়ে হেঁটে যাতায়াত করতে হয় সাধারণ মানুষকে। ৬ থেকে ৭ বছর যাবৎ শুকনো মৌসুমে মাটির রাস্তায় মোটরসাইকেলে চড়ে অভ্যস্ত হয়েছে মানুষ। অন্যদিকে বর্ষায় ¯পীডবোট অথবা নৌকা। তাও অধিক ভাড়া গুণতে হয় যাত্রীদের। শাল্লা থেকে দিরাই ২০কিলোমিটার রাস্তায় মোটরসাইকেলে যেতে ভাড়া দিতে হয় দুইশ টাকা আর বর্ষায় ¯পীডবোটে গুনতে হয় ২৫০টাকা। যা সাধারণ মানুষের সামর্থ্যের বাইরে। শুকনো মৌসুমে উপজেলায় চারচাকার কোন গাড়ি না চলায়, ভরসা কেবল মোটরসাইকেল।
ভাঙাচোরা আধাপাকা রাস্তায় মোটরসাইকেলে যাতায়াত করতে গিয়ে মাঝে মধ্যেই ঘটে অনাকাক্সিক্ষত দুর্ঘটনা। কারো হাত পা ভাঙে তো করো জুটে মৃত্যু। এভাবেই উপজেলার প্রায় ২ লাখেরও অধিক জনসংখ্যার সাধারণ মানুষকে পোহাতে হয় চরম দুর্ভোগ। বিশেষ করে দুর্ভোগের শেষ থাকেনা গর্ভবতী নারী ও অন্যান্য মুমূর্ষু রোগীদের ক্ষেত্রে।
তবে এই জনদুর্ভোগ লাঘবের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ইতোমধ্যে দিরাই-শাল্লা রাস্তা নির্মাণে ৬২৮ কোটি টাকার প্রকল্প প্রস্তাবটি একনেকে অনুমোদন হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে শীঘ্রই সড়কটির নির্মাণকাজ শুরু হবে।
প্রসঙ্গত, দিরাই-শাল্লা সড়কের জন্য অক্লান্ত শ্রম দিয়েছিলেন প্রয়াত জাতীয় নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। বলার অপেক্ষা রাখেনা যে, শাল্লায় সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের ভোট ব্যাংকের কারণেই ৭বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। ফলে তাঁর স্বপ্ন ছিল অবহেলিত ও দুর্গম উপজেলাবাসীর যাতায়াতের জন্য একটি সড়ক তৈরি করা। যা শাল্লা থেকে দিরাই উপজেলা হয়ে সুনামগঞ্জ জেলার সাথে সংযুক্ত হবে। জীবনের শেষপ্রান্তে এসে অনেকটাই সফলতার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিলেন তিনি। ২০১০ সালে দিরাই-শাল্লার ২০কিলোমিটার রাস্তার প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। কাজ শুরু হয় ২০১১ সালে। রাস্তার কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০১৭ সালে। এ রাস্তায় ছোট বড় ১৭টি সেতু ও কালভার্ট নিয়ে প্রকল্পে বরাদ্দ দেওয়া হয় ৯৯কোটি টাকা। পরে প্রকল্পের ব্যয় বাড়ানো হয় আরও ২০কোটি টাকা। কিন্তু সেখানেও ছিল দুর্নীতির থাবা। ফলে রাস্তার ১১৯ কোটি টাকার কাজ অসমাপ্ত থেকে যায়। ২০১৭ সালে মাটির কাজ শেষ না করেই তড়িঘড়ি করে কার্পেটিংয়ের কাজ শুরু করা হয়েছিল। অনেক সেতু ও কালভার্টের অ্যাপ্রোচে মাটি ভরাটের কাজও করা হয়নি। যেটুকু কাজ হয়েছিল, তাও এখন ভেঙে গেছে। অনেক জায়গায় ভেঙে গেছে সেতুও।
দিরাই উপজেলার তলবাউসীর সেতুটি ভেঙে গেছে। ভেঙে গেছে ধনপুর গ্রামের সেতুটিও। শাল্লা উপজেলার ভোলানগর গ্রামের সেতুটি ধসে কিছুটা নিচে নেমে গেছে। সুখলাইন গ্রামের কালভার্টের উত্তর অংশের অ্যাপ্রোচ হেলে পড়েছে। অনেক জায়গায় ভেঙে গেছে রাস্তা, উঠে গেছে কার্পেটিংও। ফলে তৈরি হয়েছে ছোট বড় গর্ত। এমন পরিস্থিতিতে মোটরসাইকেলে চলাচল করতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনার কবলে পড়েন মানুষ। ঠিকাদারদের অবহেলার কারণে কাক্সিক্ষত সড়কের দুঃখ ঘুচেনি শাল্লাবাসীর। তবে আশার আলো দেখা গেছে আরেকটি প্রকল্পে। ২০২২ সালে সংসদ সদস্য জয়া সেনগুপ্তার প্রচেষ্টায় আরেকটি প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানো হয় মন্ত্রণালয়ে। ৬২৮কোটি টাকার প্রকল্প প্রস্তাবটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তরিকতায় একনেকে অনুমোদন হয়। টেন্ডার রিসিভও করা হয়। মাস দেড়েকের মধ্যে কাজও শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম বলেন, দিরাই-শাল্লা সড়কের ৬২৮ কোটি টাকার প্রকল্প প্রস্তাবটি একনেকে অনুমোদন হয়েছে। টেন্ডার রিসিভও হয়েছে। তবে ওয়ার্ক অর্ডার এখনো হয়নি। এক দেড় মাস সময় লাগবে। তিনি জানান, দিরাই-শাল্লা সড়কটি আরও উঁচু করা হবে। আগে যেটা করা হয়েছে, সেটা নিচু হওয়ায় বন্যার পানি উঠে যেতো বা ভেঙে যেতো। এখন দুই লেনের ২০ কিলোমিটার সড়কটি উঁচু করে তৈরি করা হবে। এতে আরও ১৪টি সেতু ও কালভার্ট নির্মাণ করা হবে। ওই রাস্তায় ছোট বড় মোট ৩১টি সেতু ও কালভার্ট থাকবে। তিনি আরও বলেন, শাল্লা থেকে ১৬ কিলোমিটার আরেকটি রাস্তা হবিগঞ্জ জেলার জলসুখা পর্যন্ত তৈরি হচ্ছে। ৫১টি সেতু ও কালভার্ট নির্মাণ করা হবে। ওই প্রকল্পের বরাদ্দ ৭৭৯ কোটি। প্রকল্পটির কাজ চলমান আছে বলে জানান তিনি।
এ ব্যাপারে শাল্লার বাসিন্দা অধ্যাপক কানাইলাল সরকার বলেন, দিরাই-শাল্লা সড়কটি অস¤পূর্ণ থাকায় আমাদের দুর্ভোগের শেষ নেই। রাস্তাটির কাজ দ্রুত শুরু করার দাবি জানান তিনি।
অধ্যাপক তরুণ কান্তি দাস বলেন, দিরাই-শাল্লা সড়কের কাজ আগে না করলে, শাল্লা-জলসুখা সড়ক আমাদের কোনো কাজে লাগবে না। তিনি বলেন দিরাই-শাল্লা সড়ক হলে শাল্লা টু জলসুখা সড়কের গুরুত্ব বাড়বে। অন্যথায় শাল্লা থেকে জলসুখা সড়ক অনেকটাই অর্থহীন বলে জানান তিনি।
জানা যায়, শাল্লা থেকে জলসুখা পর্যন্ত ১৬ কিলোমিটার সড়কটির কাজ শেষ হবে ২০২৪ সালের জুন মাসে। অপরদিকে সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে দিরাই- শাল্লার ২০ কিলোমিটার সড়কের কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে ২০২৫ সালের জুন মাসে।

 

 

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com