1. [email protected] : admin2017 :
  2. [email protected] : Sunam Kantha : Sunam Kantha
  3. [email protected] : wp-needuser : wp-needuser
বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই ২০২৪, ০১:২১ অপরাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01711-368602

এসসি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ভর্তি কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগ

  • আপডেট সময় বুধবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০২২

স্টাফ রিপোর্টার ::
সুনামগঞ্জের প্রাচীনতম ও ঐতিহ্যবাহী নারীশিক্ষার প্রতিষ্ঠান সরকারি সতীশ চন্দ্র বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে এবার অনলাইন ভর্তি কার্যক্রম নিয়ে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রধান শিক্ষক নীতিমালার বিরুদ্ধে গিয়ে দুটি ভর্তি ফরমের বদলে ভর্তিচ্ছুদের কাছে একাধিক ফরম বিক্রি করেছেন। অফলাইন লটারির দিন এই বিষয়টি নজরে আসলে ভর্তি কমিটি তাৎক্ষণিক শতাধিক আবেদন বাতিল করেন। এরপরও একাধিক আবেদন রয়ে গেছে বলে জানাযায়। যার ফলে লটারিতে একজনের নাম একাধিকবার ওঠে এসেছে। তবে কি পরিমাণ আবেদন করা হয়েছিল এবং কি পরিমাণ আবেদন জমা পড়েছিল জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। গত ১১ ডিসেম্বর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অফলাইন লটারি সম্পন্ন হয়। এদিকে মঙ্গলবার বিকেলে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় কয়েকজন সাংবাদিক এই স্কুলের প্রধান শিক্ষক হাফিজ মাশহুদ চৌধুরীর অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আহ্বান জানিয়েছেন।
জানা গেছে, সম্প্রতি অনলাইনে শিক্ষার্থী ভর্তির আবেদন শুরুর পর বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অনলাইন প্রক্রিয়ায় যুক্ত হতে পারছেননা এই ত্রুটি দেখিয়ে অফলাইনে ফরম বিক্রি শুরু করেন। নীতিমালা অনুসারে দুই শিফটের স্কুলে একজন ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী দুটি ফরম ক্রয় করতে পারে। কিন্তু সরকারি এসসি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তিচ্ছু অনেক শিক্ষার্থীর কাছে ৪-৮টি পর্যন্ত ফরম বিক্রি করা হয়। নিয়মানুযায়ী একটি ফরমের মূল্য ১১০ টাকা রাখার নির্দেশনা থাকলেও অতিরিক্ত টাকা নেয়া এবং অতিরিক্ত টাকার কোন রশিদ দেয়া হয়নি এমন অভিযোগও আছে। অনলাইন আবেদন ফরম ১১০ টাকার বদলে ৪৪০ টাকা নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিপত্রে (স্মারক নং-৩৭.০২.০০০০.১০৭.৩১.৩৩৩.২০২১,অংশ-১, ২৯৬৮) লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে আবেদন ফরমের মূল্য কোনভাবেই ১১০/- (একশত দশ টাকা) টাকা নেওয়ার সুযোগ ছিলনা।
গত ১১ ডিসেম্বর সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে অফলাইনে লটারির কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। তবে লটারির আগে একটি সিটের বিপরীতে একেকজন শিক্ষার্থীর ৪-৬টি আবেদন নজরে আসে ভর্তি কমিটির। তারা তাৎক্ষণিকভাবে প্রায় শতাধিক আবেদন বাতিল করেন। সময়ের অভাবে অন্যগুলো দেখে বাতিল করা সম্ভব হয়নি। একজন ৪-৬টি আবেদন করায় অফলাইন লটারিতে একাধিকবার নাম ওঠেছে। তাছাড়া বাতিলকৃত আবেদনের টাকা ফেরত দেওয়া হবে কি না তাও জানেন না অভিভাবকরা।
ভর্তি কমিটি সূত্রে জানা গেছে, ডে ও মর্নিং শিফটে একজন ভর্তিচ্ছু ছাত্রী দুটি আবেদনপত্র ক্রয় করতে পারে। কিন্তু প্রধান শিক্ষকের খামখেয়ালিপনায় অনলাইনে আবেদন ফরম বিক্রি না করে অফলাইনে একাধিক আবেদন ফরম বিক্রি করা হয়। অতিরিক্ত টাকা দিয়ে একাধিক আবেদন ক্রয় করে ভর্তি হওয়ার আশায় ফরম কিনেন অভিভাবকরা। শেষ দিকে তাদের আবেদন বাতিল হওয়ায় হতাশ হয়েছেন তারা। তারা এখন বাতিলকৃত আবেদনের টাকা ফিরত চাইছেন।
এদিকে একজন শিক্ষার্থী ৪-৬টি আবেদন ক্রয় করায় অফলাইন লটারিতে একজনের নাম একাধিকবার ওঠার তথ্য পাওয়া গেছে। ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ডে শিফটে ৯ নম্বর ক্রমিকের এক ছাত্রী মর্নিং শিফটে ২৫ নম্বর ক্রমিকে সুযোগ পেয়েছে। এভাবে আরো একাধিকজনের নাম লটারিতে একাধিকবার ওঠেছে বলে জানা গেছে।
উকিলপাড়া এলাকার বাসিন্দা রাসেল চৌধুরী বলেন, প্রধান শিক্ষক নীতিমালাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে অফলাইনে ফরম বিক্রি করেছেন। অতিরিক্ত টাকার সঙ্গে নিয়ম বহির্ভূতভাবে একাধিক আবেদন ফরমও বিক্রি করেছেন। যার ফলে একজন শিক্ষার্থীর নাম একাধিকবার অফলাইন লটারিতে ওঠেছে। এতে অন্যরা বঞ্চিত হয়েছে। যাদের ফরম বাতিল করেছে কমিটি তাদের টাকা ফেরতসহ প্রধান শিক্ষক নীতিমালা বিরোধী কাজ করায় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক হাফিজ মো. মাশহুদ চৌধুরী বলেন, অনলাইন সমস্যার কারণে আমরা অফলাইনে ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করেছি মাউশিকে (মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর) জানিয়ে। কতগুলো আবেদন বিক্রি হয়েছে এবং কতটি আবেদন বাতিল হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার কাছে এই তথ্য নেই। আমি ভর্তি কমিটির কাছে সবকিছু দিয়ে দিয়েছি। তবে ফরম বিক্রি বা ভর্তি কার্যক্রমে কোন অনিয়ম হয়নি দাবি করেন তিনি।
ভর্তি কমিটির সদস্যসচিব মো. মনসুর রহমান খান বলেন, গত ১১ ডিসেম্বর অফলাইন ভর্তির লটারি হয় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে। এর কিছুক্ষণ আগে আমাদের চোখে এক একজন শিক্ষার্থীর ৪-৬টি করে আবেদন চোখে পড়ে। যতগুলো তাৎক্ষণিক চোখে পড়েছে এরকম শতাধিক আবেদন আমরা বাতিল করেছি। তিনি বলেন, দুই শিফটের স্কুলে দুটি আবেদন একজন ক্রয় করতে পারে। বেশি আবেদন ফরম বিক্রির কোন সুযোগ নেই। এটা নীতিমালা বিরোধী কাজ হয়েছে।
ভর্তি কমিটির সভাপতি ও সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক দিদারে আলম মোহাম্মদ মাকসুদ চৌধুরী বলেন, আমরা লটারির দিন কিছু আবেদন বাতিল করেছিলাম। বাতিলকৃত আবেদনের টাকা ফেরত পাওয়া যাবে কি-না আমার সেটা জানা নেই। তবে লটারিতে একজন শিক্ষার্থীর নাম একাধিকবার ওঠার বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নিচ্ছি।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com