1. [email protected] : admin2017 :
  2. [email protected] : Sunam Kantha : Sunam Kantha
  3. [email protected] : wp-needuser : wp-needuser
সোমবার, ১৭ জুন ২০২৪, ০৮:০৫ পূর্বাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01711-368602

সড়ক সংস্কারে ধীরগতি : ভোগান্তিতে চার উপজেলার মানুষ

  • আপডেট সময় সোমবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২২

বিশেষ প্রতিনিধি ::
সুনামগঞ্জের কাঠইর-জামালগঞ্জ সড়কের সংস্কার কাজ আটকে আছে প্রায় দুই বছর ধরে। যথাসময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় সাম্প্রতিক বন্যায় ভয়াবহ ক্ষতি হয়েছে সড়কটির। এখন এই সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। সড়কটি ছিন্নভিন্ন হয়ে যাওয়ায় এখন বিকল্প পথে যাতায়াত করছেন ধর্মপাশা, জামালগঞ্জ, শান্তিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সুবিধাভোগী এলাকার মানুষজন।
সুনামগঞ্জ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার কাঠইর থেকে জামালগঞ্জের মান্নানঘাট পর্যন্ত স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক রয়েছে। এই সড়ক দিয়ে ধর্মপাশা, জামালগঞ্জ, শান্তিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সুবিধাভোগী এলাকার হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন যাতায়াত করেন। অন্যদিকে কাঠইর থেকে জয়নগর পর্যন্ত প্রায় ১১ কিলোমিটার সড়ক রয়েছে। এই সড়কে দুটি উপজেলার মানুষজন নিয়মিত যাতায়াত করেন। গত কয়েক বছর ধরে এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি বেহাল অবস্থায় আছে। এই বেহাল অংশের ১০ কিলোমিটার থেকে ৩ কিলোমিটার অংশ সংস্কারে সরকার গত অর্থ বছরে কাজ শুরু করলেও এখনো শেষ হয়নি। এর মধ্যে গত জুন মাসের ভয়াবহ বন্যায় এই অংশের অন্তত ৭ কিলোমিটার সড়ক ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে। এখন এই সড়ক দিয়ে যান চলাচল প্রায় বন্ধ। ফলে চারটি উপজেলার বিভিন্ন এলাকার লোকজন এখন এই সড়ক এড়িয়ে সাচনা-সুনামগঞ্জ, ভিমখালি-নোয়াখালি সড়ক হয়ে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করে যাতায়াত করেন। সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের নদীতীরবর্তী গ্রামের মানুষজন সড়কটিতে অসংখ্য খানাখন্দ থাকায় এখন সুরমা নদী দিয়ে নৌকা করে টুকেরবাজার-হবতপুর নেমে সুনামগঞ্জ জেলা শহর ও বিভাগীয় শহরে যাতায়াত করেন। এতে সময় ও অর্থ অপচয় হচ্ছে তাদের।
প্রায় দুই বছর অতিবাহিত হলেও ১০ কিলোমিটার সড়কের সংস্কারকাজ কাজ শেষ করতে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। তারা অবিলম্বে সংস্কারকাজ শেষ করে জনদুর্ভোগ লাঘবের আহ্বান জানিয়েছেন।
মোহনপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি নিজাম উদ্দিন বলেন, গত বন্যায় জয়নগর থেকে হোসেননগর পর্যন্ত সড়কের বেশিরভাগ জায়গা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখন আর যান চলাচলের উপযুক্ত নয়। গত দুই বছর ধরে সংস্কারকাজ শুরু হলেও এখনো কাজ শেষ হচ্ছেনা। কবে শেষ হবে জানেনা কেউ। যদি কার্যাদেশের সময় থেকে কাজ শুরু করা যেতো তাহলে গত বন্যার আগেই কাজটি শেষ হয়ে যেতো। এতো ক্ষয়-ক্ষতি কম হতো।
কাঠইর ইউনিয়নের বাসিন্দা ও সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট বুরহান উদ্দিন বলেন, এই সড়কটি দিয়ে কয়েকটি উপজেলার অংশবিশেষের মানুষজন যাতায়াত করেন। গত দুই বছর ধরে পুরান শাখাইতি থেকে জয়নগর পয়েন্ট পর্যন্ত সড়কটি বেহাল। এখন বন্যায় আরো নষ্ট হয়েছে। তাই এই সড়কে যান চলাচল কমে গেছে। চালকরা দুর্ঘটনার ভয়ে এখন গাড়ি চালান না। তাই আমাদের এলাকার মানুষজন যাতায়াতে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। দ্রুতগতিতে সংস্কারকাজ শেষ করার আহ্বান জানান তিনি।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা স্থানীয় সরকার বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, এই সড়কের সদর উপজেলার প্রায় সাত কিলোমিটার খুবই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সংস্কারকাজ চলার সময় বন্যা আসায় ক্ষতির পরিমাণ আরও বেড়েছে। এই সড়কসহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অন্যান্য সড়ক সংস্কারে সরকার প্রায় ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। শীঘ্রই এই সড়কের সংস্কারকাজ শেষ হবে।
সুনামগঞ্জ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাহবুব আলম বলেন, এলজিইডির গুরুত্বপূর্ণ অনেক সড়ক বন্যায় ভয়াবহ রকম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সংস্কার কাজ দ্রুত সম্পন্ন এবং এই সড়কের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অন্যান্য এলাকার কাজ শুরু হয়েছে। এছাড়াও যে এলাকা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তা প্রথাগত সংস্কার না করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সেখানে কজওয়ে করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com