1. [email protected] : admin2017 :
  2. [email protected] : Sunam Kantha : Sunam Kantha
  3. [email protected] : wp-needuser : wp-needuser
রবিবার, ১৬ জুন ২০২৪, ০৯:৪৮ পূর্বাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01711-368602

কী হতে পারে ১০ ডিসেম্বর?

  • আপডেট সময় শুক্রবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২২

রাজন ভট্টাচার্য
আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বাকি আরও অন্তত এক বছর। এরমধ্যেই নির্বাচন ইস্যুতে উত্তপ্ত রাজনীতি। বিরোধী দল জাতীয় পার্টি গত ১৪ বছর ধরে সংসদের ভেতরে-বাইরে নিরুত্তাপ থাকলেও দেশের প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি বিএনপি বসে নেই। নাটকীয়ভাবে প্রধান মিত্র জামায়াতের সঙ্গে স¤পর্ক ছেদ করলেও দেশের কেউ বিশ্বাস করে না বিএনপির সঙ্গে হরিহর আত্মার কোনও বিচ্ছেদ হতে পারে! অর্থাৎ বিএনপি সরকারবিরোধী রাজনীতির কর্মসূচির ঘোষণা দিলে এতে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জামায়াত অংশ নেবে। এটাই স্বাভাবিক।
নির্বাচন ঘনিয়ে আসার আগে আগে বিএনপির পক্ষ থেকে ঘোষণা একটাই, তারা সরকারের পতন চায়। রাজনৈতিক সরকারের অধীনে নির্বাচন না চাইলেও এটা তাদের দ্বিতীয় ধাপের ইস্যু। প্রথম পর্ব সফল করতে ইতোমধ্যে দলটির শীর্ষ এক নেতা ঘোষণা দিয়েছেন, আগামী ১০ ডিসেম্বর থেকে খালেদা জিয়ার ও তারেক রহমানের কথায় দেশ চলবে।
কী মারাত্মক কথা! এই আল্টিমেটামের মানে আসলে কী? তাহলে কী ঘোষিত তারিখে সরকারের পতন ঘটাতে যাচ্ছে তারা। এরপর প্রধানমন্ত্রী হবেন বিএনপি প্রধান? তারেক রহমানের কথায় দেশ চলবে। নাকি বিএনপির নেতৃত্বে দেশের সব দল ১০ ডিসেম্বরের আগেই ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলনে মাঠে নামবে। তারা সবাই খালেদা জিয়ার কথামতো কর্মসূচি পালন করবেন। অর্থাৎ হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালার ভূমিকায় অবতীর্ণ করা হবে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে।
কথা হলো, শুধু রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়াতেই এসব বলে বেড়াচ্ছেন বিএনপি নেতারা? নাকি এই আল্টিমেটামের আসলেই কোনও মাজেজা আছে?
প্রস্তুতি থাক বা না থাক- বিএনপি সরকার পতনের লক্ষ্যে চূড়ান্ত আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছে এটা কিন্তু নেতাদের কথায় স্পষ্ট। এরই ধারাবাহিকতায় আপাতত সভা-সমাবেশের মাধ্যমে কর্মসূচি পালন করছেন তারা। তাই ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় সমাবেশের মধ্য দিয়ে সরকারের পতনের লক্ষ্য কল্পনায় হলেও স্থির করা হয়েছে।
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আসলে তা কতটা সম্ভব? বিএনপি সরকারের পতন ঘটাবে, আর টানা তিন মেয়াদে ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ তথা ১৪ দল বসে থাকবে? তারা পাল্টা কোনও ব্যবস্থা নেবে না? এটা হয়। নিশ্চয় এ নিয়ে আওয়ামী লীগেরও পরিকল্পনা রয়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা আরও হয়তো ¯পষ্ট হবে। একটি নির্বাচিত সরকারকে এভাবে আল্টিমেটাম দিয়ে পতন ঘটানো যায়। যে সংসদে বিএনপিরও প্রতিনিধিত্ব রয়েছে। নাকি আল্টিমেটামের তত্ত্ব কোনও জ্যোতিষী দিয়েছেন।
তাহলে ১০ ডিসেম্বর আসলে কী হতে পারে? এই আলোচনায় যাওয়ার আগে একটু রাজনীতির পেছনের ইতিহাসে ঘুরে আসতে চাই। মনে আছে ২০০৪ সালের ৩০ এপ্রিলের কথা? এরশাদ সরকারের পতনের পর বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে এটি একটি বড় রকমের আতঙ্কের দিন ছিল।
এ দিনটিকে সরকার পতনের দিন হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছিলেন আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ স¤পাদক আবদুল জলিল। একটি সরকারকে বলে-কয়ে দিন-তারিখ দিয়ে ফেলে দেওয়া অকল্পনীয়। কিন্তু আওয়ামী লীগ সাধারণ স¤পাদক সেই অকল্পনীয় কাজটি করেছিলেন। যা এখন নতুন করে শুরু করছেন বিএনপি নেতারা।
২০০৪ সালের এপ্রিলের শুরুর দিন এক সংবাদ সম্মেলনে আবদুল জলিল ঘোষণা করেন, ৩০ এপ্রিলের মধ্যে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের পতন ঘটবে। আবদুল জলিল বলেছিলেন, এমন ট্রা¤পকার্ড তাঁর কাছে আছে, যার প্রয়োগে সরকারের পতন হবেই।
জলিলের কাছে কী ট্রা¤পকার্ড আছে, এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলাপ-আলোচনা চলতে থাকে। কিন্তু আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরাই সেদিন দলের সাধারণ স¤পাদকের দিন-ক্ষণ দিয়ে সরকার ফেলে দেওয়ার এ ঘোষণা পছন্দ করেননি। আওয়ামী লীগ সাধারণ স¤পাদকের ট্রা¤পকার্ড তত্ত্বের পর বিএনপি-জামায়াত সরকার পতনের লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করে। ২০০৪-এর ৭ ও ৮ এপ্রিল দুই দিনের হরতাল ডাকে। ১৫ এপ্রিল জেলায় জেলায় ‘গণঅনাস্থা মানবপ্রাচীর’ কর্মসূচি পালন করে। ২১ এপ্রিল পালন করে ‘হাওয়া ভবন’ ঘেরাও কর্মসূচি। ২৫ এপ্রিল সংসদ ভেঙে দেওয়ার জন্য ¯িপকারের কাছে স্মারকলিপি দেন বিরোধী দলের সদস্যরা। ওই দিনই আওয়ামী লীগ অনাস্থা কর্মসূচি পালন শুরু করে।
৩০ এপ্রিলের দুই দিন আগে ২৮ এপ্রিল থেকে আওয়ামী লীগ দুই দিনের হরতাল পালন করে। কিন্তু ৩০ এপ্রিল বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার বহাল থাকে। সেদিন ঢাকায় বা দেশের কোথাও বড় কোনও রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা যায়নি। জীবনযাত্রা ছিল স্বাভাবিক। বিকালে বিএনপির পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করে আওয়ামী লীগকে জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে বলা হয়। এবার বিএনপি ব্যর্থ হলে হয়তো আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে পাল্টা এরকম জবাব দেওয়াই স্বাভাবিক।
৩০ এপিল ঢাকাসহ সারা দেশে অস্বাভাবিক গাছের পাতাও নড়েনি। তিনি কীভাবে সরকার ফেলে দেবেন বলে জ্যোতিষীর মতো ভবিষ্যদ্বাণী করলেন? এটা রাজনীতিতে এক বিস্ময়। কীভাবে আব্দুল জলিল ৩০ এপ্রিলের আলটিমেটাম দিয়েছিলেন? ট্রা¤পকার্ডই বা কী? একথা গণমাধ্যমকর্মীরা তার কাছ থেকে অনেকবার জানার চেষ্টা করেছেন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রায়ই তিনি দাবি করতেন, ৩০ এপ্রিল ছিল মিডিয়ার সৃষ্টি। তবে বিক্ষিপ্তভাবে তিনি এ নিয়ে কিছু ইঙ্গিতপূর্ণ কথা বলেছেন। আওয়ামী লীগের অন্য নেতাসহ সবার তথ্য জোড়া দিলে ব্যাপারটা এ রকম দাঁড়ায় – এর নেপথ্যে ছিল এনজিও সংস্থা প্রশিকা।
ট্রা¤পকার্ডের দুটি অংশ ছিল। প্রথমত, সারা দেশ থেকে প্রশিকার লাখ লাখ কর্মী ঢাকায় এসে অবস্থান নিয়ে বসে পড়বেন। সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত অবস্থান চলবে। দ্বিতীয় অংশ ছিল, সংসদে অনাস্থা প্রস্তাব। বিএনপির সিংহভাগ সংসদ সদস্য বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনবেন। এজন্য তাঁদের সঙ্গে কথাও হয়েছিল। যেসব সংসদ সদস্য অনাস্থা প্রস্তাব আনবেন বলে প্রাথমিকভাবে সায় দিয়েছিলেন তাঁদের একজন ছিলেন প্রয়াত আবু হেনা।
যাইহোক, প্রশিকার চাকরিজীবীরা শেষ পর্যন্ত রাজপথ দখল করতে পারেননি। ৩০ এপ্রিল তাদের টিকিটিও পাওয়া যায়নি। আর বিএনপির সংসদ সদস্যরাও বেগম জিয়ার সামনে বিদ্রোহের বীরত্ব দেখাতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত আবদুল জলিলের ট্রা¤পকার্ড এক রাজনৈতিক কৌতুকে পরিণত হয়। অথচ এটি যদি সফল হতো তাহলে হয়তো আবদুল জলিলের রাজনৈতিক পরিণতি অন্যরকম হতে পারতো।
বর্তমানে কোন রাজনৈতিক হিসাবে বিএনপি সরকারের পতনের স্বপ্ন দেখছে। বা ১০ ডিসেম্বর আসলে দেশে কী হতে পারে? এ নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক ভাবনা ইতোমধ্যে তৈরি হয়েছে। অনেকের ধারণা দেশে কি আবারও রাজনৈতিক হানাহানি, ধ্বংসযজ্ঞ, হত্যা, অশান্তি আসন্ন। আবারও কি তাহলে হরতাল অবরোধের দিকে যাচ্ছে দেশ। নাকি ১০ তারিখ বিএনপির ডাকা মহাসমাবেশে খালেদা জিয়াকে হাজির করার নামে গুলশানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সেই ধাক্কাধাক্কির চিত্র দেখা যাবে।
সংঘাত আর সংঘর্ষের পর সরকার পতনে বিএনপি কঠোর কর্মসূচির দিকে যাবে। বিএনপির কি মনে আছে খালেদা জিয়াকে কোন কোন শর্তে মুক্তি দেওয়া হয়েছে? যেসব শর্তে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী মুক্তি পেয়ে জেল থেকে বাসায় রয়েছেন– সেসব শর্তের অন্যতম হলো তিনি কোনও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারবেন না বা রাজনীতিতে সক্রিয় হতে পারবেন না। অপরটি হলো তিনি বিদেশ যেতে পারবেন না। তাই আইনগত বাধ্যবাধকতার কারণে ইচ্ছা করলেও বিএনপি খালেদা জিয়াকে ১০ ডিসেম্বর বাসা থেকে বের করতে পারবে না।
আরেকটি বাস্তবতা হলো গেলো ১৪ বছর দেশ পরিচালনায় আওয়ামী লীগের কি কোনও ব্যর্থতা নেই? অবশ্যই আছে। কিন্তু এই সময়ে দেশে যে কয়টি হরতাল হয়েছে এর একটিও কি সফল হয়েছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিসহ নাগরিক নানা সংকটের প্রতিবাদে সম্প্রতি বাম জোটের হরতালে দেশে এক সেকেন্ডের জন্যও কোনও প্রভাব পড়েনি। তাছাড়া বিএনপি কি তাদের রাজনৈতিক শক্তি স¤পর্কে অবগত নয়। এরকম হাস্যকর কথা বলা মানেই হলো নিজেদের অবস্থান আরও খাটো করা। দলটির ১৪ বছরের হুঙ্কার তো সবই বানের পানিতে ভেসে যাওয়ার বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে।
’৯০ দশকের শেষ দিকেও দেখেছি সপ্তাহব্যাপী মাইকিং করে হরতালসহ নানা কর্মসূচি পালন করেছে রাজনৈতিক দলগুলো। আওয়ামী লীগের ’৯৬ সালের অসহযোগ আন্দোলনের কথা মনে আছে। ধারাবাহিক এই আন্দোলনের কারণে মানুষের কী অবর্ণনীয় কষ্ট হয়েছিল তা ভুলে যাবার নয়। এরশাদ সরকারের পতন হয়েছে শক্তিশালী রাজনৈতিক দলগুলোর যুগপৎ দীর্ঘ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। এই সময়ে কঠোর রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের কোনও সুযোগ নেই। যখন করোনা ও ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধে গোটা পৃথিবীর অর্থনীতি টালমাটাল। আগামী বছর দুনিয়াজুড়ে খাদ্যসহ মহামন্দারও আশঙ্কা করা হচ্ছে। যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও। জীবন চালানোর যুদ্ধে যখন সবাই অবতীর্ণ তখন হুঙ্কার বা আল্টিমেটামের ধারাবাহিক কঠোর আন্দোলন জমানো অনেক কঠিন।
তাছাড়া বিএনপির ১০ ডিসেম্বরের আল্টিমেটামের সঙ্গে কোনও এনজিও সংস্থা বা গার্মেন্টস সেক্টরের কেউ আছে বলে মনে হয় না। আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্যরা তাদের সংসদ নেতার বিরুদ্ধে অনাস্থা আনবেন এটাও আকাশ-কুসুম কল্পনা। বিএনপিকে ক্ষমতায় বসিয়ে দেওয়া বা জনবল দিয়ে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সহায়তা করা বিদেশি কূটনীতিকদের কাজ নয়। সব মিলিয়ে নিছক রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়ানোর প্রয়োজনেই হয়তো বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমানউল্লাহ আমান ১০ ডিসেম্বরের টা¤পকার্ড ছেড়েছেন।
গত ৮ অক্টোবর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, আগামী ১০ ডিসেম্বরের পরে বাংলাদেশ চলবে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের কথায়। এর বাইরে দেশ চলবে না কারও কথায়। এরপর থেকেই বিষয়টি রাজনীতিতে মূল আলোচনায় স্থান পায়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ স¤পাদক হাছান মাহমুদও পাল্টা কড়া বার্তা দিয়ে বলেছেন, আমানউল্লাহ আমান স্বপ্নে দেখেছেন যে ১০ ডিসেম্বরের পর দেশ চলবে খালেদা জিয়ার কথায়। আমানের জানা উচিত, খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিত রয়েছে শেখ হাসিনার বদান্যতায়। সেটা তারা ভুলে গেলে সরকার আবারও ভাববে, খালেদা জিয়াকে আবার কারাগারে পাঠানো উচিত কিনা।
হয়তো আমানের আল্টিমেটামও আব্দুল জলিলের আল্টিমেটামে রূপ নেবে। মাঝখানে তার রাজনৈতিক ভিলেন হিসেবে মানুষের কাছে জায়গা হবে। সবচেয়ে বড় কথা হলো কঠোর আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ক্ষমতা দখলের রাজনৈতিক বাস্তবতা এখন আশা করে লাভ নেই। সর্বোপরি সবারই জীবনের মায়া আছে। এসব বিবেচনায় নির্বাচনেই হলো ক্ষমতা পরিবর্তনের একমাত্র পথ। তাই শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দাবি আদায় ও নির্বাচনে অংশ নেওয়াই হয়তো উত্তম গণতান্ত্রিক পথ। তাহলে বাংলাদেশ নতুন করে সংকটের মুখে পড়বে না।
লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট

 

 

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com