1. dailysunamkantha@gmail.com : admin2017 :
  2. editor@sunamkantha.com : Sunam Kantha : Sunam Kantha
বুধবার, ১০ অগাস্ট ২০২২, ১১:৩৫ পূর্বাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01711-368602

সীতাকুণ্ডের মতো মানবসৃষ্ট দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করুন

  • আপডেট সময় বুধবার, ৮ জুন, ২০২২

গত কয়েকদিন আগে (শনিবার, ৪ জুন ২০২২ খ্রি.) চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড রাখার একটি ডিপোতে বিস্ফোরণে অন্তত ৪৩ জনের মৃত্যু ঘটেছে। সংবাদে প্রকাশ, আগুন নিভাতে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসের ৮ (আট) জন সদস্যকে জীবন উৎসর্গ করতে হয়েছে। তাঁরা কেমিক্যাল প্রোটেকশন স্যুট পরিহিত ছিলেন না। দৈনিক প্রথম আলোর (৫ জুন ২০২২ খ্রি.) মতামত কলামে (কলামটির শিরোনাম ছিল, ‘মেট্রোরেল থেকে সীতাকুণ্ড, অপমৃত্যুর এ দায় কে নেবে’) লেখক মনোজ দে মন্তব্য করেছেন, ‘কত বিচিত্র ধরনের অপমৃত্যু হতে পারে, তার একটা চলমান ল্যাবরেটরি এখন বাংলাদেশ।’ তারপর অন্যান্য কী কী দুর্ঘটনায় এ দেশে মানুষের মৃত্যু হয় তার দুয়েকটি উদাহরণ তিনি দিয়েছেন। যেমন মেট্রোরেলের নির্মাণাধীন দেয়ালের ইট পথচারীর মাথায় পড়ে মৃত্যু। এইরূপ দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু নিয়ে তিনি প্রশ্নের উত্তাপ ছড়িয়ে বলেছেন, ‘মেট্রোরেল সরকারের একটি সর্বাধুনিক ও অগ্রাধিকার প্রকল্প। হাজার হাজার কোটি টাকা সেখানে বিনিয়োগ করা হয়েছে, অথচ যথাযথ নিরাপত্তাব্যবস্থা কেন নিশ্চিত করা গেল না? এ মৃত্যুকে আমরা কী বলব? উন্নয়ন অপমৃত্যু?’
এখানে, বর্তমানের এই বাংলাদেশে, কী কী দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয় তার তালিকা দেওয়া সম্ভব নয়, সেটা হবে অতি অতি দীর্ঘ। এই সম্পাদকীয়তে সে-বিষয়ে আলোচনার অবকাশও নেই। কিন্তু এইভাবে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে প্রতিনিয়ত জানমালের অপচয়কে মানবসৃষ্ট দুর্যোগ, প্রকৃতপ্রস্তাবে আপতিকতা নয়, বলে অভিহিত করছেন দেশের বিজ্ঞ বিশিষ্টজনেরা। বিভিন্ন মহলের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে সীতাকুণ্ডে সংঘটিত দুর্যোগের কারণ সম্পর্কে বলা হচ্ছে যে, ডিপোমালিকদের পক্ষ থেকে বিস্ফোরক পদার্থকে সরকারি নির্দেশমতো অন্যান্য পদার্থ থেকে আলাদা করে রাখার নিয়মটিকে উপেক্ষা করা হয়েছে, সেখানে পর্যাপ্ত অগ্নি-নির্বাপক ব্যবস্থা ছিল না। অন্যদিকে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদেরকে অগ্নিকাণ্ডের সঙ্গে রাসায়নিক পদার্থের সংশ্লিষ্টতার কথা জানানো হয় নি এবং সে-কারণে অগ্নি-নির্বাপককর্মীরা রাসায়নিক পদার্থের থেকে রক্ষা পাওয়ার নির্ধারিত পোশাক (কেমিক্যাল প্রোটেকশন স্যুট) পরিহিত ছিলেন না। অর্থাৎ একটার পর একটা ধারাবাহিক অনিয়ম ঘটেছে। এইসব অনিয়ম প্রতিরোধের জন্যে নেই রাষ্ট্রপ্রশাসনের কর্তৃপক্ষীয় কোনও পদক্ষেপ ও নজরদারি, যে-টা যে-কোনও বিবেচনায় একটা সর্বাস্তৃত ও সর্বগ্রাসী দায়িত্বহীনতার নামান্তর। একবিংশ শতাব্দীর তৃতীয় দশকে এসে উন্নয়নের জোয়ারে যেখানে দেশ ভাসছে সেখানে এমন দায়িত্বহীনতাকে মানায় না। এই দায়িত্বহীনতা প্রমাণ করে যে, পুঁজিবাদ পুঁজিপতির সমৃদ্ধির বিনিময়ে মানুষের প্রাণ কেড়ে নিতে দ্বিধা করে না। এই পুঁজিবাদকে অবশ্যই বদলে দিতে হবে।
পরিশেষে কেবল একটিই বলার কথা থাকে, প্রকৃতি নির্দিষ্ট নিয়ম ও আইনগত নিয়ম দু’টিকেই এক সঙ্গে মানতে হবে। প্রাকৃতিক যে নিয়ম অমান্য করলে প্রাণহানিকর দুর্ঘটনা ঘটে এবং এই প্রাণহানি প্রতিহতকরণে সরকারি নির্দিষ্ট যে আইন আছে, তার কোনওটিকেই কোনওভাবেই কারও পক্ষে উপেক্ষা করার কোনও অবকাশ নেই। সরকারকে এই নিয়ম পালনের বিষয়টিকে অবশ্যই কার্যত কার্যকর করতে হবে। যারা মানবে না তাদেরকে কঠোর শাস্তির সম্মুখিন করতে হবে। সীতাকুণ্ডের ঘটনার জন্যে দায়ীদের বিচারের সম্মুখিন করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে এইরূপ মানবসৃষ্ট দুর্ঘটনা ঘটতেই থাকবে এবং সমাজ-রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রক পুঁজিপতিরা আরও বেশি করে খুনি হয়ে উঠবেন।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com