1. dailysunamkantha@gmail.com : admin2017 :
  2. editor@sunamkantha.com : Sunam Kantha : Sunam Kantha
বুধবার, ১১ মে ২০২২, ০৬:২১ পূর্বাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01711-368602

লাল ফিতার দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে হবে

  • আপডেট সময় রবিবার, ২০ ফেব্রুয়ারী, ২০২২

রাষ্ট্র পরিচালনার নীতি নির্ধারণ করেন রাজনৈতিক নেতারা। আর সেই নীতি বাস্তবায়ন করেন প্রশাসনিক কর্মকর্তারা। রাজনীতিবিদদের দ্বারা এ প্রশাসনিক কর্মকর্তারা ক্ষমতাপ্রাপ্ত হন। এদের বলা হয় আমলা। ‘আমলা’ একটি আরবি শব্দ। এর অর্থ- আদেশ পালন ও বাস্তবায়ন। সেই সূত্রে বলা যায়, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সরকারের আদেশ পালন ও বাস্তবায়ন করেন। সরকারকে যদি একটি গতিশীল যান হিসেবে কল্পনা করা হয়, তাহলে প্রশাসনকে এর ইঞ্জিন বলা যায়। আমলাতন্ত্র ছাড়া প্রশাসন চালানো সম্ভব নয়, এটা মানতে হবে।
দেশ পরিচালনা করার জন্য সংসদ ও সরকার সাংবিধানিকভাবে যেসব আইন প্রণয়ন এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে তার বড় একটি অংশ বাস্তবায়ন করার দায়িত্ব পড়ে এই আমলাদের ওপর। তবে সে আমলাদের নিয়ন্ত্রণ রাজনীতিবিদদের হাতে রাখতে হয়। এটাই নিয়ম। যেমন ইঞ্জিন গাড়িকে টেনে নিয়ে গেলেও এর নিয়ন্ত্রণ থাকে চালকের হাতে।
সম্প্রতি প্রশাসন ও সরকারে সেই আমলাদের অতি কর্তৃত্ববাদী ভূমিকা রাজনীতিবিদদের ক্ষুব্ধ করে তুলেছে। এ নিয়ে সিনিয়র রাজনীতিবিদ এমনকি সংসদ সদস্যরা উষ্মা প্রকাশ করেছেন। বেশকিছুদিন আগে সংসদে তোফায়েল আহমেদ, কাজী ফিরোজ রশীদ বলেছিলেন- আমাদের দেশে রাজনীতিবিদরা এখন ক্রমেই গৌণ হয়ে উঠছেন। যেহেতু জনপ্রতিনিধিদের কাজগুলো করানো হচ্ছে আমলাদের দিয়ে সেহেতু রাজনীতির নিয়ন্ত্রণও এখন আমলাদের কাছে চলে যাচ্ছে বলে মনে করছেন অনেকে। ভালো হোক, মন্দ হোক রাজনীতিবিদরা জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য। অন্যদিকে, আমলারা যেহেতু জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য নন ফলে সাধারণ মানুষ কোন কিছু জানতে জানতে পারছে না তারা কী করছেন, কী করছেন না।
এদিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আকবর আলী খান বলেছেন, আমলাতন্ত্রের ক্ষমতা হ্রাস করতে হবে। বর্তমানে সরকার এবং আমলা এক হয়ে গেছে। শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘বর্তমান জাতীয় সংকট এবং সমাধানে নাগরিক ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা বলেন তিনি। আকবর আলী খান বলেন, আমাদের সাংবিধানিকভাবে নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে এবং আমলাতন্ত্রকে সরকারের রাহুগ্রাস থেকে মুক্ত করতে হবে। এটা করতে পারলে সরকার এবং আমলাতন্ত্র উভয়েই লাভবান হবে। তবে এ ধরনের সমস্যা রাতারাতি সমাধান করা সম্ভব নয়।
গতকাল শনিবার রংপুর-দিনাজপুর ত্রাণ ও পুনর্বাসন সংস্থার (আরডিআরএস) বেগম রোকেয়া মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সংলাপে খোদ বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশী অনেকটা অসহায়ত্ব প্রকাশ করে বলেছেন, দেশে লালফিতার দৌরাত্ম্য বড় বেশি। আমি নিজেও কিছুটা কাবু হয়ে গেছি। কারণ সারাটা জীবন কাজ করে বেড়িয়েছি। সরকারের এই চেয়ারে (মন্ত্রিত্ব) বসে মনে হয়, এটা কবে বদলাবে? তবে চেষ্টা করা হচ্ছে, আমরা চেষ্টা করছি।
লাল ফিতার দৌরাত্ম্য সম্পর্কে সবাই অবশ্যই জেনে থাকবেন। তবু উল্লেখ করতে হচ্ছে। আক্ষরিক অর্থে প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড ধারাবাহিক ফাইল পরিচালনার মাধ্যমে পরিচালিত হয়। সেই ফাইলগুলো বাঁধা হয় লাল ফিতা দিয়ে। এখন তথ্যপ্রযুক্তির যুগে সেই লাল ফিতার ফাইল হয়তো উধাও কিন্তু প্রজাতন্ত্র থেকে কি লাল ফিতার দৌরাত্ম্য বিন্দুমাত্র হ্রাস পেয়েছে? লাল ফিতার দৌরাত্ম্য বলতে মূলত অফিসিয়াল কার্যক্রমের দীর্ঘসূত্রতা, নিয়মকানুনের কড়াকড়ি এবং অহেতুক বিলম্বকে বোঝায়।
দীর্ঘ সময় ধরে লাল ফিতার দৌরাত্ম্য চলছে। আমরা চাইলে রাতারাতি এই অনুশীলন মুছে ফেলতে পারব না। এক্ষেত্রে সরকারকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। যে করেই হোক লাল ফিতার দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে হবে।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com