1. dailysunamkantha@gmail.com : admin2017 :
  2. editor@sunamkantha.com : Sunam Kantha : Sunam Kantha
রবিবার, ২৬ জুন ২০২২, ০২:৩৮ অপরাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01711-368602

হাওরে উড়াল সড়ক : চলতি বছরই শুরু হবে নির্মাণকাজ

  • আপডেট সময় শুক্রবার, ৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২২

স্টাফ রিপোর্টার ::
চলতি বছরই হাওরে উড়াল সড়ক নির্মাণকাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান এমপি। বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হাওর এলাকায় উড়াল সড়ক ও ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প-এর আওতায় গৃহীত স্কিম সংক্রান্ত মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা জানান।
পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান বলেন, হাওরে উড়াল সড়ক একটি আইকনিক প্রকল্প। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের অবকাঠোমোগত উন্নয়নের ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। বাংলাদেশ জলাভূমির দেশ, হাজার নদীর অববাহিকার দেশ, হাজার বিল-বাওরের দেশ, লক্ষ সাঁকোর দেশ। এখানে সড়ক নির্মাণ কঠিন, বানানো এবং সুরক্ষা করা কঠিন। প্রধানমন্ত্রী বার বার বলেছেন এটি আইকনিক প্রকল্প হবে। জলাভূমি এলাকায় টেকসই উন্নয়নে এটি হবে মডেল। শেখ হাসিনা একজন উন্নয়ন চিন্তক। প্রকল্পের শুরুতেই আমার সড়ক স্থাপন নিয়ে চিন্তিত ছিলাম। তিনি আমায় ডেকে বললেন এসব রেখে উড়াল সড়ক করেন। জলাভূমির উপর দিয়ে উড়াল সড়কের মাধ্যমে টেকসই যোগাযোগ সম্ভব। অর্থনৈতিকভাবেও লাভবান হবে। এমন ধারণা অন্যদের জন্য উদাহরণ।
মন্ত্রী এমএ মান্নান বলেন, আজ থেকে বিশ বছর পর হয়তো আমি থাকবো না। তখন নতুন প্রজন্ম দেখবে সাই সাই করে ঢেউয়ের মতো হাওরের উপর দিয়ে গাড়ি যাবে। তারা দাঁড়িয়ে বাতাস খাবে, হাওরের ঢেউ দেখবে। পর্যটন খাতে অভূতপূর্ব উন্নয়ন হবে। পার্কিং, স্যানিটেশন, নিরাপত্তাসহ সকল ধরনের ব্যবস্থা করা হবে। মানুষ ব্যবসা করবে। এভাবেই পর্যটন ও অর্থনৈতিক দিক দিয়ে এগিয়ে যাবে হাওরের জনপদ সুনামগঞ্জ।
স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে ৩ হাজার ৪৯০ কোটি টাকা ব্যয়ে উড়াল সেতু প্রকল্পের অগ্রগতি ও প্রাক্কলনসহ যাবতীয় বিষয় তুলে ধরেন প্রকল্প পরিচালক গোলাম মৌলা। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এবং চলতি বছরের শুরু দিকে মেগা প্রকল্পটি আরম্ভ করে ২০২৬ সালের সমাপ্তি করার কথা জানানো হয়।
প্রকল্প পরিচালক গোলাম মৌলা জানান, হাওর অধ্যুষিত সুনামগঞ্জের সঙ্গে নেত্রকোনা জেলার আধুনিক যোগাযোগ স্থাপন, দুই জেলার পাঁচটি উপজেলার অভ্যন্তরীণ সড়ক যোগাযোগের উন্নয়ন, হাওর এলাকার ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন, কৃষিপণ্য ও মৎস্য স¤পদের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং দ্রততম সময় ও সহজে পরিবহন সুবিধা নিশ্চিত, হাওরকেন্দ্রিক পর্যটনের প্রসার এবং মানুষের জীবনমানের উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। গত বছরের ২৪ নভেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) ‘হাওর এলাকায় উড়ালসড়ক ও ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প; অনুমোদিত হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ প্রকল্প বাস্তবায়নে সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) এবং সেতু বিভাগকে সমন্বয় করতে একনেক সভায় নির্দেশনা দিয়েছেন। চলতি বছরে প্রকল্পের প্রাথমিক কাজ শুরু হবে। সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ, তাহিরপুর, ধর্মপাশা ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা এবং নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলাজুড়ে এ প্রকল্পের কাজ হবে। উড়ালসড়ক শুরু হবে জামালগঞ্জের সাচনা এলাকা থেকে। এরপর উপজেলার কাজীরগাঁও হয়ে ধর্মপাশা উপজেলার জয়শ্রী, ধর্মপাশা বাজার, ধর্মপাশার আলোকদিয়া হয়ে বারহাট্টা উপজেলার গোপালপুরে সড়কে গিয়ে যুক্ত হবে। এটিই প্রকল্পের মূল সড়ক, যার দৈর্ঘ্য হবে ২৮ কিলোমিটার। এ ২৮ কিলোমিটারের মধ্যে উড়ালসড়ক হবে ১০ দশমিক ৮১ কিলোমিটার। এ সড়কের বাকিটুকু হবে সব মৌসুমে যাতায়াতের সড়ক। উড়ালসড়ক যাবে গ্রামের পাশ দিয়ে। সড়কের প্রস্থ হবে ৩০ মিটার, তবে এটা আরও বাড়তে পারে। দৃষ্টিনন্দন সড়কের বিভিন্ন স্থানে পর্যটকদের জন্য সাতটি দোতলা টাওয়ার নির্মাণ করা হবে। একই সঙ্গে এক কিলোমিটার পরপর সড়কের পাশেই পর্যটকদের ঘুরে বেড়ানো এবং যানবাহন রাখার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা (বাস-বে) থাকবে। যেখানে সম্ভব সড়কের দুই পাশে হিজল ও করচগাছ লাগানো হবে। হাওরে প্রাণ-প্রকৃতির বিষয়টি মাথায় রেখে উন্নত বিশ্বের আদলে থাকবে শব্দ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা। মূল সড়ক ছাড়া এ প্রকল্পের আওতায় সব মৌসুমে যাতায়াতের সুবিধাসহ উপজেলা পর্যায়ে সড়ক হবে ৯৭ দশমিক ৮৬ কিলোমিটার, ইউনিয়ন পর্যায়ে সড়ক হবে ২০ দশমিক ২৭ কিলোমিটার, উপজেলায় সড়ক (ডুবন্ত) ১৬ দশমিক ৫৩ কিলোমিটার, ইউনিয়ন ও গ্রামপর্যায়ে সড়ক (ডুবন্ত) হবে ২২ দশমিক ৮৬ কিলোমিটার। ডুবন্ত বা সাবমার্সিবল সড়কে মানুষ ও যানবাহন চলাচল করবে শুকনো মৌসুমে। বর্ষায় এসব সড়ক থাকবে পানির নিচে। এ ছাড়া ৫৭টি সেতু ও ১১৮টি কালভার্ট নির্মিত হবে, যার মোট দৈর্ঘ্য ৫ দশমিক ৬৮৮ কিলোমিটার। এ প্রকল্পের মাধ্যমে সুরমা নদীর জামালগঞ্জ-সাচনাবাজার এলাকায় একটি সেতু নির্মিত হবে। এ উড়ালসড়ক হলে সুনামগঞ্জের মানুষ নেত্রকোনা হয়ে সাড়ে চার ঘণ্টায় ঢাকায় যেতে পারবেন।
জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান এমপি আরও বলেন, হাওর এলাকার মানুষের প্রতি শেখ হাসিনার বিশেষ দরদ ও মমতা আছে বলেই সুনামগঞ্জে এত বড় একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাই এই সড়কের নাম ‘শেখ হাসিনা উড়াল সড়ক’ করার চিন্তা রয়েছে। সুনামগঞ্জে জাতির জনকের কন্যার নামে এখন পর্যন্ত কোনো কিছু হয়নি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আমাদের কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। হাওর এলাকার মানুষ এত বড় প্রকল্প পেয়ে খুবই খুশি। তাঁদের উৎসাহ, উদ্দীপনা থেকেই স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ আমরা এ নামকরণের অনানুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছি। যদিও প্রধানমন্ত্রী এটা চান না। কিন্তু হাওর এলাকার মানুষের পক্ষ থেকে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানাতেই আমরা এ নামকরণ করতে চাই।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com